রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পূর্ণ দায়িত্ব দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটি।
শনিবার (১ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাত আটটায় শুরু হয়ে বৈঠকটি সাড়ে নয়টা পর্যন্ত চলে। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছে স্থায়ী কমিটি।
মহাসচিব আরো বলেন, বৈঠকে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দলীয় সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এ বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে স্পিকার অস্থায়ীভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা এই নির্বাচন আয়োজনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তফসিল ঘোষণা হলে দলীয় প্রার্থী কে হবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমা নেওয়া হবে। যাচাই-বাছাই শেষে যদি একক প্রার্থী থাকে, তবে ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে না। আর একাধিক প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হবে এবং স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ নির্ধারণ করবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের শেষ কিংবা আগামী বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দল প্রস্তুত রয়েছে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও চলছে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বেগম সেলিমা রহমান এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।