শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
বিনোদন

প্রথম দিনেই দর্শকদের প্রশংসায় ভাসছে ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখারপুল’

শুক্রবার (১২ জুন) মুক্তিপ্রাপ্ত রাজনৈতিক স্যাটায়ারধর্মী চলচ্চিত্র ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখারপুল’ মুক্তির প্রথম দিনেই দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। দিনভর বৈরী আবহাওয়া ও থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে প্রেক্ষাগৃহে আসতে দর্শকদের কিছুটা ভোগান্তির শিকার হতে হলেও উপস্থিতি ছিল আশাব্যঞ্জক। রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্স (বসুন্ধরা সিটি) এবং কেরানীগঞ্জস্থ লায়ন সিনেমাস-এ প্রদর্শিত বিভিন্ন শোতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার দর্শকদেরও ছবিটি দেখতে দেখা যায়।

মুক্তির প্রথম দিন বিকেলের  শো শেষে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক, নির্বাহী প্রযোজক ও কলাকুশলীরা। এ সময় উপস্থিত দর্শকদের অনেকেই ছবিটির সাহসী রাজনৈতিক বক্তব্য, নির্মাণশৈলী এবং সমসাময়িক বাস্তবতাকে পর্দায় তুলে ধরার প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। দর্শকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিচিত বাস্তবতা—হল কালচার, গেস্টরুম, ক্ষমতার রাজনীতি, “বড় ভাই” সংস্কৃতি এবং তরুণদের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন—হাস্যরস, ব্যঙ্গ এবং গভীর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে চলচ্চিত্রটিতে ফুটে উঠেছে এবং রাজনীতিবিদদের নানা অন্ধকার দিক অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও সাহসীভাবে উপস্থাপন করেছে এই তরুণ নির্মাতা দল। এই চলচ্চিত্রকে ইতোমধ্যে সমালোচক ও দর্শক মহলে একটি ব্যতিক্রমধর্মী রাজনৈতিক স্যাটায়ার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 

একজন দর্শক বলেন, “ছবিটি নিয়ে খুব বেশি প্রচারণা চোখে পড়েনি, কিন্তু সিনেমাটি দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ। গল্প বলার ধরন এবং রাজনৈতিক বাস্তবতাকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা অসাধারণ লেগেছে।”

আরেকজন দর্শক বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের নানা বাস্তব চেহারা যেভাবে ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে, এরপরও কীভাবে ছবিটি সেন্সর অনুমোদন পেল—এটাই আমার কাছে বিস্ময়কর।”

চলচ্চিত্রটির পরিচালক আকাশ হক এবং নির্বাহী প্রযোজক মোঃ হাফিজউদ্দিন মুন্না জানান, প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন পর্ব শেষ হওয়ার পর দেশের প্রায় ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ফিল্ম ক্লাবের সহযোগিতায় বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্বল্প খরচে শিক্ষার্থীদের কাছে ছবিটি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে তারা বলেন, “দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখারপুল মূলত তরুণদের গল্প, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের গল্প এবং আমাদের সময়ের গল্প। আমরা চাই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সহজে ও স্বল্প খরচে ছবিটি দেখার সুযোগ পাক। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সম্ভাব্য পৃষ্ঠপোষকদের সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসতে আগ্রহী অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি আমাদের পাশে দাঁড়াবেন।”

কানাডা প্রবাসী কবি, লেখক ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা রোকসানা লেইস বলেন, “বাংলাদেশে এসে অনেকদিন পর প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখলাম। ক্যামেরার সামনে এবং পেছনে একদম নতুন এই তরুণদের টিমওয়ার্ক দেখে আমি মুগ্ধ। সীমিত বাজেটে তারা যে আন্তরিকতা, সাহস এবং দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও তারা যেন সত্য ও বাস্তবতাকে সাহসের সঙ্গে তুলে ধরে আরও ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণ করে, সেই প্রত্যাশাই করি।”

অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, লেখক ও চলচ্চিত্র সমালোচক শেখ হাফিজুর রহমান সজল বলেন, “চলচ্চিত্রটি আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। বিশ্ববিদ্যালয়, তরুণ প্রজন্ম, ছাত্ররাজনীতি, সমাজনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের দেশে খুব কম চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখারপুল’ সেই বাস্তবতাগুলোকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক স্যাটায়ারের মাধ্যমে তুলে ধরেছে। স্বল্প বাজেটে, পরিচিত তারকা শিল্পীদের বাইরে একদল নতুন মুখ নিয়ে এমন মানসম্পন্ন নির্মাণ সত্যিই প্রশংসনীয়। চিত্রগ্রহণ, কারিগরি নির্মাণ এবং সমসাময়িক ছাত্র আন্দোলনের উপস্থাপনাও ছিল চমৎকার। আমি মনে করি, এই তরুণ নির্মাতারাই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে নতুন এক সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের উৎসাহিত করতে আমাদের আরও বেশি হলমুখী হতে হবে এবং বাংলাদেশি গল্প ও বাস্তবতাভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণকে সমর্থন করতে হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, হল সংস্কৃতি, ছাত্ররাজনীতি, ক্ষমতার বলয় এবং তরুণদের স্বপ্ন-সংগ্রামের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখারপুল’ চলচ্চিত্রটি রনো আনোয়ারের ছোটগল্প ‘ঝরা পাতার দুঃখ বিলাস’ থেকে অনুপ্রাণিত। ইতোমধ্যে চলচ্চিত্রটি ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (DIFF)-এর বাংলাদেশ প্যানোরামা বিভাগে FIPRESCI Award অর্জন করেছে। এছাড়া আমার ভাষার চলচ্চিত্র উৎসব-এ হীরালাল সেন পদক এবং সেরা চিত্রনাট্য পুরস্কার লাভ করে সমালোচক মহলেও বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন বি টিম লিমিটেড, পাওয়ার্ড বাই পার্টনার আই ক্রিয়েশন এবং ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার এইচ এম প্রোডাকশন এন্ড মাল্টিমিডিয়া 

চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন দেবদ্যুতি আইচ, রকি খান, ববি বিশ্বাসসহ একঝাঁক তরুণ শিল্পী। ছবির জনপ্রিয় গান ‘সহমত ভাই’ এবং ‘রাজনীতির ময়দান’ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বর্তমানে চলচ্চিত্রটি রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্স (বসুন্ধরা সিটি) এবং কেরানীগঞ্জস্থ লায়ন সিনেমাস-এ প্রদর্শিত হচ্ছে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ