সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬
সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
সরকারি দপ্তরে এআই ব্যবহারে সতর্কতার নির্দেশ বিক্রয় ও মুনাফায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিতে কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করলো ওয়ালটন নিখোঁজের ১০ দিন পর কাস্টম সিপাহীর মরদেহের ১৫ টুকরো উদ্ধার তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রী বেনজীর আহমেদকে শিগগিরই ফিরিয়ে আনার আশা সরকারের: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রায়পুরায় আধিপত্যের জেরে প্রতিপক্ষের গুলিতে কৃষক নিহত, আহত ৫ ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর - আয়কর রিটার্ন জমা দিলেই মিলবে কর ছাড়ের সুবিধা সূচকের মিশ্রাবস্থায় লেনদেন শেষ সিটি ব্যাংকের অর্ধবার্ষিক মুনাফা বেড়েছে গ্যালাক্সি এ২৭ ৫জি নিয়ে কী প্রত্যাশা করছেন প্রযুক্তিপ্রেমীরা
advertisement
আইন-আদালত

শিশু আয়াতকে কেটে ৬ টুকরো

আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা

চট্টগ্রাম মহানগরের ইপিজেড এলাকায় বহুল আলোচিত শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি আবির আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার এই টাকা ভুক্তভোগী শিশু আয়াতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানের আদেশ দেওয়া হয়।

বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আবীর আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ মামলায় ৩৩ জন সাক্ষ্য দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবির আলীর বাড়ি রংপুর জেলায়। ঘটনার সময় সে চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের নয়ারহাট এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জালাল উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যার অপরাধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর পাশাপাশি লাশ টুকরো টুকরো করে প্রমাণ লোপাট ও গুম করার অপরাধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তাকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর বিকেলে ঘরের পাশে মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় আলিনা ইসলাম আয়াত। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে ইপিজেড থানায় জিডি করে পরিবার। পরে পরিবারের আবেদনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করে।

পরবর্তীতে ঘটনার তদন্তে নেমে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রতিবেশী আবির আলীকে আটক করে।

জিজ্ঞাসাবাদে আবির স্বীকার করে, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করেছিল সে। কিন্তু আয়াত চিৎকার শুরু করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর লাশটি লুকিয়ে রেখে পরে ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে ছয় টুকরো করে আকমল আলী ঘাটের স্লুইচ গেট সংলগ্ন সাগরে ও সংলগ্ন নালায় ভাসিয়ে দেয়। 

আবিরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, আয়াতের জুতা এবং পরবর্তীতে স্লুইস গেটের একটি গর্ত থেকে খণ্ডিত মাথা ও দুই পা উদ্ধার করে পিবিআই। এছাড়া, আবিরের বাসায় পাওয়া রক্তের ছিটার ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশু আয়াতের রক্তের মিল পাওয়া যায়।

তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মনোজ কুমার দে আদালতে আবির আলীকে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যালোচনা করে আদালত আজ এই সর্বোচ্চ শাস্তির রায় প্রদান করেন।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ