বাঁশখালীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে টিনের নতুন ঘরের চাবি তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগন্ট) দুপুর ১টা ২০ মিনিটে বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালীর বন্যা কবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে টিনের নতুন ঘরের চাবি তাদের হাতে তুলে দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাথে কথা বলেন এবং তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর নেন। তিনি সেখানে একটি মেহগনি গাছের চারা রোপণ করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু কৃষক নয়, লবণ চাষিদের মাঝেও কৃষক কার্ড দেয়া হবে। লবণ চাষিদের কষ্ট লাঘবে শিগগিরই নতুন মূল্য নির্ধারণ করবে সরকার। এর পাশাপাশি সমুদ্র উপকূলে কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে
তিনি বলেন, দেশের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকাই এই সরকারের দায়িত্ব। চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর সমাধানে সময় লাগবে। তবে এসব বিষয় নিয়ে কিছু মানুষ বিভ্রান্তিকর কথা বলে জনগণের শান্তি নষ্ট করতে চায়। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। বিভ্রান্তকারীরা যাতে কোনো সুযোগ না পায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
দেশে ঝগড়া-ফ্যাসাদ চলবে, নাকি দেশকে এগিয়ে নেয়া হবে—এ বিষয়ে দেশের জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পেছনে পড়ে থাকার সুযোগ নেই। এখন সময় জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করার। দেশের মানুষ বিভ্রান্ত না হয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে—এটাই প্রত্যাশা।
এ সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে অন্যান্যের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, কক্সবাজারে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই থেকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বন্যায় জলাবদ্ধতায় এসব এলাকার শত শত মানুষের ঘর-বাড়ি, পুকুর, জলাশয় ও ঘেরের মাছ পানিতে ভেসে যায়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টায় মহেশখালীর মাতারবাড়ির গভীর সমুদ্র বন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন, বেলা সাড়ে ১২টায় মহেশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের অনুষ্ঠানে যোগদান, দুপুর ২টায় ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলম বাবুনগর মাদ্রাসায় আল্লাম শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সাক্ষাৎ, বিকেল সোয়া ৩টায় হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত, বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে হাটহাজারী ডাকবাংলোয় যাত্রা বিরতি, বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের অনুষ্ঠানে যোগদান, সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ‘রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ’ হোটেল মিলনায়তনে সাংগঠনিক সভায় যোগদান।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে মহেশখালী যাচ্ছেন হেলিকপ্টারে এবং ফটিকছড়ি থেকে সড়ক পথে চট্টগ্রামে যাবেন। সব কর্মসূচি শেষ করে রাত সাড়ে ৯টায় হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বিমানে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।