ময়মনসিংহ নগরীতে রাজিব পরিবজনের যাত্রীবাহী বাসের সাথে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজিচালকসহ সাতজন নিহতের ঘটনায় মামলার পর থেকে পলাতক বাস চালক ইকবাল হোসেনকে (৪৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার ইকবাল হোসেন গাজীপুর জেলার সদর উপজেলার পালের পাড়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিনগত রাত দেড়টায় গাজীপুর জেলার বাসন থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম বাস চালক ইকবাল হোসেনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলার পর থেকে থেকে বাস চালক ইকবালকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছিল। বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর জেলার বাসন থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ইকবালকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (২ অক্টোবর) ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজীব পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস জামালপুরের দিকে যাচ্ছিল। দুপুর দেড়টার দিকে ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকা পর্যন্ত আসতেই বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে বাসের ভেতরে ঢুকে যায়।এ সময় ঘটনাস্থলেই সাতজন মারা যান।
নিহত সাতজনই জামালপুর জেলার বাসিন্দা। এর মধ্যে একই পরিবারের চারজন হলেন জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)। নিহত অন্য তিনজন হলেন একই উপজেলার বীর গোবিন্দপুর গ্রামের অটোরিকশাচালক মো. সুজন আলী (৪৪) এবং বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৫১) ও তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ওই দিন সন্ধ্যায় জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মোবারক আলী বাদী হয়ে চালককে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে রাত ১২টার পর সেটি মামলা হিসেবে রুজু হয়। ওই দুর্ঘটনায় মা, ভাই, ভাতিজি ও নাতিকে হারিয়েছেন তিনি।মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার পর থেকেই ঘাতক বাসচালক পালিয়ে ছিলেন।