মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
শার্শার উলাশী জিয়া খাল পূণ:খননে এখন প্রবাহমান মহানবী (সা.) এর সার্বজনীন আদর্শ ও চারিত্রিক গুণাবলি বাণিজ্যমন্ত্রী-ভারতীয় হাই কমিশনার বৈঠক - সুতা আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সীমান্ত হাট চালুর উদ্যোগ ষষ্ঠ থেকে স্নাতক পর্যন্ত ছাত্রীদের সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সকল কার্যালয় তামাকমুক্ত ঘোষণা হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু স্বাস্থ্যসেবায় প্ল্যান মেডি ট্রিপের সঙ্গে যমুনা ব্যাংকের ০% ইএমআই সুবিধা পাঁচ বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন উপস্থাপক সামিয়া ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা একাদশে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ, আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর
advertisement
সম্পাদকীয়

রোহিঙ্গা সংকটের বর্ষপূর্তি: সমাধানের পথে নেই মিয়ানমার

রোহিঙ্গা সংকটের শুরু ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট। তখন মিয়ানমার সরকারের মদদপুষ্ট সেনাবাহিনীর নির্যাতন, নিপীড়ন, ধর্ষণ ও হত্যার ভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা শরনার্থী বাংলাদেশে আসতে থাকে। সেদিন নো ম্যানসল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সরকার মানবিক কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছিল। বাংলাদেশে আশ্রয় পেয়ে মাত্র এক মাসের মধ্যেই পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে এদেশে প্রবেশ করে। বর্তমানে সে সংখ্যা দশ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এখনো প্রায় প্রতিদিনই আসছে রোহিঙ্গারা।

রোহিঙ্গা সংকট যে দ্রুততার সাথে বিস্তৃত হয়েছে সেটি সরকারকেও বিস্মিত করে তুলেছিল।সীমান্তে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হবে কিনা সেটি নিয়েও সরকারের মাঝে ছিল দোদুল্যমানতা।

রোহিঙ্গা সংকট শুরুর এক মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে সংকট সমাধানের জন্য পাঁচটি সুপারিশ তুলে ধরেন।একই সাথে সংকট সমাধানের জন্য বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সমর্থন লাভের চেষ্টাও করেন। কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা করা হয় মিয়ানমারের উপর চাপ তৈরির। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের মনোভাবের কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। বরং অদ্যাবধি রোহিঙ্গাদের উপর সেদেশের সেনাবাহিনীর নির্যাতন বন্ধ হয়নি এবং বন্ধ হয়নি বাংলাদেশে ঢোকাও।

রোহিঙ্গা সংকট শুরুর তিন মাসের মধ্যে মিয়ানমারের সাথে প্রত্যাবাসন সমঝোতা করে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রত্যাবাসনের বিষয়ে গত নয় মাসে দৃশ্যত কোন অগ্রগতি হয়নি।

বর্তমানে মিয়ানমার সরকারের অবস্থায় এটা পরিস্কার যে, তাঁরা সমঝোতা চুক্তি করেছিল শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজেদের নিরাপদ রাখতে। এতে করে বাংলাদেশের কোন লাভ হয়নি এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাবার কোন সম্ভাবনাও তৈরি হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি করার ক্ষেত্রে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করলে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে মিয়ানমার হয়তো এমন একটি সমঝোতা করতে বাধ্য হতো, যাতে বাংলাদেশ লাভবান হতে পারতো।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দীর্ঘ আট বছর পর আলোচনা হয়েছে গত সেপ্টেম্বর মাসে। সংকটের অবসান চেয়ে নিরাপত্তা পরিষদ একটি যৌথ বিবৃতিও দিয়েছে।ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের শীর্ষ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি দলসহ বিভিন্ন দেশ এবং সংস্থার প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে নির্যাতনের বর্ণনা শুনেছেন। এতো কিছুর পরও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবার বিষয়ে মিয়ানমার যেভাবে টালবাহানা করছে তাতে দেশটির উপর বেশি আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে হয়না।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যখন নানামুখী তৎপরতা চলছিল তখন বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ভারত এবং চীন যেভাবে মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়েছে তাতে বিস্মিত হয়েছে বাংলাদেশ।

বর্তমানে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত ও চীনকে বাংলাদেশের পক্ষে আনা কূটনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও সরকার মনে করেন ভারত ও চীন এ সংকট সমাধানের জন্য কাজ করছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা যেভাবেই চালানো হোক না কেন, নিকট ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা সংকটের কোন সমাধান যে হচ্ছে না, সেটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে মিয়ানমার সরকারের আচরণে।

আরো পড়ুন: 

যোগ্যতা ছাড়াই সিএফও এবং সিএস নিয়োগ বাধ্যতামূলক!

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ