বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
কোরবানির পশু উৎপাদনে রেকর্ড ঝিনাইদহ উদ্বৃত্ত আছে ৫৬ হাজার গবাদিপশু অন্তঃসত্ত্বা শিশুটির ভ্রুণের ডিএনএ টেস্টের তথ্য নিয়ে যা জানাল র‌্যাব, অভযুক্ত গ্রেফতার নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীর মৃত্যু পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে বিজিবিকে নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সূচকের পতনে লেনদেন শেষ দেশের সর্ববৃহৎ আইকনিক অফিস ভবন নির্মাণে  ৩ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওয়ালটনের চুক্তি প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের ক্রেডিট রেটিং সম্পন্ন হাওরের আকস্মিক বন্যায় স্বল্পমেয়াদি বোরো ধান হবে ‘নিয়ামক’, বাকৃবি'র গবেষণা সাতক্ষীরায় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম পাড়া শুরু: - লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ের অষ্টম স্থানে বাংলাদেশ
অর্থ-বাণিজ্য

হাওরের আকস্মিক বন্যায় স্বল্পমেয়াদি বোরো ধান হবে ‘নিয়ামক’, বাকৃবি'র গবেষণা

ভূপ্রকৃতিক কারণেই সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় নিচু হওয়ায় দেশের হাওরাঞ্চল আকস্মিক বন্যায় পুরো এলাকা পানিতে ডুবে যায়। এতে বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয় পুরো হাওর। আবার হাওরের প্রধান ফসল বোরো ধান হলেও আগাম বন্যা, শিলাবৃষ্টি, খরা এবং ঠান্ডাজনিত চাপ উৎপাদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এর মধ্যে আগাম এবং আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকেরা।

এ সমস্যা উত্তরণে হাওরাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বোরো ধান চাষই হবে একমাত্র নিয়ামক, যা বন্যার পূর্বেই ফসল ঘরে তোলা যাবে। এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষক অধ্যাপক ড. মো হাবিবুর রহমান প্রামানিক। ২০২০ সাল থেকে হাওরে স্বল্পমেয়াদী বোরোধান চাষের গবেষণা শুরু করেন তিনি। তার সাথে সহযোগী গবেষক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান শেলী।

গবেষক অধ্যাপক ড. মো হাবিবুর রহমান প্রামানিক বলেন, ‘দেশের মোট ধান উৎপাদনের ৬০ শতাংশ উৎপন্ন হয় বোরো মৌসুমে। আর মোট বোরোধানের উৎপাদনের ১৮ শতাংশ হাওরাঞ্চলে উৎপন্ন হয়। তবে প্রায় প্রতিবছর আগাম বন্যায় ধানের ১০ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশই ক্ষতির মুখে পরে। কৃষকেরা ধান ঘরে তুলতে পারেন না। এ পরিস্থিতিতে বন্যা শুরুর আগেই যদি ধান ঘরে তুলতে পারি তাহলে বন্যা থেকে ধানের ফসল পরিত্রাণ পাবে। এক্ষেত্রে হাওরে প্রচলিত দীর্ঘমেয়াদি বোরোধানের পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি ধানের জাত চাষ করলে ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই ফসল তোলা সম্ভব। এতে বন্যার ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।’

তিনি জানান, ২০২০ সাল থেকে আমরা হাওরে স্বল্পমেয়াদি বোরো ধান চাষের গবেষণা শুরু করি। হাওরে মূলত বোরো ধানই একমাত্র ফসল হিসেবে চাষ করা হয়। অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে হাওরের পানি নেমে গেলে ধান লাগানোর জন্য জমি ঠিক করা হয়। ডিসেম্বরের শেষে অথবা জানুয়ারির শুরুতে ধান লাগানো হয়। প্রচলিত জাতের ধান বড় হতে এপ্রিলের শেষ বা মে মাস এসে যায়। তখনি হঠাৎ বন্যার পানি নেমে আসে। সাধারণত এপ্রিলের শেষে কিংবা মে মাসের শুরুতে হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করে। বিশেষ করে মে মাসে বন্যার প্রকোপ বেশি। এতে পুরো মাঠের ধান পানিতে ডুবে যায়। কৃষকেরা শেষ সময়ে এসে ফসল ঘরে তুলতে পারেন না।

আগাম বন্যার তথ্য ও বিশ্লেষণ নিয়ে প্রধান গবেষক বলেন, ‘হাওরে আগাম বন্যার গত ৩৬ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হাওরে আকস্মিক বন্যার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি মে মাসে (প্রায় ৫০ শতাংশ)। এপ্রিলের শেষার্ধে প্রায় ৪২ শতাংশ এবং মার্চের শেষভাগে ও এপ্রিলের প্রথমার্ধে তুলনামূলক কম প্রকোপ দেখা গেছে। ফলে এপ্রিলের মাঝামাঝির আগেই ধান কাটতে পারলে ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু আগাম বন্যা বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসে শুরু হয়। কোনোভাবে যদি এর আগেই ধানের ফসল কর্তন করা যায়,  তাহলে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। এই চিন্তা থেকে আমরা হাওরে স্বল্পমেয়াদি বোরো ধান চাষ করছি। দেখা যায়, প্রচলিত বোরো ধানের তুলনায় স্বল্পমেয়াদি জাত ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই কর্তন সম্ভব। এতে বন্যায় সমসাময়িক থেকে কিছুটা আগেই কৃষক ফসল ঘরে তুলতে পারবে।’

হাওরে স্বল্পমেয়াদি ধানের জাত নিয়ে অধ্যাপক প্রামাণিক বলেন, ‘হাওরে বহুল চাষকৃত ধানের জাত ব্রি ধান ৯২, যার জীবনকাল ১৬০। অগ্রহায়ণের প্রথমদিকে অথবা ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে এই জাতের ধান রোপণ করা হয়। তবে ধান পেকে কর্তন করতে বৈশাখের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এই সময়ে আগাম বন্যা নেমে আসে। ফলে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হয়ে উঠে না। এক্ষেত্রে ব্রি ধান ৯২ এর পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি জাত যেমন ব্রি ধান ৮৮, ব্রি ধান ১০১, ব্রি ধান ১১৩, ব্রি ধান ১০৫, ব্রি ধান ২৫ লাগালে বন্যার আগেই কর্তন সম্ভব। এসব জাতের জীবনকাল প্রায় ১৪৫ দিনের মতো। একই সময়ে রোপণ করে হাওরে প্রচলিত ধানের জাতের চেয়ে ১৫ দিন আগেই কর্তন করা যায়।’

স্বল্পমেয়াদি ধানে চাষের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আকস্মিক বন্যা পরিহারে এপ্রিলের প্রথমার্ধে বোরো ধান কর্তন করতে হলে অবশ্যই ১০ জানুয়ারির মধ্যে চারা রোপণ করতে হবে। ইতোমধ্যে ব্রি ধান ৮৮ জাত ২৬ ডিসেম্বর রোপণ করে এপ্রিলের ৮ তারিখে কর্তন করতে পেরেছি। এতে বন্যার ক্ষতি থেকে ফসল মুক্ত। এর আগে সুনামগঞ্জে বন্যা আসার আগেই ধান কেটে ফেলতে পেরে কৃষকেরা খুশি ছিল।’

বিভিন্ন জায়গায় স্বল্পমেয়াদি ধানে লাগিয়ে আগাম কর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অষ্টগ্রামে ব্রি ধান ৮৮, ব্রি ধান ২৫ এর চারা ২ জানুয়ারি লাগিয়ে এপ্রিলের ১২ তারিখে কর্তন করা গেছে। এ আর ইটনাতে স্বল্পমেয়াদি জাত ব্রি ধান ১১৩ জানুয়ারির ১০ তারিখে রোপণ করে ১৭ এপ্রিলের কর্তন সম্ভব হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ব্রি ধান ৯২ এখনও কর্তন সম্ভব হয়নি।’

কৃষি যান্ত্রিকিকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হাওরে যেহেতু স্বল্পসময়ে ধানের চারা রোপণ করতে হয়, আবার একই সময়ে ধান পরিপক্ব হয়, তাই বন্যার ক্ষতি এড়াতে হাওরে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই। আগাম বন্যা যেহেতু এপ্রিলের শেষার্ধে অথবা মে মাসের শুরু হয়, তাই কৃষির উন্নত ব্যবস্থাপনার জন্য রাইচ ট্রান্সপ্লান্টার, হার্ভেস্টার, সেচ সুবিধাসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হবে। এতে দ্রুতই এবং একই সাথে ফসল তোলা যাবে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ