রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের শাখাসমূহ নিয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের স্ট্র্যাটেজিক কনক্লেভ অনুষ্ঠিত এশিয়ার ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদারে সহযোগিতা বাড়াল ক্যাসপারস্কি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু, গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগের অপেক্ষা শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ও তুরাগ অ্যাকটিভের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত সাইবার নিরাপত্তায় অক্টোবর জুড়ে ডিএসইর বিশেষ কর্মসূচি নীতিমালা জারি - ফায়ার সার্ভিসে একই কর্মস্থলে তিন বছর হলেই বদলি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় জাপানের মারুবেনি, দ্বিতীয় কাফকো স্থাপনেও আগ্রহী বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলো ছাত্রলীগ নেতা রোটনের মরদেহ বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্সের নাম ও ট্রেডিং কোড পরিবর্তন
advertisement
জাতীয়

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু, গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগের অপেক্ষা

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক উন্মোচিত হলো। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া (Chain Reaction) সম্পন্ন হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে এই বিক্রিয়া ঘটানো হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "এখন পর্যন্ত কেন্দ্রের সব প্যারামিটার চাহিদা অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় রয়েছে এবং বিকিরণের মাত্রা নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই।"

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পারমাণবিক চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত চেইন রিঅ্যাকশন চালুর মাধ্যমে এ বিক্রিয়ার সূচনা হয়। এ থেকে প্রাপ্ত তাপ ও শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছানো মাত্রই তা পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বা গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। সব কারিগরি পরীক্ষা সফল হলে আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর শেষ নাগাদ এই পরমাণু বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই অনুমোদনের ফলে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে রিঅ্যাক্টরের ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়া শুরুর ক্ষেত্রে আর বড় কোনো বাধা নেই। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করা হবে।

এরইমধ্যে প্রথম ইউনিটের প্রেসারাইজড অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি) ব্যবস্থার সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা অতিক্রম করেছে কেন্দ্রটি।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ১৬ দশমিক ১ এমপিএ চাপ ও ২৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পিওআরভি/পিওএসভি ব্যবস্থার ১২টি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তী ধাপে ১৮ দশমিক ৬৫ এমপিএ চাপে পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও পরে তা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

এনপিসিবিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে জানান, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন শুরু হবে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে তার নির্ধারিত তাপীয় ক্ষমতার এক শতাংশেরও কম শক্তিস্তরে পরিচালনা করা হবে। রিঅ্যাক্টরের গুরুত্বপূর্ণ পরামিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রূপপুরের পরবর্তী বড় মাইলফলক হলো ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটিসহ পুরো ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়ায় ৩০-৪০ দিন সময় লাগতে পারে। ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপের পর কেন্দ্রটি ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ে প্রবেশ করবে। এ পর্যায়ে ধীরে ধীরে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো, টারবাইনের সঙ্গে সমন্বয় এবং শেষ পর্যন্ত জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এজন্য অপারেটিং সংস্থাকে বায়রার কাছ থেকে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে।

এ পুরো প্রক্রিয়ায় রিঅ্যাক্টর, টারবাইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি বায়রা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডসংশ্লিষ্ট সংস্থা, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সামরিক বাহিনী এবং নিউক্লিয়ার ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম ইউনিটকে প্রাথমিকভাবে কম শক্তিতে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করে ধাপে ধাপে উৎপাদন ক্ষমতা ২০ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। গ্রিডে সংযোগের পর পরীক্ষামূলক উৎপাদন সাত থেকে আট মাস পর্যন্ত চলতে পারে।

বাণিজ্যিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক সৃষ্টি হবে।

উল্লেখ্য, রূপপুর প্রকল্পের মূল মেয়াদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও বর্তমানে তা দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ঠিকাদারের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সময় বাড়লেও অতিরিক্ত ব্যয় হওয়ার সুযোগ নেই; তবে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়ে বর্তমানে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

▐ সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ