বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
শিরোনাম
বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক হান্টাভাইরাস, যেভাবে ছড়ায় উপায় ও ইউসিবি ইনভেস্টমেন্টের মধ্যে সমন্বিত কর্পোরেট পেআউট সল্যুশন চালুতে চুক্তি আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ৪৫৮তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষা শুরু ৭ জানুয়ারি, এইচএসসি ৬ জুন শিক্ষা খাতকে জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ১৭ মে রূপালী ব্যাংকের বোর্ড সভা দেশে ভোটার বাড়লো ৬ লাখ ২৮ হাজার ১৬ মে ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের ৫০তম বার্ষিকী: - ভারতের পানি আগ্রাসন : ফারাক্কা লংমার্চ ও ভাসানীর বজ্রকন্ঠ ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমার সেন্সর বাতিল হজে গিয়ে ১৪ বাংলাদেশির মৃত্যু, পৌঁছেছেন ৫৫ হাজার ৬৯৩ জন
advertisement
সারাদেশ

হালুয়াঘাটে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, হাজারো মানুষ পানিবন্দি

ভারতের মেঘালয় ঘেষা সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীর বাঁধ ভেঙে ও উপচে পড়া পানিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে বোরো ধানসহ বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বুধবার (১৩ মে) সকাল থেকে ঢলের পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়ন।

স্থানীয়রা জানান, মেনংচরি ও বোরাঘাট নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে কালিয়ানি কান্দা, বোয়ালমারা, ভুবনকুড়া ও গাজীরভিটাসহ অন্তত ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া পৌর শহরের নিম্নাঞ্চলেও পানি প্রবেশ করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে একটানা ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদ-নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে নদীর বাঁধ উপচে এবং ভাঙা অংশ দিয়ে ঢলের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই দেখেন বাড়ির উঠান ও ঘরে পানি ঢুকে গেছে। পরে তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।

হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে কালিয়ানি কান্দা ও বোয়ালমারা এলাকায় পানিপ্রবাহ বেশি হওয়ায় অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।

কৃষকরাও চরম দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন। তারা বলছেন, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশা করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে জমির পাকা ধান ও অন্যান্য ফসল তলিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দ্রুত ভাঙা বাঁধ মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আঃ রশিদ বলেন, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বোরাঘাট নদীসহ আশপাশের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে বাঁধ উপচে ও ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘর ও ফসলের খেতে পানি উঠে যায়। অনেক পরিবারের ঘরে পানি ওঠায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

আরেক বাসিন্দা রেজাউল আলম বলেন, গত কয়েক ঘণ্টার টানা ঢলে পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ জানান, গাজীরভিটা ও ভুবনকুড়া এলাকার দু'টি পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে এবং দু'টি কাঁচা রাস্তা ভেঙে গেছে।

তিনি বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানির গতি ও প্রবাহ আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেও এখনো সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়নি। দ্রুত ভাঙা বাঁধ মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ