২১ বছরের বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি। বুধবার (৭ ভোরে) বুয়েনস আয়ার্সের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটি ছিল এই মহাতারকার বিদায়ী মঞ্চ। ‘দ্য লাস্ট ট্যাঙ্গো’ নামের এই আয়োজনে ৮৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
রেকর্ড বাড়িয়ে ২০৮তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমে ম্যাচের শুরু থেকেই আলো ছড়িয়েছেন মেসি। ম্যাচের ১০ মিনিটে তার বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে খেলা এক মিনিটের জন্য থামিয়ে দেওয়া হয় এবং দর্শকরা করতালিতে তাকে অভিবাদন জানান। প্রথমার্ধের শুরুতেই অভিজ্ঞ নিকোলাস ওটামেন্দির হেড থেকে গোল করিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। ম্যাচের অন্য গোলটি করেন নিকো পাজ। এরপর ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১২৬তম গোল পূর্ণ করেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
বিদায়বেলায় আবেগপ্রবণ মেসি
ম্যাচ শেষে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে মেসি বলেন, “২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই জার্সি রক্ষা করতে পারা আমার জন্য বিশাল গর্বের বিষয়। সারা জীবন খেলতে চাই, কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলা একজন মানুষের জীবনে ঘটতে পারে এমন সবচেয়ে সুন্দর বিষয়।”
অবসর নেওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে তিনি কঠিন কিছু সময়ের কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে, সম্প্রতি তার বাবা হোর্হে মেসির গুরুতর অসুস্থতা ও প্রয়াণ এবং সর্বশেষ কঠিন বিশ্বকাপ অভিযানের কথা স্মরণ করে মেসি জানান, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এটাই সঠিক সময়। কিক-অফের আগে তার তিন সন্তানকে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করার সময় গ্যালারিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সার্বজনীন শ্রদ্ধা ও সম্মাননা
ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সদর দপ্তরে বুয়েনস আয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয় মেসিকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। রসিকতা করে এই স্বীকৃতি নিয়ে মেসি বলেন, “এখন আমি বলতে পারব যে আমি একজন সম্মানসূচক ডাক্তার!”
ম্যাচ শেষে ড্রোন শো’র মাধ্যমে রাতের আকাশে মেসির ছবি ফুটিয়ে তুলে তার দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। শুধু দেশ নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও তাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। বার্সেলোনায় তার সাবেক সতীর্থ নেইমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “শুধু আর্জেন্টিনাই নয়, ফুটবলের জন্য তুমি যা করেছ তার জন্য পুরো বিশ্ব তোমাকে ধন্যবাদ জানায়।”
এক স্বর্ণালী অধ্যায়ের সমাপ্তি
২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়া মেসি ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম চিরতরে খোদাই করে নিলেন। ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও, আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই মহাতারকার বিদায়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ফুটবল হারাল এক অমূল্য রত্নকে।