সিরাজগঞ্জের বেলকুচি মডেল কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আল-মামুন গত ৩০ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি আফরিন জাহানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারি করা এক নির্দেশনায় জানিয়েছে, কোনো কলেজে অধ্যক্ষ পদ শূন্য হলে অথবা অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে উপাধ্যক্ষ অথবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের জ্যেষ্ঠতম ১০ জন শিক্ষকের তালিকা থেকে গভর্নিং বডির প্রস্তুতকৃত তিন সদস্যের একটি প্যানেল পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই নির্দেশনা অনুসরণ না করে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামীম হোসেন নিজের নামসহ পছন্দমতো একটি তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। এতে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও সহকারী অধ্যাপক আল-মামুনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান সরকারের চাকরির মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে শেষ হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলী রেজুলেশন-২০১৯ অনুসারে শামীম হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দীর্ঘমেয়াদে বহাল রাখার বিষয়ে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, একটানা দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতিত্বেও গত দুই বছরে পরিবর্তন আসে। ২০২৪ সালে গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন সাজ্জাদুল হক রেজা। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি দায়িত্ব ছাড়লে বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সহকারী অধ্যাপক আল-মামুন বলেন, তিনি বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছেন যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা অনুসরণ না করে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজের নামসহ দুইজনের তালিকা পাঠিয়েছেন। জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
কলেজের গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য হযরত আলী বলেন, তাকে কলেজে ডেকে একটি খাতায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তবে কোন বিষয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে, তা তাকে জানানো হয়নি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের তালিকা বা আল-মামুনের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও জানান।
আরেক অভিভাবক সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, কলেজ থেকে ফোন পেয়ে তিনি গিয়ে স্বাক্ষর করেছেন। তবে কোন বিষয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামীম হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।