রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
আগামী মাস থেকে চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’: প্রবাসীদের জন্য থাকছে বিশেষ সুবিধা তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ৫ মাস: জনগণের আস্থা অর্জনেই মূল লক্ষ্য ইসলামী ব্যাংক চট্টগ্রাম অঞ্চলের অর্ধ-বার্ষিক ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত ২০ জুলাই প্রকাশ হচ্ছে না এসএসসির ফল ৩১ দফা ও জুলাই সনদ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সুশাসনের ভিত্তি: এনআরবিসি ব্যাংকের এমডি বায়ু-শব্দদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পিরিয়ডের ব্যথা নিয়ে সচেতনতার বার্তা দিল সোফি বাংলাদেশ নিবেদিত 'মনের কথা'-এর তৃতীয় পর্ব বৃক্ষরোপন প্রকল্পে দুর্নীতি - বাঁশ ও গোবর সার কাণ্ডে সাতক্ষীরা সদর কৃষি কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ নোয়াখালীতে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে কৃষি কর্মকর্তা নিহত
advertisement
সারাদেশ

ভারতীয় নাগরিক রেশমাকে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে পুশইনের অভিযোগ, দেশে ফিরতে ঘুরছে পথে পথে

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশে পুশইন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শুধু ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকই নয়, ভারতীয় নাগরিকদেরও বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় এমনই এক নারী, রেশমা বিবির সন্ধান পাওয়া যায়। তার সঙ্গে রয়েছে একটি শিশু সন্তান। চোখেমুখে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার ছাপ নিয়ে তিনি দেশে ফেরার উপায় খুঁজে বেড়াচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে মানবিক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

রেশমা বিবি ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পাকুর জেলার মহেশপুর থানার খাগড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী রাজু শেখ এবং পিতা বুলু শেখ। তিনি দুই সন্তানের জননী।

রেশমা জানান, তিনি ভারতীয় নাগরিক। জীবিকার তাগিদে মুম্বাইয়ে একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সেখান থেকে ভারতীয় পুলিশ কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে তাকেও সন্তানসহ আটক করে। তিনি বারবার নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। পরে তাকে অন্যদের সঙ্গে বিমানে কলকাতায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে গভীর রাতে চট্টগ্রাম বিভাগের এক সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বাংলাদেশে তার কোনো আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত না থাকায় তিনি চরম বিপাকে পড়েন। পরে স্থানীয় পথচারীরা তাকে সহায়তা করে বাসে তুলে বেনাপোলে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে তিনি নিজ দেশে স্বামী ও সন্তানের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য চেকপোস্ট এলাকায় ঘুরছেন। তার আর এক সন্তান মুম্বাইয়ের একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। সে সেখানকার একটি হোস্টেলে থাকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি ও তার সাথে থাকা শিশু সন্তান অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সীমান্তবাসীরা বলেন, যদি রেশমা প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় নাগরিক হন, তাহলে মানবিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে নিজ দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দুই দেশের কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমাদের করণীয় তেমন কিছু নেই। বিষয়টির সমাধান হয়তো বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে হতে পারে।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোর-এর নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, এ বিষয়ে আসলে আমাদের করণীয় কিছু নেই। এটি দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধান হওয়া প্রয়োজন। আইনি জটিলতা এড়াতে এবং মা-শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা এবং বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।

এদিকে সীমান্তে ভারতীয় নাগরিক দাবি করা নারী চেকপোস্ট এলাকায় চলাফেরা করলেও এ বিষয়টি নিয়ে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি সেখানে অবস্থানরত আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর মধ্যে। তবে বিষয়টি তারা তাদের কর্মকর্তাদের অবহিত করবে বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ