শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Credit Rating Information of Monno Ceramic Industries Ltd. চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২৭ জুলাই পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রিমিয়ার ব্যাংক ও বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সঙ্গে বিপিজিএ’র প্রেসিডেন্টের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সাথে হজ এজেন্সি প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সেনসেশনের সৌজন্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ইনক্রেডিবল ওয়েডিংস ফেস্টিভ্যাল’ ভাতিজার পুরুষাঙ্গ কেটে চাচী উধাও চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলা: ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ
advertisement
জাতীয়

২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য সরকারের: প্রধানমন্ত্রী

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিকস, ডিজিটাল সেবা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং লজিস্টিকস খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, তৈরি পোশাক খাতের বহুমুখীকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে এসে নতুন বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে সরকারের প্রধান বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি আস্থাশীল ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে দেশি ও বিদেশি উভয় উদ্যোক্তাই নির্বিঘ্নে মূলধন বিনিয়োগ করতে পারেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "কেউ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে সরকার কেবল প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষান্ত থাকবে না, বরং সময়মতো প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহযোগিতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের পাশে থাকবে। এটি সরকারের কোনো সাধারণ প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীকার।"

বিনিয়োগকারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের উদ্যোগের ফলেই দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় হচ্ছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গতিশীল রয়েছে।

নিজের পেশাগত জীবনের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন—যেকোনো ব্যবসা কেবল উদ্যোক্তার ব্যক্তিগত দক্ষতা কিংবা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে সফল হতে পারে না; বরং ব্যবসার প্রকৃত সফলতা অনেকাংশেই নির্ভর করে সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক ও দূরদর্শী নীতিমালার ওপর।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সামনে কিছু বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্ভাবনার দিগন্ত অনেক বিস্তৃত। দ্রুত সম্প্রসারণশীল অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও কর্মক্ষম জনশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসমর্থনপুষ্ট নির্বাচিত সরকার—এই চারটি মূল শক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সম্পূর্ণ সক্ষম।

একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর আধুনিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী ইশতেহারে এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল। সরকার কেবল বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নযাত্রায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও সমানভাবে সম্পৃক্ত করতে চায়।

দায়িত্ব গ্রহণের আগে থেকেই সরকার অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রস্তুতি শুরু করেছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক সংগঠন, খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নীতিনির্ধারকদের মূল্যবান মতামত নেওয়া হয়েছে। তাদের সুপারিশে মূলত বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রণয়ন, করব্যবস্থা সহজ করা, অর্জিত মুনাফা বিদেশে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সহজতর করা, শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠন এবং উন্নত অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে এসেছে।

সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা জোরদার, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা, কর ও ভ্যাট প্রশাসন সহজীকরণ এবং মুনাফা দেশ-বিদেশে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পুঁজিবাজারকে গতিশীল করা, স্টার্টআপ বা নবীন উদ্যোক্তা খাতে সহায়তা বৃদ্ধি, অপ্রয়োজনীয় বিধি-নিষেধ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তথা লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তরের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামোর সার্বিক উন্নয়ন এবং টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে পারস্পরিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কেবল একটি শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তিনি দেশি-বিদেশি সকল অংশীজনকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

 

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ