ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের সাথে নাটকীয় এক ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করে 'কে' গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করেছে কলম্বিয়া। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে অফসাইডের কারণে ডেভিনসন সানচেজের একটি গোল বাতিল না হলে হয়তো পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারতো লাতিন আমেরিকার দলটি। এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আগামী শুক্রবার শেষ ৩২-এর রাউন্ডে ঘানার মুখোমুখি হবে কলম্বিয়া।
অন্যদিকে রানার্স-আপ পর্তুগালকে লড়তে হবে 'এল' গ্রুপের দ্বিতীয় দল ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে; যার ফলে ফুটবলবিশ্ব আরও একবার সাক্ষী হতে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদের দুই সাবেক সতীর্থ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদ্রিচের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উপস্থিতিতে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি ছিল গ্যালারিভর্তি কলম্বিয়ান সমর্থকদের অবিরাম গর্জনে মুখর। তীব্র গতির এই ম্যাচে পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো অনেকটাই নিষ্প্রভ থাকলেও, মাঠে আলো ছড়িয়েছেন তাঁরই সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ৩৪ বছর বয়সী হামেস রদ্রিগেস।
ম্যাচের শুরু থেকেই পর্তুগাল রক্ষণভাগকে চেপে ধরে কলম্বিয়া। লুইস দিয়াজের অসাধারণ পাস থেকে জন কর্দোবা খুব কাছ থেকে হেড করলেও বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ১৭তম মিনিটে কর্দোবা আবারও সুযোগ পান; দুর্দান্ত দক্ষতায় ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জোরালো শট নিলেও পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা চমৎকারভাবে তা প্রতিহত করেন।
দেশের হয়ে রেকর্ড ১১তম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নামা হামেস রদ্রিগেস পুরো ম্যাচেই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছিলেন। তাঁর একটি দারুণ ব্যাকহিল-ধাঁচের রিভার্স পাস থেকে জন আরিয়াস শট নিলেও রুবেন নেভেস গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে পর্তুগালকে রক্ষা করেন।
অন্যদিকে প্রথমার্ধে রোনালদোর একমাত্র উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল একটি ফ্রি-কিক, যা সরাসরি কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাসের হাতে জমা পড়ে। এর কিছুক্ষণ পরই ব্রুনো ফার্নান্দেসের একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ অসাধারণ দক্ষতায় নসাৎ করে দেন ভার্গাস।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের তীব্র গতি বজায় থাকে। দিয়েগো দালোতের ক্রস থেকে জোয়াও ফেলিক্সের হেড গোলবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে হতাশ হতে হয় পর্তুগালকে। পাল্টা আক্রমণে কলম্বিয়ার জেফারসন লেরমার শট ফিরিয়ে দেন কস্তা, এরপর জন আরিয়াসও আরও একটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন।
ম্যাচের হাইলাইট: পুরো ম্যাচে অকার্যকর থাকা সত্ত্বেও রোনালদোকে মাঠেই রাখেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। অন্যদিকে দুর্দান্ত খেলা রদ্রিগেসকে ম্যাচ শেষের ১৫ মিনিট আগে তুলে নেওয়া হয়।
ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তা চরমে পৌঁছায় যখন একটি কর্নার থেকে ডেভিনসন সানচেজের বুলেট হেড পর্তুগালের জালে জড়ায়। কলম্বিয়ান সমর্থকেরা উল্লাসে মেতে উঠলেও ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় দু-দলকে।