ভিনিসিয়াস জুনিয়রের জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। আসরে এ নিয়ে তিন ম্যাচে চার গোল করলেন এই রিয়াল মাদ্রিদ সুপারস্টার। অন্যদিকে, এই পরাজয়ে স্কটল্যান্ডের সামনে আরও একবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কা তৈরি হলো।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্কটল্যান্ডের রক্ষণাত্মক কৌশলকে কাজে লাগিয়ে ব্রাজিলকে শুরুতেই লিড এনে দেন ভিনিসিয়াস। এরপর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (স্টপেজ টাইম) আরও এক গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। পুরো ম্যাচে স্কটিশরা কখনোই ব্রাজিল রক্ষণভাগে তেমন কোনো ভীতি ছড়াতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে মাথিয়াস কুনহার গোলে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের দাপুটে জয় নিশ্চিত হয়। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে কুনহার পরিবর্তে নেইমারকে মাঠে নামান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। এর মাধ্যমে প্রায় আড়াই বছর পর ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সিতে মাঠে ফিরলেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর প্রথমবার সেলেসাওদের দলে ফিরে দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করতালিতে সাড়া দেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
বিশ্বকাপের শুরুতে কার্লো আনচেলত্তির দল শিরোপা জয়ের প্রকৃত দাবিদার কি না—তা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও, গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্সে সেই সংশয় অনেকটাই কেটে গেছে। আগামী ২৯ জুন হিউস্টনে শেষ ৩২-এর ম্যাচে মাঠে নামবে ব্রাজিল। নকআউটের প্রথম রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ দল, যা হতে পারে নেদারল্যান্ডস, জাপান কিংবা সুইডেন।
মরক্কোর সাথে ১-১ ড্র এবং হাইতির বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের পর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও জালের দেখা পেলেন ভিনিসিয়াস। এর মাধ্যমে ২০০২ সালে রোনালদো ও রিভালদোর পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের প্রতিটি গ্রুপ ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়লেন তিনি। এই চার গোল নিয়ে লিওনেল মেসি (৫), আর্লিং হালান্ড (৪) ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সাথে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে বেশ ভালোভাবেই শামিল হলেন ভিনি।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে আটলান্টায় হাইতিকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে মরক্কো। সাত পয়েন্ট নিয়ে ব্রাজিলের চেয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউটে উঠেছে তারা। তিন পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে থাকা স্কটল্যান্ডের বিদায় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এর আগে আটটি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কখনোই গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি স্কটিশরা। এবারও সেই একই পথে হাঁটছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রাচীন এই দলটি।
ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটে নিজের বক্সের ভেতর বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি দেখান স্কটল্যান্ডের ম্যাককেনি। ইনজুরিতে থাকা রাফিনিয়ার পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া বোর্নমাউথের তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে বল কেড়ে নেন এবং ভিনিসিয়াসের উদ্দেশ্যে বাড়ান। স্কটিশ গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে পরাস্ত করে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি ভিনি।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে স্কটল্যান্ডের একই ধরনের ভুল থেকে আবারও গোল খেয়ে বসেছিল তারা। জ্যাক হেন্ড্রির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে ভিনিসিয়াস গোল করলেও মেক্সিকান রেফারি ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর তা বাতিল করেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল কেড়ে নেওয়ার সময় ভিনিসিয়াস হেন্ড্রির পায়ে আঘাত করেছিলেন।
তবে ব্রাজিলের দ্বিতীয় গোল আসতে বেশি সময় লাগেনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারায়েসের ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে ব্যবধান ২-০ করেন ভিনিসিয়াস। বিরতির ঠিক আগে রায়ানের একটি দুর্দান্ত শট রুখে দেন গান।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে স্কটিশ গোলরক্ষক ভিনিসিয়াসকে হ্যাটট্রিক থেকে বঞ্চিত করলেও ৬০ মিনিটে ব্রাজিলের লিড ৩-০ হয়। গিমারায়েসের পাস থেকে টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড কুনহা। ব্রাজিল আক্রমণভাগের যে রূপ ছিল, তাতে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
পরের রাউন্ডে ওঠার সমীকরণে টিকে থাকতে স্কটল্যান্ডের জন্য একটি সান্ত্বনাসূচক গোল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার দুইবার স্কট ম্যাকটোমিনের নিশ্চিত প্রচেষ্টা নসাৎ করে দেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচবারের দেখায় এটি ব্রাজিলের চতুর্থ জয়। দুই দলের মধ্যকার একমাত্র ব্যতিক্রমী ম্যাচটি ছিল ১৯৭৪ সালের গোলশূন্য ড্র।