মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি’র (এমটিবি) দায়ের করা প্রায় ৬৮ কোটি টাকার ঋণখেলাপির মামলায় প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের (পিবিটিএল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), ভারপ্রাপ্ত প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) এবং তিন পরিচালকসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
আদালত ও মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড (পিবিটিএল) প্রধান ঋণগ্রহীতা ও করপোরেট গ্যারান্টার হিসেবে এমটিবি থেকে বিভিন্ন ঋণসুবিধা গ্রহণ করেছিল। নির্ধারিত সময়ে ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকটি ২০১৮ সালের ৫ জুলাই অর্থ ঋণ আদালতে একটি মামলা (নম্বর: ৫২১/২০১৮) দায়ের করে। ওই মামলায় ব্যাংকের পাওনা দাবি করা হয় ৬৮ কোটি ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ৪৪৮ টাকা ২৩ পয়সা।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের (২০২৬ সাল) গত ১৩ মে আদালত ব্যাংকের পক্ষে রায় ও ডিক্রি প্রদান করেন। পরবর্তীতে রায়ের ডিক্রি বাস্তবায়ন ও পাওনা অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে গত ২৭ জুলাই ব্যাংকটি ৮১০/২০২৬ নম্বরে একটি অর্থ ঋণ জারি মামলা দায়ের করে।
জারি কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে আদালতের রায় ও ডিক্রির দায় এড়াতে না পেরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে এই পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে:
১. মেহবুব চৌধুরী (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সিইও)
২. মো. ফরিকুল হাসান (ভারপ্রাপ্ত প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, সিএফও)
৩. নাসরিন খান (পরিচালক)
৪. মো. মোর্শেদ খান (পরিচালক)
৫. আসগর করিম (পরিচালক)
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালতের এই রায়ের ডিক্রি বাস্তবায়ন এবং ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে ঋণের বকেয়া পাওনা আদায়ের অংশ হিসেবেই এই জারি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং আদালতের কার্যক্রমে তাঁদের উপস্থিতি ও অর্থ আদায়ের অগ্রগতি পুরো বিষয়টিই আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে।