বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
আইন-আদালত

লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যা:

৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় ৪ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ৫ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। একই সাথে এই ঘটনার পর দায়ের করা একটি অস্ত্র মামলায় আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। 

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টায় কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৫ম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণাকালে এজাহারনামীয় ও অভিযুক্ত ১৮ জন আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম চৌধুরী।

তিনি জানান, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র মামলায়ও কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৮ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজারা ইউনিয়নে ডাকাতি দমনে যৌথ বাহিনীর একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে সেনাবাহিনীর ৩৯ এসটি ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সরওয়ার নির্জন অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ডাকাত দলকে ধাওয়া করেন এবং ঘটনাস্থলেই দুই ডাকাতকে জাপটে ধরেন।

ওই সময় নিজেদের বাঁচাতে ডাকাত চক্রের সদস্যরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তানজিমের ঘাড়ে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে মারাত্মক জখম করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সেনা কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরদিন চকরিয়া থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ডাকাতির প্রস্তুতি ও সেনা কর্মকর্তা হত্যার অভিযোগে সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আবদুল্লাহ আল হারুণুর রশীদ বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। একই ঘটনায় উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির প্রেক্ষিতে চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে অপর মামলাটি দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর চকরিয়া থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রধান অর্থদাতা মো. বাবুল প্রকাশসহ সরাসরি জড়িত বেশ কয়েকজন আসামিকে দেশীয় অস্ত্র, গুলি ও ছুরিসহ গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি চকরিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে পৃথক দুটি মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ ঘটনার প্রায় ২০ মাসের মাথায় এই রায় ঘোষিত হলো।

নিহত তরুণ সেনা কর্মকর্তা তানজিম সারোয়ার নির্জন পাবনা ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন। তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে আর্মি সার্ভিস কোরে কমিশন লাভ করেছিলেন। তাঁর দেশের বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করের বেটকা গ্রামে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ