মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী - জ্বালানি তেল পাচার রোধ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই মূল্য সমন্বয় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শান্তি দিবস-২০২৬ উদযাপন করল জেএমআই গ্রুপ সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে টাকা জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি - বেনাপোলে ট্রাকপ্রতি ভাড়া বেড়েছে ৪-৫ হাজার টাকা, দ্রব্যমূল্যে প্রভাব পড়ার শঙ্কা মমেক হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড - তদন্ত কমিটির মেয়াদ বাড়লো আরও ৫ দিন আন্তর্জাতিক বাজারে ওয়ালটনের মতো দেশীয় ব্র্যান্ডকে আরও তুলে ধরতে হবে: রাষ্ট্রদূত গ্যালাক্সি এ৩৭ ৫জি ও গ্যালাক্সি এ৫৭ ৫জি-তে স্যামসাংয়ের ক্যাশব্যাক অফার নান্দাইলে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন দেশের এসইউভি বাজারে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করলো দীপাল এস০৫ পিএইচইভি রেফ্রিজারেটরের যে যত্নগুলো নেয়া প্রয়োজন
advertisement
নির্বাচিত কলাম

ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ও আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ঝুঁকি

রাফিউ আহমেদ : যদি এমন হয়, আপনার সামনে একটা ফাইল রাখা হয়, যেখানে এ যাবতকালে আপনি কি কি ব্রাউজ করেছেন, কিসে লাইক দিয়েছেন, কিসে কমেন্ট করেছেন, কোথায় আড্ডা দিয়েছেন, কোন রেস্ট্রুরেন্টে কি খেয়েছেন, আপনার আশে পাশে তখন কে কে ছিলো, কাকে বকা দিয়েছেন, কাকে কি ম্যাসেজ দিয়েছেন, কাকে ফোনে কি বলছেন,  কি আপনার পছন্দ, কি অপছন্দ কার সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন ইত্যাদি সব থাকে? কিংবা আপনি একদিন ল্যাপটপ হাতে নিয়ে দেখলেন এ জীবনের ডিলিট করা সব হিস্ট্রি আবার চলে আসছে? ব্যাপারটা অনেকটা এমনি।

আপনি কাউকে ম্যাসেজ দিয়ে ডিলিট করে ফেলছেন, ভাবলেন যাক শেষ! ব্যাপারটা এখানেই শেষ না, ওয়েবসাইট গুলো সব জমা রাখছে। আপনি কথা বলছেন, সব কেউ শুনছে, জমা রাখছে। মাঝেমধ্যে এমন হয়, আপনি গুগলে কিছু সার্চ করলেন, সেটা পরেরদিন আপনার ফেইসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম সবখানে চলে আসছে. এখন AI এর ব্যবহার বাড়ায় ব্যাপারটা অহরহ হচ্ছে। আজ আর গুগলে সার্চ করা লাগেনা, বন্ধুদের সাথে আড্ডায় কোন পণ্য বা কোর্স নিয়ে আলোচনা করছেন, দেখা যাবে  সেটা আপনার ফেইসবুক ওয়ালে চলে আসছে।

ব্যাপারটা প্রথমে আপনাদের কাছে মজার লাগতে পারে, কত সহজেই আপনার পছন্দের জিনিস পেয়ে গেলেন! কিন্তু এটার একটা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে।  আজ ইন্টারনেটের যুগে প্রাইভেসি বলতে কিছু নেই। সবটাই রেকর্ড করা হচ্ছে, এনালাইসিস করা হচ্ছে। কিন্তু এত তথ্য জমা রাখা, এনালাইসিস করা যথেষ্ট ব্যয় সাপেক্ষ, তাও তারা নিজের টাকা খরচ করে কেন করে?

এসব তথ্য খুব সহজেই বিক্রি করা যায়। যেমন ধরুন, কেউ মেয়েদের কাপড়ের ব্যবসা শুরু করবে। যদি সে আগেই জানতে পারে কোন এলাকার মেয়েরা কি রঙের কি ড্রেস বেশি কিনে বা পছন্দ করে তাহলে তার ব্যবসায় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। এখন কেউ যদি কাপড়ের ব্যবসায় কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চায়, মার্কেট সার্ভের মত ঝামেলায় না গিয়ে সহজেই সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে এই তথ্য কিনে ফেলবে।

কিংবা চাকরির নিয়োগেরও এটা ব্যবহার করা হতে পারে। আপনার বিগত বছর গুলোয় কার সাথে মিশছেন, কি কথা বলছেন, কার সাথে কি চ্যাট করছেন, কোথায় কি খেয়েছেন সব তারা পেয়ে যাচ্ছে! এমনকি রাজনৈতিকভাবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন গত নির্বাচনে  আমেরিকা অভিযোগ করে রাশিয়া তাদের নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেছে।

আপনি ইন্টারনেটে যা করেন না কেন, কিছুই স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা যায়না। এই কাজ গুলো আপনার জ্ঞানের অগোচরেই হচ্ছে। এটাই হচ্ছে ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট। অর্থাৎ ইন্টারনেটে আপনি যেখানেই প্রবেশ করেননা কেন, সবখানেই আপনার একটা স্থায়ী পদচিহ্ন থেকে যায়। এমনকি আপনি ব্যক্তিগত একাউন্ট থেকে মুছে দিলেও তাদের সার্ভারে জমা থাকে। ম্যাসেজ ডিলিট করার সুবিধা আসার পর এই সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। কারণ ব্যবহারকারি মুছে দেয়া যায় বলে মন খুলে সব বলে পরে ডিলিট করে দিচ্ছে, কিন্তু সার্ভারে সব জমা থাকায় একটা ব্যক্তিগত সুরক্ষা ঝুঁকি রয়ে যায়। পরবর্তীতে এসব তথ্য দিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও করার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই নিজের ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে প্রকাশ করার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। অযাচিত মজা করেও উলটাপালটা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। এবং প্রয়োজনের বাইরে অতিরিক্ত তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা উচিত না। এবং থার্ড পার্টি এপ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এবং সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ