হোম কর্পোরেট সাক্ষাৎকার সিএস সনদ পাওয়ার পর পদোন্নতি পেলেন সজল কুমার

সিএস সনদ পাওয়ার পর পদোন্নতি পেলেন সজল কুমার

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 7:34 pm
1387
0

মাহমুদুন্নবী জ্যোতি: ইনস্টিটিটিউ অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি) থেকে চার্টার্ড সেক্রেটারিজ (সিএস) ডিগ্রী অর্জনের পর পদোন্নতি পেয়েছেন সজল কুমার তালুকদার। ৭ম সমাবর্তনে যে ৯১ জন কৃতি শিক্ষার্থী সিএস প্রফেশনের সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন তিনি তাদেরই একজন।

সজল কুমারের জন্ম নেত্রকোনা জেলায়। তাঁর বাবার নাম সুনীল কুমার তালুকদার এবং মা মুক্তলতা তালুকদার। শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৯২ সালে নেত্রকোনার আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৯৪ সালে নেত্রকোনা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ঢাকা কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে বি.কম (অনার্স) এবং ১৯৯৮ সালে একই বিষয়ে এম.কম ডিগ্রী অর্জন করেন। সজল কুমার ২০০৫ সালে মাধুরী রাণী অধিকারীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে সজল-মাধুরী দম্পতির একমাত্র মেয়ে বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৪র্থ শ্রেণিতে অধ্যায়নরত।

আইসিএসবি’র ৭ম সমাবর্তনে সিএস সার্টিফিকেট অর্জনকারীদের নিয়ে কর্পোরেট সংবাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদন আজকের অতিথি সজল কুমার তালুকদার।

কর্পোরেট সংবাদ: ক্যারিয়ার শুরুর কথা জানতে চাই।
সজল কুমার তালুকদার: ধন্যবাদ। আমার কর্মজীবন শুরু হয় ২০০৩ সালে ‘মাস্ক গ্রুপ’ এর ব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) হিসেবে। অত:পর ২০০৫ সালে ‘র‌্যাঙ্কস টেলিকমে’ সহকারি ব্যবস্থাপক পদে যোগদান করি। এরপর ২০০৯ সালে ‘এডিএন’ গ্রুপে ব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) ও সহকারি কোম্পানি সেক্রেটারি হিসেবে যোগদান করি। পবরর্তীকালে ২০১৫ সালের শেষ দিকে ‘ভি ইউ মোবাইল’ নামে একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে ব্যবস্থাপক (অর্থ ও প্রশাসন) হিসাবে যোগদান করি এবং ২০১৭ সালে ‘মামিকো গ্রুপ’ এ যোগদান করি এবং এখন পর্যন্ত কর্মরত আছি।

কর্পোরেট সংবাদ: আইসিএসবি থেকে প্রাপ্ত সনদ আপনার বর্তমান কর্মস্থলে কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে কী?
সজল কুমার: হ্যাঁ। ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বর্তমান প্রতিষ্ঠানে আমি যোগদান করেছিলাম জেষ্ঠ্য ব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) হিসেবে। কিন্তু আইসিএসবি থেকে সনদ পাওয়ার পর আমার পদোন্নতি হয়েছে এবং আমি বর্তমানে ‘হেড অফ ফাইন্যান্স’ এবং ‘কোম্পানি সেক্রেটারি’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

কর্পোরেট সংবাদ: আইসিএসবিতে অধ্যায়নরত অবস্থায় কোন বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন? কেন?
সজল কুমার: আইসিএসবিতে পড়ার সময় আমি নিয়মিত ক্লাসে হাজির ছিলাম এবং মনোযোগ দিয়ে ক্লাস লেকচার অনুসরণ করতাম। বিগত বছরের প্রশ্নের ধরণ বুঝে নিজের পড়াটা তৈরি করতাম এবং আপডেটেড কর্পোরেট গাইডলাইন সম্পর্কে সবসময় সজাগ ছিলাম। কারণ, কর্পোরেট গর্ভনেন্স অনুসরণ করতে হলে আপডেটেড নিয়ম-কানুন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান রাখতে হবে।

কর্পোরেট সংবাদ: কর্পোরেট সেক্টরে আইসিএসবি’র ভূমিকা আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
সজল কুমার: কর্পোরেট সেক্টরে আইসিএসবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কোম্পানি সেক্রেটারি কর্পোরেট সেক্টরের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় সহায়তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা। কোম্পানি সেক্রেটারি ‘কোম্পানি অ্যাক্টস-১৯৯৪’ এর অধীন বিধিবদ্ধ একজন কর্মকর্তা। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর নির্দেশনা অনুসারে সব তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে একজন কোম্পানি সচিব থাকা বাধ্যতামূলক। কোম্পানি সচিব কোম্পানির সম্মানিত কর্মকর্তা, যিনি কোম্পানির বিভিন্ন কার্যকরি প্রধানের সাথে যোগাযোগ, সমন্বয় এবং সহযোগিতা করে থাকেন।

কর্পোরেট সংবাদ: আইসিএসবি’র কোন দিকটাকে সবচেয়ে সফল বলে আপনি মনে করেন? দূর্বল কোনো দিক থাকলে সেটি কী?
সজল কুমার: দক্ষ সিএস প্রফেশনাল গড়ে তোলার জন্য আইসিএসবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই দিকটিকে আমি সফল বলে মনে করি। প্রতিষ্ঠানটির কোন দূর্বল দিক আছে বলে মনে হয় না। তবে সিএস মেম্বারদের মধ্যে আরো বেশি যোগাযোগ বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটির আরো বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত।

কর্পোরেট সংবাদ: সিএস কোর্স করার সময় আইসিএসবি থেকে কী কোন প্রকার তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন? হয়ে থাকলে কী?
সজল কুমার: না। সিএস কোর্স করার সময় আমি কোন প্রকার তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হইনি বরং প্রতিষ্ঠানটির সকলের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

কর্পোরেট সংবাদ: আইসিএসবি’র সিলেবাস নিয়ে আপনি কী পুরোপুরি সন্তুষ্ট?
সজল কুমার: হ্যাঁ, আইসিএসবি’র সিলেবাস নিয়ে আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট। কারণ, আইসিএসবি’র বর্তমান সিলেবাস খুবই মানসম্মত এবং সময়োপযোগি, যা চার্টার্ড সেক্রেটারি প্রফেশনকে আরও সুদক্ষ পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

কর্পোরেট সংবাদ: আপনার কাছে কী মনে হয়, আইসিএসবি’র সিলেবাস পরিবর্তন করা প্রয়োজন আছে?
সজল কুমার: আমি তা মনে করি না। কারণ, আইসিএসবি’র বর্তমান সিলেবাস অত্যন্ত মানসম্পন্ন, যা অন্যান্য দেশের সিলেবাসের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।

কর্পোরেট সংবাদ: সিএস সনদ নেওয়ার পর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের পূর্বে বা পরে অনেক সদস্যই মনে করেন, এখানে ৩ মাসের যে ইন্টার্ণশীপ করে রিপোর্ট দেওয়া হয়, তা কাজ শেখা ও বোঝার জন্য যথেষ্ঠ নয়-এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
সজল কুমার: সত্যি তাই। কারণ, ৩ মাসের ইন্টার্ণশীপ সময়ে যা শেখানো হয়, তা কর্মক্ষেত্রে বাস্তব প্রয়োগ করার জন্য যথেষ্ঠ নয়। যারা কর্পোরেট সেক্টরে কর্মরত অবস্থায় সিএস করছেন, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ততটা কঠিন না হলেও যারা সিএস সনদ নিয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে যাবেন, তাদের জন্য ৩ মাসের ইন্টার্ণশীপ ততটা সুফল বয়ে আনে না। এখানে পদ্ধতিগত পরিবর্তন হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি।

কর্পোরেট সংবাদ: এই পেশার অনেকেই মনে করেন, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা ও কাজের বাস্তব জ্ঞানার্জনের জন্য ৩ মাসের ইন্টার্ণশীপের পরিবর্তে সিএ পেশার মতো আর্টিক্যালশীপ কোর্স বাধ্যতামূলক হওয়া প্রয়োজন-এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
সজল কুমার: প্রথমেই বলি, সিএ পেশার সাথে সিএস পেশা মেলালে হবে না। কারণ, সিএ পেশার একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে। সে অর্থে আইসিএসবি এখনো অগ্রসরমান অবস্থায় আছে। সিএ পেশায় আইসিএবি’র তালিকাভুক্ত প্রয়োজনীয় সিএ ফার্ম রয়েছে যেখানে আর্টিক্যালশীপ কোর্স করার যথেষ্ঠ সুযোগ রয়েছে। এবং পরবর্তীতে উক্ত ফার্ম থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও জ্ঞানার্জন করে তারা দক্ষতার সাথে নিজেদের প্রমাণ করতে সক্ষম হচ্ছেন। সেক্ষেত্রে আইসিএসবি’র সদস্যদের ফার্ম সেভাবে গড়ে ওঠেনি বা ওঠার সুযোগ পায়নি। ফলে, সিএস ভর্তির পর তারা ইচ্ছে করলেই সিএ পেশার মত আর্টিক্যালশীপ কোর্স করতে পারবেন না। তবে, এক্ষেত্রে আইসিএসবি’র আর্টিক্যালশীপ ৩ মাসের স্থলে ৬ মাস করা হলে হয়তো শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক বেশি বাস্তবকর্মের চর্চা বা জানার সুযোগ পাবেন, যার ফলে সদস্যরা কর্মক্ষেত্রে নিজেকে আরো বেশি দক্ষ হিসেবে প্রমাণ করতে পারবেন।

কর্পোরেট সংবাদ: ইনস্টিটিউটের কাউন্সিল মেম্বারদের ক্লাশ নেওয়া কী ঠিক? বিষয়টিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন।
সজল কুমার: আমার মতে বিষয়টি ঠিক না। কারণ, একজন কাউন্সিল মেম্বার যদি ক্লাশ নেন, তখন তাঁকে দ্বৈত ভূমিকা বা দায়িত্ব পালন করতে হয়। সেক্ষেত্রে দ্বৈত দায়িত্ব পালনকালে যদি কোন একটি বাধাগ্রস্ত হয়, তখন তার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে আইসিএসবি’র ওপর।

কর্পোরেট সংবাদ: আগামী প্রজন্ম কেন আইসিএসবিতে পড়বে-এ বিষয়ে আপনার উপদেশ কী?
সজল কুমার: আইসিএসবি একটি প্রফেশনাল ইনস্টিটিউট যেখানে দক্ষ কোম্পানি সচিব তৈরি করা হয়। নিজেকে কর্পোরেট লিডার হিসেবে তৈরি করতে এই প্রতিষ্ঠানের বিকল্প নেই। কারণ, আইসিএসবি’র সিএস ডিগ্রী বর্তমান প্রজন্মকে অন্যদের থেকে অনেক বেশি এগিয়ে রাখবে। ফলে আগামী প্রজন্ম একদিকে দেশের কর্পোরেট সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় যেমন ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন এবং অন্যদিকে নিজের সম্মানজনক ক্যারিয়ার গড়াতে পারবেন। আমার বিশ্বাস, এসব বিবেচনায় আগামী প্রজন্মের কাছে আইসিএসবি যথেষ্ঠ গুরুত্ব পাবে।

কর্পোরেট সংবাদ: আপনার প্রিয় খেলা এবং শখ সম্পর্কে যদি কিছু বলেন।
সজল কুমার: আমার প্রিয় খেলা ক্রিকেট এবং এক সময় অনেক ক্রিকেট খেলেছি। গান শুনতে খুব পছন্দ করি। মান্না দে, শ্রীকান্ত, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সতীনাথ এবং জগজিৎ এর গান আমার খুব ভালো লাগে।

কর্পোরেট সংবাদ: ভবিষ্যত পরিকল্পনা।
সজল কুমার: দক্ষ কোম্পানি সেক্রেটারি হয়ে কর্পোরেট সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাই।

কর্পোরেট সংবাদ: কর্পোরেট সংবাদকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
সজল কুমার: আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ। সেইসাথে ধন্যবাদ জানাই কর্পোরেট সংবাদের অগণিত পাঠককে।

আরো পড়ুন: সুইটি আখতার এসিএস, হতে পারেন চ্যালেঞ্জিং পেশায় আগ্রহী মেয়েদের আদর্শ