সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
শিরোনাম
আ.লীগের অপতৎপরতা মোকাবিলায় ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী প্রক্সি দিয়ে পরীক্ষায় পাস, চাকরিতে যোগ দিতে এসে আটক ২ ৯ম ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডে ৪টি পুরস্কার জিতেছে স্যামসাং মোবাইল নড়াইলে গৃহবধূর আত্মহত্যা আস্থার ধারাবাহিকতায়: টানা আট বছর AAA ক্রেডিট রেটিং মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী - শ্রমবাজার ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসার প্রধান বিষয়বস্তু হচ্ছে শিক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ
advertisement
জাতীয়

মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী

শ্রমবাজার ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পররাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে নিজের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ায় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও ফলপ্রসূ অর্ধ-দিবসের সফর সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মাত্র ১৮ ঘণ্টার এই ঐতিহাসিক সফর শেষে আজই তিনি চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্তকরণ এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতার বিষয়ে ঐতিহাসিক আলোচনা ও যৌথ বিবৃতি ইস্যু করা হয়েছে।

মালয়েশিয়া ত্যাগ করার প্রাক্কালে কুয়ালালামপুরে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিমানবন্দরে লালগালিচা সংবর্ধনা ও রাজকীয় অভ্যর্থনা
এর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। সেখানে তাঁদের লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করেন মালয়েশিয়া সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জুলকিফলি হাসান। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুয়ালালামপুর থেকে পুত্রাজায়া পর্যন্ত সড়কপথ দুই দেশের জাতীয় পতাকা ও বিলবোর্ডে সাজানো হয়।

শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার জোর তাগিদ
সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম এবং দেশটির মহামান্য রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান। বৈঠকে অভিবাসন ব্যয় কমানো, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরির বিষয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা ঐকমত্য পোষণ করেন। এছাড়া, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে অবস্থানরত অবৈধ বা কারাবন্দি বাংলাদেশি শ্রমিকদের মানবিক উপায়ে বৈধতা প্রদান অথবা নিরাপদে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়েও আন্তরিক অনুরোধ জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

৩৩ পয়েন্টের যৌথ বিবৃতি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ও প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক শেষে ৯টি প্রধান খাতের অধীনে ৩৩টি পয়েন্ট সংবলিত একটি ঐতিহাসিক যৌথ বিবৃতি ইস্যু করা হয়েছে। খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে: রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও সেমিকন্ডাক্টর খাত, শিক্ষা, পর্যটন, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা।

সফরকালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সন্ত্রাস দমনে দুটি ‘Exchange of Notes’ বিনিময় করা হয়।

ব্যবসা ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে মালয়েশিয়ার শীর্ষ পাঁচটি বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান—পেট্রোনাস, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, পার্ডুয়া এবং এমএমসি পোর্ট-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন। বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং এলএনজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি, দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।

জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার প্রশংসা
যৌথ প্রেস কনফারেন্সে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে তিনি মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।

অন্যান্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়
বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠায় ওআইসি ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, প্রচলিত ধারার বাইরে অত্যন্ত ছোট একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই সফর করেছেন। এই সফরকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ