রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
শিরোনাম
ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন পরিদর্শন করেছেন জহির হোসেন স্পারসোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ম্যালওয়্যার ছড়ানোর নতুন কৌশল শনাক্ত: ক্যাসপারস্কি রহিমআফরোজ ডিস্ট্রিবিউশনের নতুন RZ Solar IPS উন্মোচন আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে ওরিয়েন্টশন ট্রেনিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ - চূড়ান্ত হলো শেষ ৩২-এর সূচি: জেনে নিন কার প্রতিপক্ষ কে? সংসদে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব ব্যারিস্টার খোকনের পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন হলে ২৬ জেলার ১৬৩ উপজেলা উপকৃত হবে : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী যমুনা অয়েলে চেয়ারম্যান নিয়োগ পাওনা টাকা আদায়ে অটোরিকশাচালককে শিকলে বেঁধে নির্যাতন
advertisement
অর্থ-বাণিজ্য

সিটিব্যাংকসহ ৯ ব্যাংকের কনসোর্টিয়ামকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিটি ব্যাংক লিমিটেড ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। এ লক্ষ্যে আরও ৯টি ব্যাংক নিয়ে একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করা হয়। এই কনসোর্টিয়ামকে এবার লাইসেন্স দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই ‘ডিজি টেন ডিজিটাল ব্যাংক’ কে লাইসেন্স দেওয়া হবে। এজন্য খুব শীগ্রই নীতিমালা জারি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেহেতু এসব ব্যাংকের আগে থেকে ব্যাংক লাইসেন্স আছে, তাই তারা শুধু আলাদা একটি ডিজিটাল ব্যাংক উইং খুলে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। আর এই প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স ফি বাবদ ২ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।

ডিজি১০ ব্যাংক পিএলসি এর স্পন্সর বা উদ্যোক্তাদের মধ্যে রয়েছে- মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি), ইস্টার্ণ ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল), ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড (ডিবিবিএল), ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক (এনসিসিবি) ও মিডল্যান্ড ব্যাংক।

প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন হবে ১২৫ কোটি টাকা। এতে সিটি ব্যাংক ১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ করবে, যা পরিশোধিত মূলধনের ১১.১১ শতাংশ।

ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় আগ্রহীদের কাছ থেকে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করা হয়। অনলাইনে আবেদন জমা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে আলাদা একটা পাতাও খুলেছিলো। সেখানে গিয়ে আগ্রহীরা আবেদন জমা দিতে পেরেছিলো। আবেদন ফি বাবদ বাংলাদেশ ব্যাংককে অফেরতযোগ্য পাঁচ লাখ টাকা জমা দিতে হয়েছিলো।

একেকটি ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের জন্য ন্যূনতম মূলধন লাগবে ১২৫ কোটি টাকা। প্রচলিত ধারার ব্যাংক করতে প্রয়োজন হয় ৫০০ কোটি টাকা। ডিজিটাল ব্যাংকের প্রত্যেক উদ্যোক্তাকে কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা মূলধন জোগান দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক লাইসেন্স বা সনদ দেয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে এই ব্যাংককে দেশের পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার ছাড়তে হবে। আইপিওর পরিমাণ হতে হবে উদ্যোক্তাদের প্রাথমিক অবদানের ন্যূনতম পরিমাণের সমান।

এই ব্যাংক স্থাপনে উদ্যোক্তাদের অর্ধেককে হতে হবে প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং, উদীয়মান প্রযুক্তি, সাইবার আইন ও বিধিবিধান বিষয়ে শিক্ষা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। বাকি অর্ধেককে হতে হবে ব্যাংকিং, ই-কমার্স এবং ব্যাংকিং আইন ও বিধিবিধান বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। ডিজিটাল ব্যাংককে কোম্পানি আইন অনুযায়ী প্রচলিত ব্যাংকের মতো সময়ে সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত ন্যূনতম নগদ জমা (সিআরআর) ও বিধিবদ্ধ জমা (এসএলআর) বজায় রাখতে হবে।

কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা তার পরিবারের কোনো সদস্য প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা হতে পারবেন না। এক পরিবার থেকে সর্বোচ্চ কতজন পরিচালক হতে পারবেন, তা ঠিক করা হবে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী। ডিজিটাল ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) ব্যাংকিং পেশায় কমপক্ষে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে- যার মধ্যে প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং, রেগুলেশন, গাইডলাইন, সার্কুলার ইত্যাদি ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

গ্রাহকদের লেনদেনের সুবিধার্থে ডিজিটাল ব্যাংক ভার্চুয়াল কার্ড, কিউআর কোড ও অন্য কোনো উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক পণ্য দিতে পারবে। লেনদেনের জন্য কোনো প্লাস্টিক কার্ড দিতে পারবে না। অবশ্য এই ব্যাংকের সেবা নিতে গ্রাহকরা অন্য ব্যাংকের এটিএম, এজেন্টসহ নানা সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। ডিজিটাল ব্যাংক কোনো ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারবে না। বড় ও মাঝারি শিল্পেও কোনো ঋণ দেয়া যাবে না। শুধু ছোট ঋণ দিতে পারবে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ