শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, আদালতে সৎ মায়ের স্বীকারোক্তি কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যার রহস্য উন্মোচন - তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে অটোরিকশাচালক সুমন ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক বাংলাদেশের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের যত খেলা রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১১ নতুন ডিএমডি নিয়োগ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিক : প্রধানমন্ত্রী শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই ডোরিন পাওয়ারের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা বিএসইসিতে বড় রদবদল - ১২ নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্বে বড় পরিবর্তন Price Sensitive Information of Doreen Power Generations and Systems Ltd.
advertisement
সারাদেশ

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যার রহস্য উন্মোচন

তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে অটোরিকশাচালক সুমন

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেতের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৫) ধর্ষণের পর হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সুমন মিয়া (৩৫) নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সুমন ওই কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত আইফোনটিও উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পংকজ বড়ুয়া।

তিনি জানায়, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশ থেকে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে নিহতের বাবা ঘটনাস্থলে এসে তার মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর জেলার বাসিন্দা। তবে তার বাবা চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন। তাজমিন নগরীর ফরিদা বিদায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এরপর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও লালমাই থানা পুলিশ যৌথভাবে মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তের একপর্যায়ে চট্টগ্রাম থেকে প্রধান অভিযুক্ত সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যেভাবে ঘটেছিল হত্যাকাণ্ড
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বিবরণ তুলে ধরা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে। চালক সুমনের সঙ্গে ৩০০ টাকায় গন্তব্যে পৌঁছানোর চুক্তি হয়।

অটোরিকশায় ওঠার পর কিছুদূর গিয়ে তাজমিন চালককে ১০০ টাকা দিয়ে একটি দোকান থেকে কলা ও রুটি কিনে আনে। এরপর শর্টকাট পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক সুমন নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নেয়। কিন্তু নির্ধারিত রেসকোর্স সড়কের দিকে না গিয়ে সে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে লাকসাম উপজেলার বিজরা বাজারের দিকে চলে যায়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি একটি নির্জন ও অন্ধকার স্থানে থামায় সুমন। চারপাশের পরিবেশ দেখে এবং জায়গাটি রেসকোর্স নয় বুঝতে পেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাজমিন। তিনি চালককে কোথায় আনা হয়েছে জানতে চাইলে সুমন জানান এটি অন্য জায়গা।

পুলিশ আরও জানায়, ভুক্তভোগী কিশোরী অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তাকে জাপটে ধরে এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় তাজমিন চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত চালক তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জান্নাতুল দুর্বল হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে পাশের ধানক্ষেতে নিয়ে উপুড় করে শুইয়ে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে সুমন। হত্যাকাণ্ড শেষে তাজমিনের হাতব্যাগ থেকে তার আইফোনটি নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতেই ফেলে দেয় সে এবং অটোরিকশা নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

গ্রেপ্তারের পর যা জানা গেল
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর সুমন স্থানীয় কাচিকাটা মসজিদের সামনের একটি পুকুরে গোসল করে। এরপর ভাড়ায় চালিত আরেকটি সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় যায়। সেখানে একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে তাজমিনের লুট করা আইফোনটি লুকিয়ে রেখে সে চট্টগ্রামে পালিয়ে যায়।

পরদিন ৯ অক্টোবর যৌথ অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে নিহতের আইফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন একাই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার কথা স্বীকার করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন শহরের এক বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লার রেসকোর্স ধানমণ্ডি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়। পরে সে বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায়। বুধবার রাত ২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লা বিশ্বরোড এলাকার হোটেল নূরজাহানের সামনে এসে নামার পর তাকে লাইভ লোকেশন পাঠায়। এরপর গত বৃহস্পতিবার জেলার লালমাই উপজেলার জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন ফসলি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। 

▐ সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ