কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি মক্তবের ওপর পাহাড়ধসে ৮ শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলে এবং অপর চারজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাব-ব্লক এ-৩ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা ৮ শিশু শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের একটি মক্তবের ওপর আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় মক্তবটিতে ৩০ জনের বেশি শিশু শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করছিল।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ফায়ার সার্ভিস এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আহত ও আটকে পড়াদের উদ্ধারের কাজ চলছে। এ কারণে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
রোহিঙ্গা মাঝি ইলিয়াস মিয়া জানান, বুধবার সকাল থেকেই টানা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর একটি সাব-ব্লকে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় একটি মাদ্রাসার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আটকা পড়েছিল। স্থানীয় রোহিঙ্গারা তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, পাহাড় ধসে আটকা পড়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উদ্ধারকাজ চলমান রয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ক্যাম্প-৫ এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনায় মোট ১৩ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলে এবং অপর চারজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
অবশিষ্ট পাঁচজন শিশুকে ক্যাম্প-৩-এর জিকে হাসপাতাল, ক্যাম্প-৫ এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল এবং ক্যাম্প-৬ এর আইআরসি হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে এবং সিসিসিএম স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় পরিচালিত উদ্ধার অভিযান ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ঘটনাস্থলে এপিবিএন সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন এবং পুরো উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেছেন আরআরআরসি কর্মকর্তারা।’
এদিকে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢল এবং বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ৯টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।