মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম
একযোগে ৭ ডেপুটি ও ১০ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে বেসিক ব্যাংকের চুক্তি স্বাক্ষর মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু দেশের বাজারে স্যামসাংয়ের প্রথম ৯৮-ইঞ্চির বিশাল টিভি উন্মোচন বছরে মিলবে ১ বিলিয়ন ডলার - ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণে কার্বন বাণিজ্যের বিশাল সম্ভাবনা অভিনেতা ও নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেন আর নেই দুগ্ধ খামারিদের জন্য ডিজিটাল অর্থায়নে সিটি ব্যাংক-মিল্ক ভিটা ও অ্যাগ্রোশিফটের সমঝোতা ত্রিশালে তিন দিনের ব্যবধানে আবারও শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, ইমাম আটক নোয়াখালীতে আ.লীগের ১২ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার এমবাপ্পের শততম ম্যাচে ফ্রান্সের দাপুটে জয়, রেকর্ডের পাতায় ফরাসি তারকা
advertisement
জাতীয়

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কারই সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ: প্রধান উপদেষ্টা

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক : অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতার। তিনি বলেন, দেশে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কারই সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। এজন্য সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৪’র তৃতীয় আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা এমন এক সময়ে পার করছি, যেখানে চ্যালেঞ্জ আর জটিলতা আমাদের প্রতিটি দিক থেকে ঘিরে ধরেছে। অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক অবিচার, কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান হুমকি—সবই আমাদের সামনে একেকটি বড় বাধা। তবুও বাংলাদেশ বারবার দেখিয়েছে কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করতে হয়।

আগত অতিথিদের নবগঠিত বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা মাত্র ১০০ দিন আগে একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছিলাম। এটি ছিল ছাত্র-জনতার একটি বিপ্লব, যা গত ১৬ বছর ধরে শাসন করা এক ফ্যাসিস্ট সরকারকে উৎখাত করেছে। এর জন্য এক হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী, শ্রমিক এবং সাধারণ প্রতিবাদকারীকে প্রাণ দিতে হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ২০ হাজার ছাত্র-জনতা। এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে আসুন আমরা তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করি—যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, যারা চিরদিনের জন্য তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, দৃষ্টিশক্তি এবং শারীরিক সক্ষমতা হারিয়েছেন এবং যারা এখনও জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।

থ্রি জিরোর ভিত্তিতে সভ্যতা তৈরির আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, এই সভ্যতা আমাদের ব্যর্থ করেছে। শুধু পরিবেশের দিক দিয়েই নয়, মানুষ মুনাফার পেছনে মরিয়া হয়ে উঠাও এর জন্য দায়ী। আসুন আমরা নতুন একটি সভ্যতা তৈরি করি থ্রি জিরোর ভিত্তিতে। যেখানে সম্পদকে কুক্ষিগত করা হবে না। সবার মাঝে সমানভাবে বণ্টন হবে।

বিদেশি অতিথিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যখন ঢাকার রাস্তায় হাঁটবেন, তখন রাস্তাগুলোর দেয়ালে তরুণদের আবেগ এবং আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আঁকা রঙিন চিত্রকর্মগুলি দেখে মুগ্ধ হবেন। এই চিত্রকর্মগুলো দেখলে যে কেউ তরুণদের সৃজনশীলতার শক্তিতে মুগ্ধ না হয়ে পারবেন না। এখানে কোনো ডিজাইনার ছিল না, কোনো কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ছিল না, এবং কেউ এর জন্য তহবিল দেয়নি।

প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে। মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ। তাই এ বছরের সংলাপের থিম ‘এক বিভক্ত পৃথিবী’। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি সমস্যার সমাধান রয়েছে, যদি আমরা ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাই।

এর আগে, শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের (সিজিএস) নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে পেয়ে আমরা সম্মানিত বোধ করছি।

জিল্লুর রহমান আরও বলেন, সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) গত দুই বছর ধরে বার্ষিক বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের আয়োজন করে আসছে। বিগত বছরগুলোতে এ সম্মেলন আয়োজন করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা বাধা দেওয়া হয়েছিল। তবে এ বছর আমরা অনেক সহযোগিতা পাচ্ছি। এটি আমাদের তৃতীয় বছর এবং আমাদের সবচেয়ে বড় আয়োজন করতে যাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, আজ থেকে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন শুরু হয়ে চলবে আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত। এতে ৮০টিরও বেশি দেশ থেকে ২০০ জনের বেশি আলোচক, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং ৮০০ জন অংশ নেবেন। এবারের থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘এ ফ্র্যাকচারড ওয়ার্ল্ড’।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ