বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
বিষাক্ত মাকড়সার কামড়ে হাসপাতালে ভর্তি অভিনেতা রাজেশ শর্মা ২০২৬ ফিফা ফুটবল - যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘জালিয়াতি ও দাদাগিরির’ বিস্ফোরক অভিযোগ ইরানের প্রেসিডেন্টের সূচকের মিশ্রাবস্থায় লেনদেন শেষ রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী নরসিংদীতে ভারী বর্ষণে ঘরের দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু ময়মনসিংহে সাড়ে আট ঘণ্টায় ১৭৪ মিমি বৃষ্টি, জলমগ্ন নগরী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু ১৪ জুলাই গ্রামীন ফোনের বোর্ড সভা দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল মামলার শুনানি শেষ, রায় বৃহস্পতিবার
advertisement
জাতীয়

রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ, টেকসই ও দ্রুততম সমাধানে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সংসদ সদস্য সেলিম রেজা তাঁর প্রশ্নে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা এবং এই সংকটের স্থায়ী সমাধান কবে নাগাদ হতে পারে তা জানতে চান।

প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে গঠিত আমাদের সরকার এই মানবিক সংকটের দ্রুত সমাধানে কাজ করছে। অতীতেও বিএনপি সরকার অত্যন্ত সফলভাবে এই সংকট মোকাবিলা করেছে।"

বিগত দিনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, "ইতোপূর্বে ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার সফল কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান করেছিলেন। তাঁদের যোগ্য দিকনির্দেশনায় সে সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা দ্রুততম সময়ে সসম্মানে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করতে পেরেছিল।"

প্রধানমন্ত্রী যোগ করেন, বর্তমান সরকারও পূর্বের সেই সফল নীতির আলোকেই টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছে। এ লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক—সব ফ্রন্টেই জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে সরকার সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ইউএনএইচসিআর (UNHCR), ইউএন উইমেন (UN Women) এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন।

তাছাড়া, চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর এবং গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিশ্বজনমত ও বৈশ্বিক মানবিক সহায়তা আরও বৃদ্ধি পাবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, "রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত। রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ অব্যাহত রাখতে আমাদের কূটনীতি গতিশীল করা হয়েছে।"

তিনি আরও জানান, আলোচনার পরিধি: মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পাশাপাশি রাখাইনের সব পক্ষের সাথে সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।

সংলাপের গুরুত্ব: রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীলতার জন্য মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে একটি কার্যকর সংলাপ জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে কথা বলছে বাংলাদেশ।

ভেরিফিকেশন ও পুনর্বাসন: প্রত্যাবাসনের মূল ভিত্তি হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাইকরণ (ভেরিফিকেশন) চলছে এবং তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসনের কার্যক্রমও গতিশীল আছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের সুচিন্তিত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের ‘জাতীয় কমিটি’ ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা ও স্থানীয় জনগণের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স’ সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করছে।

বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে এই বিশাল বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে সসম্মানে স্বদেশে ফেরত পাঠাতে বর্তমান সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ