সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
মেয়াদোত্তীর্ণ শ্যাম্পুর বোতলে পানি ঢেলে পান করায় দুই শিশুর মৃত্যু বাংলাদেশ-জাপানের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর বিগ ব্যাশে দল পেলেন মুস্তাফিজ ৯৯৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করলেন অভিনেতা সুজাত শিমুল মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কঠোর অবস্থানে সরকার সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ : আইজিপি ঝটিকা মিছিল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার সবজি আনতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্টে নারীর মৃত্যু, মেয়ে আহত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সাক্ষাৎ সরকারের সমালোচনা করার অভিযোগে নারী উদ্যোক্তা আটক
advertisement
জাতীয়

সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ : আইজিপি

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার অনুমতি দিলে পুলিশ প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন ফকির।  

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর চকবাজারের শাহজাহান ইমাম টাওয়ারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, পুলিশ কঠোর হলে বলা হয় ‘ফ্যাসিস্ট পুলিশ’, আবার নীরব থাকলে বলা হয় ‘দুর্বল পুলিশ’। কাজেই আমাদের কাজ করার পরিবেশ দিতে হবে। সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে হলে পুলিশের কোনো বিকল্প নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার যদি অনুমতি দেয় এবং প্রয়োজন হয়, তবে পুলিশ ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না।

আইজিপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে, জনগণকে প্রকৃত স্বস্তি-শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দিতে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ইস্যুতে তিনি বলেন, কে আসবে, কী হবে— সেটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেখার বিষয় না। আমাদের দায়িত্ব আইন-সংবিধান অনুযায়ী যখন যেখানে, যা প্রয়োগ করা দরকার, সেটিই আমরা করব। ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ (অনুমোদন) করে, আমরা সেটাই করব।

আইজিপি বলেন, বর্তমানে পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার এবং মাদক কারবারের সঙ্গে পতিত আওয়ামী লীগের পাশাপাশি পুলিশের কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে গত দুই মাসে মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২৭ পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আগে নিজের ঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। তবে কথায় কথায় পুলিশের ওপর দায় চাপানো ঠিক নয়। অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, শান্তি-সমৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন— সবকিছু সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব।

আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আলী হোসেন ফকির বলেন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করার ক্ষেত্রে বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া উচিত। রাজধানীর ভাটারায় এক অতিরিক্ত আইজিপির বাড়িতে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান নিয়ে দেশের ১০১ বিশিষ্ট নাগরিকের দেওয়া বিবৃতিরও সমালোচনা করেন তিনি।

আলী হোসেন ফকির বলেন, ইসলামে সুদ ও ঘুষ সম্পূর্ণ হারাম। প্রকৃত ইসলামিক ব্যাংকিং হতে হবে সম্পূর্ণ সুদুমুক্ত, যেখানে থাকবে অংশীদারিত্ব (পার্টনারশিপ), নৈতিকতা ও ফেয়ার বিজনেস বা স্বচ্ছ জবাবদিহিতা।

অতীতে ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন অনিয়ম, ব্যাংক দখল ও উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভিশন ও মনিটরিং ঠিক না থাকলে যতই আইন থাকুক না কেন, তা কার্যকর হবে না। গ্রাহক ও বাস্তবায়নকারী উভয় পক্ষকেই নৈতিকতার জায়গায় থাকতে হবে।’  

বর্তমান ম্যানেজমেন্টের অধীনে গ্রাহকদের সম্পূর্ণ আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে আলী হোসেন ফকির বলেন, অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো অনিয়ম বা বিপর্যয় এখন আর ঘটার সুযোগ নেই। পাশাপাশি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে। 

পুলিশ সদস্যদের কেউ অপরাধ করলে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আমাদেরও চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স রয়েছে। কিন্তু কথায় কথায় পুলিশের ওপর চড়াও হওয়া বা পুলিশকে অকার্যকর করার চেষ্টা করা হলে সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’

আইজিপি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার যদি অনুমতি দেয় এবং প্রয়োজন হয়, তবে আমরা ক্রসফায়ারও করবো। পুলিশকে এমপাওয়ার না করলে এবং আইন প্রয়োগের সুযোগ না দিলে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। গুজব ও মিথ্যা প্রচারণায় কান না দিয়ে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’  

‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালকরা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

▐ সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ