বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বড়সড় ধাক্কা খেতে বসেছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত গোলে মরক্কোর বিপক্ষে হার এড়িয়েছে তারা।
রোববার (১৪ জুন) ভোরে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘সি’ গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে।
প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে এবং ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তীব্র গরমের মধ্যে ফিফা র্যাংকিংয়ের ছয় ও সাত নম্বরের লড়াইটি ছিল টানটান উত্তেজনায় ঠাসা। মরক্কোর পক্ষে ইসমায়েল সাইবারি দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর ব্রাজিলের হয়ে সমতা ফেরান ভিনিসিয়ুস। এই ড্রয়ে ১ পয়েন্ট করে ভাগ করে নিল দু’দল।
মরক্কোর দাপুটে শুরু ও সাইবারির গোলম্যাচের শুরু থেকেই কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকে চাপে রাখে মরক্কো। গোছানো ফুটবল খেলে ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই প্রথম আক্রমণ সানায় আফ্রিকান জায়ান্টরা। মাজরাউইয়ের ক্রস থেকে গোলমুখে এল আইনাউইয়ের শট দুর্দান্ত ব্লকে নসাৎ করে দেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ব্রুনো গিমারায়েস। ১২ মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় ব্রাজিল, তবে ভিনির ক্রস থেকে ঠিকঠাক মাথা ছোঁয়াতে পারেননি ইগর থিয়াগো। ম্যাচের ২১ মিনিটে ডেডলক ভাঙে মরক্কো। মাঝমাঠ থেকে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াসের ডিফেন্স-চেরা থ্রু পাস নিয়ন্ত্রণে নেন ইসমায়েল সাইবারি। ব্রাজিলের দুই ডিফেন্ডার মার্কিনহোস ও গ্যাব্রিয়েলকে গতিতে পরাস্ত করে, আগুয়ান গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের মাথার ওপর দিয়ে চমৎকার চিপ শটে বল জালে জড়ান তিনি (১-০)।
ভিনির ৫০তম ম্যাচে সমতা পিছিয়ে পড়ে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে সেলেসাওরা। সমতা ফেরাতে খুব বেশি সময় নেয়নি তারা। ৩২ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল ড্রিবল করে ব্রুনো গিমারায়েসের দিকে বাড়ান ভিনিসিয়ুস। ব্রুনোর নিখুঁত ফিরতি পাস থেকে ডি-বক্সের ভেতর ডান পায়ের জোরালো শটে মরক্কোর জাল কাঁপান ভিনি। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে নিজের ৫০তম ম্যাচে এটি ভিনির ১০ম এবং বিশ্বকাপে দ্বিতীয় গোল।
প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে লুকাস পাকেতার একটি দুর্দান্ত ভলি ঝাঁপিয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর প্রাচীর ইয়াসিন বোনু। ফলে ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দু’দল। দ্বিতীয়ার্ধে রাফিনিয়ার সুযোগ মিস, অ্যালিসনের উদ্ধারদ্বিতীয়ার্ধে দু’দলই কিছুটা সাবধানী ফুটবল খেলতে শুরু করে। মাঝমাঠ দখলের লড়াই চললেও বারবার ভুল পাসের কারণে আক্রমণগুলো খেই হারাচ্ছিল। তবে ম্যাচের শেষ দিকে দুপক্ষই দারুণ কিছু সুযোগ তৈরি করে।
৬৭ মিনিট: রাফিনিয়ার ক্রস থেকে লুইজ হেনরিক গোলমুখে শট নিতে ব্যর্থ হলে সুযোগ হারায় ব্রাজিল।
৭৯ মিনিট: ভিনির পাস থেকে ডি-বক্সের ভেতর ফাঁকায় বল পেয়েও দুর্বল শট নেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া।
৮৩ মিনিট: মরক্কোর ইসা দিয়পের ভুল ব্যাকপাস ধরে রাফিনিয়া একাই এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তবে পোস্ট ছেড়ে দ্রুত বের হয়ে এসে বল গ্লাভস বন্দী করেন গোলরক্ষক বোনু।ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (ইনজুরি সময়ের ৯ম মিনিটে) নিশ্চিত পরাজয় থেকে ব্রাজিলকে রক্ষা করেন লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসন।
মরক্কোর এল আয়নাউইয়ের প্রথম শটটি অ্যালিসন ঠিকঠাক ঠেকাতে না পারলেও, ফিরতি শটে অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্সে হাত বাড়িয়ে বল রুখে দেন তিনি। ফলে ১-১ গোলের ড্রয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।
ম্যাচের পরিসংখ্যানে বল দখলে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। ৫১.৩ শতাংশ বল দখলে রাখে তারা। অন্যদিকে, ৪৮.৭ শতাংশ বল দখলে ছিল মরক্কোর। ম্যাচে গোলমুখে ব্রাজিল ৫টি ও মরক্কো ৩টি শট নেয়। এছাড়া ব্রাজিলের হলুদ কার্ড ছিল দু’টি।
আগামী ১৯ জুন গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। একই দিন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে মরক্কো।