বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক বিজয়: প্রধানমন্ত্রী ৫ আগস্ট যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ বাংলাদেশে সৌদি আরবের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সূচকের মিশ্রাবস্থায় লেনদেন শেষ দুই বছরেও উদ্ধার হয়নি ৪ আগস্টের অবৈধ অস্ত্র, ৯ মামলার মধ্যে ৩টির চার্জশিট নোয়াখালীতে ডাকাতির তিন দিন পর ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার ভারত থেকে এলো ৯ টন কাঁচামরিচ নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে আইনি ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
advertisement
শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি

প্রাথমিকে পোষ্য কোটা বাদ, ৯৩ শতাংশ শিক্ষক নিয়োগ হবে মেধায়

কর্পোরেট সংবাদ ডেস্ক : অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৩ শতাংশ শিক্ষকই মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগে পোষ্য কোটা থাকছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বিভাগটির বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিধান রঞ্জন রায় বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক নিয়োগে প্রি-সার্ভিস প্রশিক্ষণের ওপর আমরা গুরুত্বারোপ করছি। এখন প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রাথমিকের বাজেট বাড়ানোটাই সময়ের দাবি।

প্রাথমিক পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য সমাজের সব স্তরের মানুষের সামগ্রিক অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

এ সময় উপদেষ্টা প্রাথমিক স্কুলে ‘মিড ডে মিল’ চালু করা নিয়েও কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে কক্সবাজার ও বান্দরবানসহ দেশের কিছু স্কুলে ‘মিড ডে মিল’ চালু আছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সবগুলো প্রাথমিকে এটি চালু করা হবে। এ সংক্রান্ত প্রকল্পটি একনেকে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১৫০টি উপজেলার সব স্কুলে এই ‘মিড ডে মিল’ চালু হবে।

বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার পরে একই স্থানে ‘মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে মতবিনিময়’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।

বিভাগীয় কমিশনার ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি জয়দেব চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এ সময় বিভিন্ন জেলার প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভাগীয় ও জেলা শিক্ষা অফিসার, পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট, থানা শিক্ষা অফিসারসহ প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা সরাসরি ও অনলাইনে অংশ নেন।

জানা গেছে, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০১৯’ অনুসারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ বিধিমালা-২০১৯ এ বলা হয়েছে, একটি উপজেলার মোট পদের ৬০ শতাংশ নারী, ২০ শতাংশ পোষ্য ও ২০ শতাংশ পুরুষ কোটা নির্ধারিত থাকবে।

নারী, পোষ্য ও পুরুষ- এ তিন ধরনের কোটা পূরণের ক্ষেত্রে আবার চার ধরনের কোটা অনুসরণ করতে হতো। সেগুলো হলো- এতিমখানা নিবাসী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ১০ শতাংশ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ৩০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ৫ শতাংশ এবং আনসার ও ভিডিপি সদস্য ১০ শতাংশ।

তাছাড়া তিন কোটার প্রতিটি ক্যাটাগরিতে অবশ্যই ২০ শতাংশ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তবে এভাবে তিন কোটায় বিজ্ঞান বিষয়ের যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধারভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া যাবে। কোটা বাদ দিয়ে বাকি পদগুলোতে শুধু মেধারভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হতো। সেটা ৪০ শতাংশের বেশি নয়।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে চলতি বছরের ২৩ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোটা-সংক্রান্ত আগের সব পরিপত্র, প্রজ্ঞাপন, আদেশ, নির্দেশ, অনুশাসন রহিত করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রজ্ঞাপন অনুসারে, সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরির সব গ্রেডে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে ৯৩ শতাংশ। বাকি ৭ শতাংশ নিয়োগ কোটার ভিত্তিতে হবে।

ফলে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করা হবে নাকি জনপ্রশাসনের সবশেষ কোটা বণ্টনের প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করা হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। অবশেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিষয়টি স্পষ্ট করলেন। ফলে আগামীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯৩ শতাংশ মেধা এবং ৭ শতাংশ কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হতে পারে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ