বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
নতুন এআই মডেল উন্মুক্ত করছে ওপেনএআই ইসলামী ব্যাংকের ‘গ্রাহক সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহে শিশু নিছামনি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদন্ড বাণিজ্য সচিবের সাথে আইসিএমএবি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ শপথ নিলেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন কমিটি পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে ফ্লেক্সিবল ডেলিভারি অপশন নিয়ে সেবার পরিধি বাড়ালো পাঠাও পার্সেল আগামী নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী ফিফা সভাপতি-রেফারির বিরুদ্ধে মামলা চেয়ে থানায় তরুণ, ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি! সলঙ্গায় ৩০৬ বোতল মাদকসহ দুই ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
advertisement
আইন-আদালত

ময়মনসিংহে শিশু নিছামনি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদন্ড

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলার চার আসামির মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর এক অপ্রাপ্তবয়স্ক (শিশু) আসামিকে সাড়ে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঘটনার মাত্র ২৫ দিনের মাথায় এবং ১০ কার্যদিবসের মধ্যে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করা হলো।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পৃথকভাবে এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আরিফ, রাকিব ও সায়েমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯-এর ৩ ধারা মোতাবেক মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগী শিশুর (বাদী) পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার এই রায় প্রদান করেন।

অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারা মোতাবেক আরও আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় অনুযায়ী, দু'টি দণ্ডই একসাথে কার্যকর হবে। মারুফ যতদিন অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকবে, ততদিন তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হবে এবং পরবর্তীতে তাকে সাধারণ কারাগারে স্থানান্তর করা হবে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় বিজ্ঞ আদালত রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবী নিযুক্ত করে দেন। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মোট ১০ কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করার পর আদালত এই চূড়ান্ত রায় দেন।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে স্থানীয় বাজার থেকে চিপস কিনে বাড়ি ফেরার পথে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে কংস নদের পাড়ে একটি জঙ্গলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে চার তরুণ। এরপর তাকে জীবিত অবস্থায় নদীতে ফেলে এবং পানির নিচে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ তলদেশে পুঁতে রাখে। ঘটনার দিন রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশ ৯ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, মাত্র ২৫ দিনের মধ্যে এত দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ এবং ভুক্তভোগীর পরিবার সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট। আমরা আশা করি এই দৃষ্টান্তমূলক রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ