আসন্ন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন না জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা বাপ্পারাজ। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
চলচ্চিত্র অঙ্গনে বেশ কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল, আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বাপ্পারাজ। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনার ইতি টেনে নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বাপ্পারাজের নেতৃত্বে যে প্যানেল গঠনের প্রস্তুতি চলছিল, সেখানে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তির।
বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমকে বাপ্পারাজ ও রুমানা ইসলাম মুক্তি দুজনেই নিশ্চিত করেছেন, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এই অভিনেতা।
গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মুক্তি জানান, মঙ্গলবার বাপ্পারাজ তাকে একটি ক্ষুদেবার্তায় বিষয়টি জানিয়েছেন।
মুক্তি বলেন, “এটা সত্য, বাপ্পারাজ ভাই পারিবারিক কারণ দেখিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন। নির্বাচনের আর খুব বেশি সময়ও বাকি নেই। তবে আমি ভেঙে পড়ার মতো মানুষ নই। অবশ্যই সৎ ও যোগ্য একজন প্রার্থীকে সভাপতি পদে দাঁড় করাবো, ইনশাআল্লাহ। বাপ্পা ভাইয়ের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”
তিনি আরও জানান, বাপ্পারাজ সরে দাঁড়ানোয় তাদের প্যানেলের সভাপতি পদে এখন কে প্রার্থী হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে আশা করছেন তিনি।
ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা ও অন্যান্য কারণে বর্তমানে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে নেই বলে মনে করছেন এই অভিনেতা। ফলে সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন তিনি।
এ বিষয়ে বাপ্পারাজ বলেন, “শিল্পী সমিতি আমার নিজের সংগঠন। সব সময় শিল্পীদের পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব। তবে ব্যক্তিগত কিছু কারণে এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সবার জন্য শুভকামনা রইল।”
এদিকে বাপ্পারাজের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর খবরে চলচ্চিত্রাঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সভাপতি পদে এখন কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা নিয়ে শিল্পী ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই চলচ্চিত্রাঙ্গনে নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন প্যানেল ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল মিশা সওদাগর ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল নেতৃত্বাধীন কার্যনির্বাহী পরিষদের (২০২৪-২০২৬) মেয়াদ শেষ হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী শিগগিরই ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন শিল্পী সমিতির সদস্যরা।