রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
শিরোনাম
বাড়ি বাড়ি রক্তমাখা চিঠি, হত্যা-ডাকাতির হুমকিতে আতঙ্কে সিরাজগঞ্জে খামারিরা কোরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত মার্সেল ফ্রিজ কিনে ১০ লাখ টাকা পেলেন টাঙ্গাইলের হাবিবুর জামায়াত নেতার বাড়িতে ৯৯ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ: চিফ প্রসিকিউটর বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে সামিট অনুষ্ঠিত কুমিল্লা বিভাগ যদি জনগণের দাবি হয়, তা বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী অগ্রণী ব্যাংকে আইএফআরএস-৯ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ঝিনাইদহ পৌরসভার তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী ক্যাশিয়ার জহুরুলের দুর্নীতি পাহাড় রাষ্ট্র ও সমাজকে নতুন করে মেরামত করতে চায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী
advertisement
জাতীয়

কুমিল্লা বিভাগ যদি জনগণের দাবি হয়, তা বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কুমিল্লা নামে বিভাগ হওয়াটা যদি এই অঞ্চলের জনগণের দাবি হয়ে থাকে ইনশাল্লাহ সেটির বাস্তবায়ন হবে।  বিএনপি সরকার জনগণের সকল দাবি পর্যায়ক্রমিক ভাবে পূরণ করবে।' একই সঙ্গে কুমিল্লায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের বিষয়ে শিগগীরই শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শনিবার (১৬ মে) দুপুর দেড়টায় কুমিল্লার বরুরার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত পথসভায় এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের দীর্ঘদিনের তিনটি প্রধান দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা এবং একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। 

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের নানা উন্নয়ন ও কল্যাণমুখী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এরইমধ্যে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানী দেয়া শুরু হয়েছে।  বিএনপি যে ওয়াদা দেয়, সরকারে এলে সেই ওয়াদা পূরণ করে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে চার কোটি পরিবার রয়েছে, ধীরে ধীরে আমরা এই পরিবারের যারা মায়েরা আছে, বোনেরা আছে তাদেরকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড এক এক করে পৌঁছে দেবো। সেই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা ২৫০০ টাকা করে প্রতি মাসে মায়েদের হাতে তুলে দেবো যাতে করে সেই মায়েরা পরিবারের শিশুদের লেখাপড়া বলেন, স্বাস্থ্য বলেন সবকিছু ঠিকভাবে যত্ন নিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ধীরে ধীরে মায়েরা ছোট ছোট ব্যবসা বাণিজ্য করার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে গড়ে উঠতে পারে। কারণ মা যদি শিক্ষিত হয় পরিবার শিক্ষিত হয় মা যদি স্বাবলম্বী হয় একই সাথে পরিবারের সব সদস্য ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়।

কৃষক কার্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার এখানে এই যে স্টেজের মধ্যে এক কৃষক ভাই বসে আছে উনার বক্তব্যে উনি কৃষক কার্ডের কথা বলেছেন, শুনেছেন আপনারা। এই কৃষক কার্ডের কাজও কিন্তু আমরা শুরু করেছি। ফ্যামিলি কার্ডের কাজ যেমন আমরা শুরু করেছি আল্লাহর রহমতে কৃষক কার্ডের কাজও আমরা ধীরে ধীরে শুরু করেছি।  হতে পারে এখন পর্যন্ত কেউ বলতে পারে যে আপনারা তো অল্প দিয়েছেন। হ্যাঁ আমরা কাজটি শুরু করেছি।

খাল খনন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল যদি খনন না করি কৃষক ভাইয়েরা কি পানি পাবে? পাবে না। খাল খনন করলে কৃষক ভাইয়েরা পানি পাবে, ঠিকভাবে আমরা যদি কাজ করি হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করি বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত। এই ৪০ কোটি হাত যদি নেমে আসে, এই ৪০ কোটি হাত যদি একসাথে কাজ করে, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা পৃথিবীর বুকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হব। 

তিনি আরো বলেন, অনেক আন্দোলন সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।  ঠিক ’৭১-এ মানুষ যেমন দেশ স্বাধীন করেছিল, চব্বিশেও দেশকে আবার স্বাধীন করেছে। এখন মূলকাজ দেশের পুনর্গঠন। যে জাতি নিজেরা পরিশ্রম করে, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। দেশ পুনর্গঠন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব না। এ দেশের মালিক জনগণ, জনগণকেই মালিক হয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।

সভায় কৃষিমন্ত্রী  মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ কুমিল্লাবাসীর পক্ষে ‘কুমিল্লা’ নামে কুমিল্লা বিভাগ এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি তুলে ধরেন। কর্মীরাও তুমুল করতালি দিয়ে কৃষিমন্ত্রীকে সমর্থন জানায়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বিএনপি সরকারের শক্তি উল্লেখ করে তাদের সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

এর আগে দুপুর সোয়া ১১টায় প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উঠলে উপস্থিত সমর্থকরা মুহুর্মুহু করতালিতে তাকে স্বাগত জানান। তিনি হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ছোট ছোট মিছিলে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মাঠে জমায়েত হতে থাকেন। সাড়ে ১০টার মধ্যেই সভাটি হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে বড় সমাবেশে রূপ নেয়।

বরুড়ার পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে যান। সেখানে বেলা সাড়ে ১২টায় শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক বাজারের 'খোর্দ্দ খাল' পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুলি গ্রামে বিশ্ব খাল পুনঃখনন কাজেরও সূচনা করেন।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ