সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
নতুন বিধিমালা জারি - মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট বসানোর জটিলতা দূর ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে অস্থিতিশীলতার সুযোগ নেই: মাহদী আমিন সূচকের পতনে লেনদেন শেষ বাপাজসের গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক হলেন নোবিপ্রবির ইফতেখার হোসাইন সিল ৫ গাড়ির মালিকদের নিয়ে বিওয়াইডি বাংলাদেশের গেট-টুগেদার ‘বাংলাদেশ বিজনেস অ্যানালাইসিস সামিট ২০২৬’: ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তিবিদদের ভার্চুয়াল ও সরাসরি মিলনমেলা স্বল্প সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাওয়ার গ্রিডের পর্ষদ সভা ৮ নভেম্বর ডেসকোর পর্ষদ সভা ৫ নভেম্বর
advertisement
আইন-আদালত

ময়মনসিংহে স্কুলছাত্র আকাশ হত্যা

দুই ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড, বাবা-চাচার ৭ বছরের কারাদণ্ড

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশকে (১৫) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দুই ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার দায়ে অপর দুই আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ সামছুদ্দিন বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-সদর উপজেলার ভূগলী নয়াপাড়া গ্রামের নাজমুল হক (২৬) ও তার ভাই এনামুল হক। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন তাদের বাবা জিয়াউল হক (৫৭) ও চাচা জুলহাস উদ্দিন (৩৭)।

রায় ঘোষণার সময় নাজমুল হক, জিয়াউল হক ও জুলহাস উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এনামুল হক পলাতক থাকায় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোঃ আবু হানিফ খান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোঃ রফিকুল ইসলাম খান।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত সৈকত হাসান আকাশ সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জিয়াউল হকের মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়ের পরিবার ওই সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে পরিকল্পিতভাবে আকাশকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে মেয়েটিকে দিয়ে আকাশকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়।

আকাশ নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ঘটনার দুই দিন পর ২১ মে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোঃ আকরাম হোসেন ২০২১ সালের ২২ মে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় ১৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেন।

ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পি.এস.এম. মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, রায় ঘোষণার পর আদালতে উপস্থিত তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামি এনামুল হককে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

▐ সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ