বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
সারাদেশ

অপপ্রচার, চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগে পটুয়াখালীতে সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর সিঙ্গাপুর টাওয়ার সিঙ্গাপুর বাংলা ও চাইনিজ রেস্টুরেন্টকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোহাম্মদ ফজলুর রহমান।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ১২টায় পটুয়াখালী শহরের সিঙ্গাপুর টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ফুড ব্লগার পরিচয়দানকারী ও পটুয়াখালীর ছাত্রশক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব মোঃ এস এম সুফিয়ান প্রায়ই বন্ধুদের নিয়ে তাদের রেস্টুরেন্টে খেতে আসতেন। কিছুদিন আগে তিনি আরও দুইজনকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খাবার গ্রহণ শেষে ফুড ব্লগার পরিচয় দিয়ে পুরো বিল মওকুফ করার দাবি জানান। এছাড়া গত ১ এপ্রিল রেস্টুরেন্ট উদ্বোধনের দিন তাকে দাওয়াত না দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, হল সুপার জুলহাস পুরো বিল মওকুফ করতে অপারগতা প্রকাশ করলে সুফিয়ান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান এবং বিল পরিশোধ না করেই চলে যান। এ সময় রেস্টুরেন্টের ভেতরে কর্মচারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। পরে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক।

তিনি আরও বলেন, গত ১৮ মে সুফিয়ান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে রেস্টুরেন্ট নিয়ে নেতিবাচক ও বিভ্রান্তিকর রিভিউ প্রকাশ করেন। ওই পোস্টে খাবারের মান ও মূল্য নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করতে শুরু করেন।

ফজলুর রহমানের দাবি, তার ছোট ভাই মোহাম্মদ জলিল ঢাকায় অবস্থানরত অবস্থায় সুফিয়ানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান। এ সময় তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পরে কথোপকথনের একটি অংশ AI প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৮ থেকে ১০ জন তথাকথিত সাংবাদিক ও ফেসবুকার রেস্টুরেন্টে এসে মোহাম্মদ জলিলকে খুঁজতে থাকেন। তাকে না পেয়ে তারা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার শুরু করে রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করে ম্যানেজার ও কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “সিঙ্গাপুর টাওয়ার সবসময় গ্রাহকসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ব্যবসায়িক ক্ষতি সাধন ও চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।”

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ