দেশের বেকার ও কর্মপ্রত্যাশী যুবক-যুবতীদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (১০ জুন) যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) এ কে এম মফিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
আগামী ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ৬ মাস মেয়াদি এই প্রশিক্ষণ কোর্সগুলো পরিচালিত হবে। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক নির্ধারিত নিয়ম মেনে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
চলতি সেশনে মোট ৪টি কারিগরি ও আইটি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কোর্সগুলোর বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
|
কোর্সের নাম |
শিক্ষাগত যোগ্যতা | কোর্স ফি | আসন সংখ্যা ও কেন্দ্র |
|
কম্পিউটার বেসিক অ্যান্ড আইসিটি অ্যাপ্লিকেশন |
ন্যূনতম এইচএসসি/সমমান | ১,০০০ টাকা |
৬৩টি জেলার ৭০টি কেন্দ্রে (প্রতি কেন্দ্রে ৪০-৫০টি আসন) |
| প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইন | ন্যূনতম এইচএসসি/সমমান | ১,০০০ টাকা |
ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ৫টি কেন্দ্রে (প্রতি কেন্দ্রে ২৪টি আসন) |
|
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউজ ওয়্যারিং |
অষ্টম শ্রেণি পাস |
৩০০ টাকা |
৫২টি জেলার ৫৩টি কেন্দ্রে (প্রতি কেন্দ্রে ২৪টি আসন) |
|
ইলেকট্রনিক্স |
অষ্টম শ্রেণি পাস |
৩০০ টাকা |
৫৯টি জেলার ৬০টি কেন্দ্রে (প্রতি কেন্দ্রে ২৪টি আসন) |
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর যুবকদের জন্য কোনো কোর্স ফি লাগবে না (সম্পূর্ণ ফ্রি)।
সংরক্ষিত কোটা: দলিত সম্প্রদায়ের (সুইপার, ঋষি ও ডোম) জন্য ৪ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত থাকবে।
প্রশিক্ষণ ভাতা: কোর্স শেষে সফল প্রশিক্ষণার্থীদের সরকারি বরাদ্দ সাপেক্ষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতা দেওয়া হবে। রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের প্রশিক্ষণার্থীরা বিকাশ এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের প্রশিক্ষণার্থীরা রকেট-এর মাধ্যমে এই ভাতা পাবেন। (ভাতা পাওয়ার জন্য নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক)।
১. অনলাইন আবেদন: আগ্রহীদের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা পোর্টাল (ytms.gov.bd)-এর মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
২. সহজ সেবা: দূরবর্তী এলাকার প্রার্থীরা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জেলা কার্যালয় অথবা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (UDC) সাহায্য নিয়ে অনলাইনে আবেদন জমা দিতে পারবেন।
৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: আবেদনের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।
৪. সাক্ষাৎকার: আগামী ২৮ থেকে ৩০ জুনের মধ্যে নিজ নিজ জেলা কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হবে। সাক্ষাৎকারের সময় মূল সনদপত্র এবং সদ্য তোলা ২ কপি সত্যায়িত পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি সাথে আনতে হবে। (বয়স নির্ধারণে কোনো এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়)।
পূর্বে যারা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে যেকোনো ধরণের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তারা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন না।
প্রশিক্ষণকালীন কেন্দ্রের শৃঙ্খলা, নিয়মিত উপস্থিতি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের ভর্তির সময় নিজস্ব সক্রিয় মোবাইল নম্বর, ফেসবুক আইডি, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর এবং ই-মেইল ঠিকানা জমা দিতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন ও ক্লাস শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের এই মহাপরিকল্পনা দেশের বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করতে অনন্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে অধিদপ্তর।