হোম কর্পোরেট সাক্ষাৎকার সুইটি আখতার এসিএস, হতে পারেন চ্যালেঞ্জিং পেশায় আগ্রহী মেয়েদের আদর্শ

সুইটি আখতার এসিএস, হতে পারেন চ্যালেঞ্জিং পেশায় আগ্রহী মেয়েদের আদর্শ

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 9:07 pm
1056
0

মাহমুদুন্নবী জ্যোতি: বর্তমানে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি বিশ্বে আলোচিত। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের প্রতিটি সেক্টরে রয়েছে নারীদের বুদ্ধিদীপ্ত উপস্থিতি। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, মন্ত্রী, সচিব, বিচারপতি, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সকল বাহিনী, ব্যাংক, বিমা সহ সকল কর্পোরেট সেক্টরে নারীদের অংশগ্রহণ ও উপস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতির চাকা তুলনামূলকভাবে বেশি সচল রয়েছে। তারপরও তালিকাভুক্ত কোম্পানির কোম্পানি সেক্রেটারি পদে কাজ করতে মেয়েদের বরাবরই দেখা গেছে অনিহা। এর মূল কারণ বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)। এজিএমের সময় কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের অশোভন (যদিও সব কোম্পানিতে নয়) আচরণের কারণে কোম্পানি সেক্রেটারিদের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। ফলে এ পদে পুরুষেরা নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারলেও নারীদের বেলায় তা যথেষ্ট অসাধ্য সাধনতুল্য।

কিন্তু তাই বলে কি কোম্পানি সেক্রেটারি পদে নারীরা পিছিয়ে থাকবে? না। ব্যতিক্রম নিশ্চয়ই আছে। যারা যেকোন পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তাদের কাছে যেকোন কাজই আনন্দের। এমনই এক ব্যতিক্রমী নারী কোম্পানি সেক্রেটারির মতো পদে কর্মরত আছেন স্বীয় দক্ষতা আর দৃঢ় মনোবলের কারণে। তিনি সুইটি আখতার। ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে মাল্টিমুড গ্রুপের কোম্পানি সেক্রেটারিয়েট ডিপার্টমেন্টে অ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। অ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করলেও মূলত: ডেপুটি সেক্রেটারির ভূমিকা পালন করছেন বলে জানালেন তিনি।

সম্প্রতি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি) এর ৭ম সমাবর্তনে যে ৯১ জন কৃতি শিক্ষার্থী চার্টার্ড সেক্রেটারিজ (সিএস) প্রফেশনের সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন, তাঁদের তিনজন মেয়ের মধ্যে সুইটি আখতার একজন। সিএস প্রফেশন সহ কর্ম ও ব্যক্তিজীবনের নানা দিক ওঠে আসে এক একান্ত আলাপচারিতায়।

সুইটি আখতারের জন্ম ১৯৮৭ সালের ৩ জুলাই ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার বাহ্রা (পূর্বে) গ্রামে। পিতা সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এবং মা গৃহিনী শাহানারা বেগম। চার ভাই-বোনের (দুই ভাই, দুই বোন) মধ্যে সবার ছোট সুইটি ১৯৯২ সালে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করলেও মাকে মনে করেন জীবনের প্রথম বিদ্যাপিঠের প্রধান শিক্ষক। সুইটি আখতার ২০০২ সালে রাজধানী ঢাকার টি এন্ড টি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি (ব্যবসায় শিক্ষা) এবং ২০০৪ সালে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসি (ব্যবসায় শিক্ষা) পাস করেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালে ইডেন মহিলা কলেজ থেকে একাউন্টিং এ অনার্স এবং ২০১৩ সালে একই বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। মাস্টার্স ফল প্রকাশের পর একই বছরে তিনি বঙ্গবন্ধু ল কলেজে ভর্তি হন এবং ২০১৭ সালে উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম স্থান লাভ করে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এলএলবি ডিগ্রী অর্জন করেন। এলএলবি পড়াকালীন সময়ে অর্থাৎ ২০১৩ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সেশনে তিনি আইসিএসবিতে চার্টার্ড সেক্রেটারিতে ভর্তি হন এবং ২০১৬ সালে সিএস ডিগ্রী লাভ করেন। শিক্ষা অর্জনের প্রতি তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারণেই সম্ভব হয়েছিল একই সাথে এলএলবি ও সিএস ডিগ্রী অর্জন করা।

কর্মজীবনের লক্ষ্য স্থির করার আগে নিজের শিক্ষার প্রতি মনোযোগি হন সুইটি আখতার। সময়ের সালে তাল মেলাতে বেছে নেন কর্পোরেট সেক্টরকে। মাস্টার্স পাশ করার পর পেয়েছিলেন লোভনীয় চাকরির অফার। কিন্তু নিয়োগদাতা কোম্পানির নিকট থেকে এলএলবি ও সিএস কোর্স করতে দেওয়ার নিশ্চয়তা না পাওয়ায় সে চাকরির অফার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন হাসিমুখে। সুইটির কাছে প্রাধ্যন্য পেয়েছে শিক্ষার মাধ্যমে নিজের কর্মজীবনের শক্ত ভিত আগে তৈরি করা। তার ওপর গড়ে উঠবে নিশ্চিত সম্মানজনক কর্মস্থল। যে কারণে তিনি কর্পোরেট সেক্টরে কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এফসিটিবি-তে এবং জে. আলম অ্যান্ড কোম্পানিতে কাজ করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে যোগ দেন তিনি মাল্টিমুড কোম্পানিতে। এক্ষেত্রে নিদ্বির্ধায় বলা যায়, নিজের লক্ষ্যে স্থির থেকে সম্মানজনক কর্মে তিনি শতভাগ সফল।

আইসিএসবি’র ৭ম কনভোকেশনে মোট ৯১ জন সিএস সার্টিফিকেট অর্জনকারীর মধ্যে নারীর সংখ্যা মাত্র ৩জন। সেখানে নারী হয়ে কেন সিএস প্রফেশনে আসলেন-জানতে চাইলে সুইটি বলেন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি অর্জনই ছিল মূল লক্ষ্য। কারণ, প্রফেশনাল ডিগ্রী ছাড়া কর্পোরেট সেক্টরে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করা দু:সাধ্য। এছাড়া মূলত: আমি আমার মেজভাইর পরামর্শে সিএস প্রফেশনে এসেছি এবং ডিগ্রী অর্জন করেছি।

কোম্পানি সেক্রেটারি পেশা বেশ চ্যালেঞ্জিং। সাধারণত মেয়েদের এ পেশায় খুব একটা দেখা যায় না। সেক্ষেত্রে আপনি কীভাবে এ পেশায় এলেন-এমন প্রশ্নের জবাবে সুইটি বলেন, প্রত্যেকটি পেশারই রয়েছে আলাদা আলাদা চ্যালেঞ্জ, নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং উৎকর্ষতা। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই যে কোনো পেশায় নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। আমি সে কাজটিই করেছি। আমি বিশ্বাস করি, এদেশের সকল পেশায়ই মেয়েদের দক্ষতার পরিচয় দেয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কোম্পানি সেক্রেটারি পেশা একটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পেশা, যার মাধ্যমে কোম্পানির সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি আমার কাছে কঠিন না, বরং উপভোগ্য মনে হচ্ছে।

কর্মক্ষেত্রে তাঁর এই আত্মবিশ্বাস প্রকাশের সময় মায়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি যখন খুব ছোট, তখনও স্কুলে যাইনি। একদিন সন্ধ্যায় মা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “কোনটার মূল্য বেশি, লেখাপড়া নাকি টাকা?” তখন টাকা কিংবা পড়ালেখার মর্মার্থ বোঝার মতো জ্ঞান ছিল না বলেই নিরব ছিলাম। নিরবতা ভেঙে মা বলেছিলেন, “লেখাপড়ার মূল্য এবং সম্মান দু’টোই বেশি”।

নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় রবীন্দ্রনাথের কবিতার দুটো লাইন নিজের জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সাহিত্যানুরাগী করতে সাহায্য করেছিল বলে জানান সুইটি আখতার। তিনি আবৃত্তি করেন,
‘‘দ্বাররুদ্ধ করে দিয়ে ভ্রমটাকে রুখি
সত্য বলে আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি।”

সুইটি বলেন, মা আমাদের মাঝে শিক্ষার মুল্যবোধের যে বীজ বপন করেছিলেন তা-ই আমাকে সামনের দিকে ধাবিত করেছে। সেই সুপ্ত বোধটাকে অবলম্বন করেই শিক্ষার তৃণলতা একটু একটু বেয়ে উঠেছে আমার মাঝে। আর আজ আমাকে শিক্ষার সাথে সাথে সম্মানের আসন দিয়েছে।

কোম্পানি সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছেন কিনা জানতে চাইলে সুইটি আখতার বলেন, সিএস ডিগ্রী অর্জনের মাধ্যমে কর্পোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকরি জ্ঞান অর্জিত হলেও বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং আত্মবিশ্বাসের কিছুটা ঘাটতি ছিল। তবে সকলের সার্বিক সহযোগিতায় দায়িত্ব পালনে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হতে হয়নি। বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) কোম্পানির শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা যেমন আমার উপর আস্থা রেখেছেন তেমনি শেয়ারহোল্ডারদেরও সহযোগিতা পেয়েছি। ফলে আমার পক্ষে দায়িত্ব পালনে কোন প্রকার সমস্যা হয়নি বরং আমি বিষয়টিকে এনজয় করছি।

কীভাবে এনজয় করছেন জানতে চাইলে সুইটি কাব্যিক ভাষায় বলেন, সৈয়দ মুজতবা আলীর একটি লাইন আমার খুব প্রিয়। সেটি হলো, “মদ দেখলে নেশা হয় না, শুকলেও না, চাখলেও না, এমন কি সর্বাঙ্গে মাখলেও না, মদ গিলতে হয়।” ঠিক তেমনিভাবে আমরা যখন কোন পেশার গভীরে প্রবেশ করতে পারবো, অন্তর্নিহিত জ্ঞানকে দক্ষতার সাথে কাজে লাগিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবো-তখনই হবে কর্মের প্রতি প্রকৃত নেশা। কোম্পানি সেক্রেটারিয়েটের কাজ করে ভালো লাগছে এবং প্রতিনিয়তই নতুন নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চার করছি।

বর্তমান কর্মজীবনে সিএস সনদ কতটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন-প্রশ্নের উত্তরে সুইটি বলেন, এটা নির্ভর করবে কর্পোরেট সেক্টরে আইসিএসবি’র ভাবমূর্তির ওপর। আইসিএসবি এবং এর সদস্যদের ভাবমূর্তি যতটা উজ্জ্বল হবে আমাদের কর্মস্থলে ততটাই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। চার্টার্ড সেক্রেটারি সংসদীয় আইনের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত পেশা। তাই, কোম্পানির সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই সনদ প্রার্থীকে প্রতিযোগিতায় প্রাধান্য পেতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে।

আইসিএসবিতে অধ্যায়নকালে কোন বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন জানতে চাইলে সুইটি বলেন, আইসিএসবিতে অধ্যায়নকালে যে বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি, তা হলো, পাসের কোন বিকল্প নেই। ভেবেছি প্রতিটি লেভেল একবার পরীক্ষা দিয়েই আমাকে পাস করতে হবে। আমার ভাবনায় থাকতো, পরীক্ষায় যদি একজনও পাস করে, চেষ্টা থাকলে সেই একজন আমিও হতে পারি।

তিনি বলেন, আসলে আন্তরিকতা আর নিষ্ঠার সাথে চেষ্টা করলে সকল ক্ষেত্রেই সফল হওয়া সম্ভব। নিজ থেকে যদি চেষ্টাই না থাকে তাহলে আল্লাহ্ তায়ালা সাহায্য করবেন কীভাবে? আর সেই বোধই সব সময় আমার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে যা আমাকে শেষ পর্যন্ত সফল হতে সাহায্য করেছে।

সুইটি আখতার বলেন, আমার বর্তমান কর্মস্থলে যোগদান করেছি কোয়ালিফাইড চার্টার্ড সেক্রেটারি হওয়ার পরে কোম্পানি সেক্রেটারিয়েট ডিপার্টমেন্টে। সিএস সনদ থাকার কারণেই চাকুরির ক্ষেত্রে প্রাধান্য লাভ করেছি, যদিও আমার এলএলবি এবং মাস্টার্স ডিগ্রী সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। আর এই সনদের কারণে কাজের ক্ষেত্রে প্রাধান্য লাভ করেছি এবং বিশেষ সম্মান এবং মর্যাদা উপভোগ করছি। কারণ, আইসিএসবি’র শিক্ষা ব্যবস্থা একজন সনদধারীকে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ করে তোলে, আর সে আলোকেই বিস্তৃতি হয়েছে আমার জ্ঞান ও কাজের পরিধি।

কর্পোরেট সেক্টরে আইসিএসবি’র ভূমিকা কীভাবে মূল্যায়ন করেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, কর্পোরেট সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কোম্পানি সেক্রেটারির বিকল্প নেই। বাংলাদেশে আইসিএসবি একমাত্র স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান যা কোম্পানি সেক্রেটারি পেশার উন্নয়ন, প্রসার এবং নিয়ন্ত্রণে চার্টার্ড সেক্রেটারি আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের সাথে সাথে সুশাসন নিশ্চিতের বিষয়েও দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। আইসিএসবি’র সদস্যরা দেশিয় এবং বহুজাতিক বিভিন্ন কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দক্ষতার সাথে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন, কোম্পানির স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থরক্ষায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন, তাদের আস্থার আসনে আসীন হয়ে আছেন। তাঁর মতে, কোম্পানি সেক্রেটারিরা অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানির অভিভাবক হিসেবে কাজ করে থাকেন।

তিনি আরো বলেন, আইসিএসবি’র “কর্পোরেট গর্ভনেন্স অ্যাওয়ার্ড” কোম্পানিগুলোর পরিমাপক হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত। কিন্তু এ সেক্টরে আইসিএসবি নিজেকে এবং এর সদস্যরা তেমনভাবে নিজেদের ভূমিকা যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারেনি। এজন্য অনেকেই কোম্পানি সচিব এবং ব্যক্তিগত সচিবের পার্থক্য বুঝতে পারেন না। এর ফলে কর্পোরেট সেক্টরের অনেক ক্ষেত্রে আইসিএসবি’র সদস্যদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না।

কর্পোরেট সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আইসিএসবিকে আরো কার্যকরি ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে সুইটি বলেন, শুধুমাত্র পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি নয়, প্রাইভেট কোম্পানি, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তৈরি পোশাক শিল্প সহ সকল ক্ষেত্রেই সুশাসন নিশ্চিতের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটিকে এবং এর সদস্যদের ভূমিকা তুলে ধরতে হবে।

সুইটি বলেন, “অরুন্ধতী আকাশের ক্ষুদ্রতম তারকা। কিন্তু সেটি বলিষ্ঠের পাশে বসে যখন সপ্তর্ষির সাতটি তারকার একজন হয়ে দেখা দেয়, তখন মনে হয় এটি না থাকলে সপ্তর্ষির সাতটি তারকাই মিথ্যা হতো”। অনুরূপভাবে সনদধারী কোম্পানি সেক্রেটারি ছাড়া কোম্পানিকে অপূর্ণ ব্যাঞ্জণের মতো মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক।

আইসিএসবি’র সফল এবং দুর্বল দিক সম্পর্কে জানতে চাইলে সুইটি আখতার বলেন, আইসিএসবি’র বিভিন্ন সময়ে নির্বাচিত সম্মানিত কাউন্সিল সদস্যগণ ইনস্টিটিটিউটকে সফল করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে গেছেন, এখনো যাচ্ছেন। কিন্তু তারপরও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো আইসিএসবি’র কিছু সফলতা ও দুর্বলতা রয়েছে।

সফলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইসিএসবি’র প্রথম সফলতা হচ্ছে, এটি ২০১০ সালের সংসদীয় আইনের মাধ্যমে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ইনস্টিটিটিউট এবং এই আইনের মাধ্যমে কোম্পানি সচিব পেশা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। দ্বিতীয়টি হলো, প্রতিষ্ঠানটির কাউন্সিল সদস্যদের আপ্রাণ চেষ্টায় চার্টার্ড সেক্রেটারি স্ট্যান্ডার্ড প্রকাশিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের “কর্পোরেট গর্ভনেন্স কোড” এ চার্টার্ড সেক্রেটারি স্ট্যান্ডার্ড অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।

দুর্বল দিক প্রসঙ্গে সুইটি বলেন, আইসিএসবি এখনও নিজস্ব ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, যা এর অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্থ করছে। দ্বিতীয়টি হলো, প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কোন স্টাডি ম্যানুয়েল নেই। অন্যান্য প্রফেশনাল ইনস্টিটিটিউট তাদের নিজস্ব স্টাডি ম্যানুয়েল প্রকাশ করতে পারলেও আইসিএসবি এক্ষেত্রে এখনও সফল হতে পারেনি।

আইসিএসবি থেকে কোন প্রকার তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়নি জানিয়ে সুইটি বলেন, সিএস কোর্স করার সময় প্রতিষ্ঠানটির বয় থেকে শুরু করে সম্মানিত প্রেসিডেন্ট সহ সবাই আমাকে অনুপ্রেরণা এবং সমর্থন দিয়েছেন। এছাড়া আমার প্রফেশনাল লেভেন-১ এর ক্লাস চলাকালীন সময়ে এলএলবি প্রিলিমিনারী পরীক্ষা চলছিল, সে সময় আমি ক্লাস না করার অনুমতি পেয়েছি। এজন্য প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

আইসিএসবি’র সিলেবাস বিষয়ে সুইটি আখতার বলেন, আমরা আইসিএসবি’র নতুন সিলেবাসের প্রথম ব্যাচ। এই সিলেবাস প্রণয়নের ক্ষেত্রে কাউন্সিল সদস্যদের চেষ্টা প্রশংসিত। যদিও এই সিলেবাস অত্যন্ত যুগোপযোগী হলেও সিলেবাসের সাথে মিল রেখে প্রয়োজনীয় বইয়ের অভাব রয়েছে। পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানির সচিবের জন্য ‘সিকিউরিটিস ল’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং বিস্তৃত। তাই এ বিষয়টি দুই লেভেলে ভাগ করে সিলেবাস প্রণয়ন করলে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সুফল বয়ে আনবে। পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করলে কোম্পানি সচিব হিসেবে শিক্ষার্থীরা আরও গুণগত এবং মানসম্পন্ন সেবা প্রদান করতে পারবেন।

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আইসিএসবি’র সিলেবাস পরিবর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরে সুইটি এ ব্যাপারে কাউন্সিল সদস্যদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

যে সকল মেয়েরা কোম্পানি সেক্রেটারি পদে চাকুরি করতে অনীহা প্রকাশ করেন তাঁদের উদ্দেশ্যে সুইটি বলেন, “যে জিনিস যত দুষ্প্রাপ্য, মানুষের মনের কাছে তার মূল্য তত বেশি।” সুতরাং, যে পেশা যত বেশি চ্যালেঞ্জিং তার সফলতার গৌরব তত বেশি। যাঁরা নিজেদের লিডিং পজিশনে দেখতে চায়, আমি সে সব নারীদের এ পেশায় আসার আহ্বান জানাই।

সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলায় পারদর্শী সুইটির অবসর সময় কাটে বই পড়ে। তিনি ফুল ভালোবাসেন, ভালোবাসেন নিজ হাতে ফুলের বাগান করতে। পুরনো দিনের সাদা-কালো সিনেমা দেখেন কখনো কখনো। এক্ষেত্রে প্রিয় নায়ক-নায়িকার তালিকায় রয়েছেন উত্তম কুমার-সুচিত্রা সেন।

পরিপাটি ও গোছানো থাকতে নিজেই সুন্দর করে রাখেন নিজের চারপাশ। ধর্মীয় মূল্যবোধের সুক্ষ্ন জ্ঞান ফুটে উঠলো তাঁর কথায়। নিজের পড়াশোনা, কর্মজীবন, ব্যক্তিজীবন সব মিলিয়ে এক আদর্শবান ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠে তাঁর অবয়বে। যে সকল মেয়েরা চ্যালেঞ্জিং পেশায় আসতে ভয় পান সুইটি আখতার হতে পারেন তাঁদের কাছে একজন আদর্শ ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে।

আরো পড়তে পারেন: ‘চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অ্যাক্ট-২০১০’ সিএস প্রফেশনের শ্রেষ্ঠ অর্জন: মোহাম্মদ নূরুল আলম