বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য - জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী এক মাস পর সিলেট থেকে উদ্ধার নিখোঁজ দুই শিশুর একজন যে কাজ করলে আল্লাহর আরশ থর থর করে কেঁপে ওঠে লিড সনদ পেল আরও ৪ আরএমজি কারখানা ওয়ালটন ই-বাইক ও কম্পিউটার মেগা ডিল অফার শুরু - ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্যাশভাউচার পাওয়ার সুযোগ চরম যাত্রী সংকট - ১৬ জুলাই থেকে যশোর রুটে ফ্লাইট বন্ধ করছে ইউএস-বাংলা সংসদে শিক্ষামন্ত্রী - পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় ভুল প্রশ্ন: সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু আগামী বছর থেকে জানুয়ারিতে এসএসসি, জুনে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী ফেসবুকে স্ট্যাটাসের পর ছাত্রদল নেতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
advertisement
সম্পাদকীয়

রাজধানীর জলাবদ্ধতা

উন্নয়নের গলদ ও নাগরিক ভোগান্তির অন্তহীন গল্প

বর্ষা মৌসুম এলেই রাজধানী ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায় জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়কগুলো তলিয়ে যায় হাঁটুপানি বা কোমরপানির নিচে। বছরের পর বছর ধরে এই সংকট চললেও, এর স্থায়ী কোনো সমাধান দৃশ্যমান হয়নি। নাগরিক জীবনে চরম ভোগান্তি আর অপূরণীয় ক্ষতির দায় কার—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে।

ঢাকার জলাবদ্ধতার মূল কারণগুলো এখন আর কোনো গোপন তথ্য নয়। প্রথমত, শহরের প্রাকৃতিক জলাধার ও খালগুলোর দখল এবং ভরাট। একসময়ের প্রবহমান খালগুলো এখন ময়লার ভাগাড় কিংবা প্রভাবশালী মহলের দখলে। দ্বিতীয়ত, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও নর্দমার অব্যবস্থাপনা। অধিকাংশ ড্রেন ময়লা-আবর্জনায় ঠাসা, যার ফলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এছাড়া, মেগা প্রজেক্টের নির্মাণকাজ চলমান থাকা এবং সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।

জলাবদ্ধতার ফলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে না, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের হুমকি। রাস্তার দূষিত পানি মিশে ছড়াচ্ছে নানা রোগবালাই। সেই সাথে দীর্ঘ যানজটের কারণে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, যার প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। এছাড়া জলাবদ্ধতায় বাসাবাড়ি ও দোকানের ক্ষয়ক্ষতি তো নিয়মিত ঘটনা।

প্রশ্ন হলো, কেন এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না? সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসা—এই দুই কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতা এবং দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা জলাবদ্ধতাকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে। প্রকল্পের পর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়, কিন্তু তার সুফল সাধারণ মানুষ পায় না। ড্রেন পরিষ্কার রাখা বা খাল উদ্ধার করার যে নিয়মিত কাজ, তা যেন অনেকটা দায়সারা গোছের।

এখন সময় এসেছে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার। জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু দায়সারা আশ্বাস নয়, প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট মহাপরিকল্পনা। সবার আগে দখল হওয়া খালগুলো পুনরুদ্ধার করে সেগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। সবচেয়ে জরুরি হলো, নগর পরিকল্পনায় জলাধার সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে হলে উন্নয়নের মেগাপ্রকল্পের চেয়েও নাগরিক জীবনের মৌলিক এই সংকট নিরসনকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আর দেরি নয়, ঢাকাবাসীর এই দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। অন্যথায়, প্রতি বছর বর্ষায় রাজধানী তলিয়ে যাওয়ার এই লজ্জা ও গ্লানি আমাদের নাগরিক অস্তিত্বকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলবে।

 

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ