ময়মনসিংহের নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সি ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা শিশুটির ভ্রণের ডিএনএ টেস্টের তথ্য সঠিক নয় এটি গুজব বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে ময়মনসিংহে র্যাব-১৪ এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান র্যাব-১৪ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) নায়মুল হাসান।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট এবং ওই ছাত্রী ও তার নানাকে ঘিরে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, আসামি গ্রেফতারের আগে ডিএনএ পরীক্ষা করার সুযোগ নেই। আসামি যখন গ্রেফতারই হয়নি তখন ডিএনএ টেস্ট হবে কিভাবে! তদন্তের প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করতে হলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ডিএনএ টেস্ট হয়নি। প্রয়োজন হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা অবশ্যই সেটা করবেন। তদন্তের স্বার্থে যা যা করা দরকার সেটা করবেন।
এদিকে শিশুটির ভ্রুণের ডিএনএ টেস্ট করা হয়েছে—এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিনোদন জগতের অনেকেই নিজের ফেসবুক আইডি থেকে এমন তথ্য পোস্ট করেন।
র্যাব জানায়, মঙ্গলবার রাতে র্যাবের একটি দল ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সোনমপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভোর ৪টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে (৩০)গ্রেফতার করে।
র্যাব-১৪ সংবাদ সম্মেলনে জানায়, গ্রেফতার এড়াতে সাগর তার সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোন রাখতেন না, ফলে তার অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে র্যাব-১৪ ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া আমান উল্লাহ সাগর নেত্রকোনার মদন উপজেলার হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক। তিনি কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।
আমান উল্লাহ নেত্রকোনার মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ওই মাদ্রাসায় পড়ত ধর্ষণের শিকার ওই শিশুটি। ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর আমান উল্লাহ তাকে ধর্ষণ করে।
এঘটনার পর শিশুটির শারীরিক পরিবর্তণ দেখা দিলে গত ১৮ এপ্রিল নেত্রকোনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।পরে গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমান উল্লাহ সাগর ও তার ভাইকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
এর আগে মাদ্রাসার ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মদন উপজেলা সদরের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।