হোম শিরোনাম কেন এই পরিবহণ ধর্মঘট?

    কেন এই পরিবহণ ধর্মঘট?

    সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : at 11:26 am
    100
    0

    ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) জরিপ অনুযায়ি একদিনের হরতাল, অবরোধ অথবা পরিবহণ ধর্মঘটের কারণে দেশের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দৈনিক প্রায় দুই হাজার ২৭৭ কোটি টাকা। শিল্প উৎপাদন হিসেব করলে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি।

    দেশের এই আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সরকারের শীর্ষ মহল থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী সবাই অবগত। গত দুইদিনে পরিবহণ ধর্মঘটের কারণে দেশের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ খুব সহজেই হিসাবযোগ্য। কিন্তু কেন এই পরিবহণ ধর্মঘট? দেশে যখন একটি বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে, তখন এ ধরণের কর্মসূচী দেয়া যে অযৌক্তিক, সেটা জোর দিয়েই বলা যায়।

    Spellbit Limited

    সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ সংসদে পাস হওয়ায় সেই আইনের বিভিন্ন ধারার ব্যাপারে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। কিন্তু সেই প্রতিবাদ যদি হয় জনগণকে জিম্মি করা, দেশের আমদানি-রফতানি ব্যহত করা, অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত আটকিয়ে শিশু হত্যা করা-তা অবশ্যই নিন্দনীয়।

    যে কোন সমস্যার জন্য আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব।  দেশের অর্থনীতি এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী ধর্মঘট কোনোভাবেই কাম্য নয়। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এবং দেশের প্রচলিত নিয়মের মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে।

    আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, এ ধরণের কর্মসূচীর ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। বিদেশি ক্রেতাদের কাছে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। পরিবহণ ধর্মঘটের কারণে ফসল জমিতে নষ্ট হয়, অতিরিক্ত দাম দিয়ে ভোক্তাকে পণ্য কিনতে হয়, রপ্তানির ক্ষেত্রে জাহাজিকরণ ব্যাহত হয়। ফলে, ক্ষতির মুখে পড়তে হয় রফতানিকারকদের।

    সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখা প্রয়োজন। কারণ, শ্রমিকদের দাবি বিবেচনার দাবি রাখে। উন্নত বিশ্বের সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক দুর্ঘটনাস্থলেই অস্থায়ী আদালত বসে, উভয় পক্ষের শুনানী শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উৎঘাটন পূর্বক তাৎক্ষণিক রায় দেয়া হয়। এতে করে দোষী চালক, যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কিছু-সেটা সহজেই বেড়িয়ে আসে। কিন্তু আমাদের দেশের সড়ক দুর্ঘটনা হলেই আসামী কাঠগড়ায় চালককে দাঁড় করানো হয়-এটাই ঠিক না।

    এছাড়া বাসা মালিকদের সচেতনতাও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ভূমিকা রাখতে পারে। বাসের ফিটনেস যেমন রাখা দরকার, তেমনি একজন চালক যাতে ছয় ঘন্টার বেশি গাড়ি না চালান সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

    তবে, সবকিছু উর্দ্ধের আমাদের দেশ। এই দেশের অর্থনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টি করে, দেশের ক্ষতি করে, জনগণকে জিম্মি করে কোন দাবি আদায়ের নামে অনাকাঙ্খিত আন্দোলন কখনোই দেশের মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না।

    আরো পড়ুন: ‘বস্ত্র আইন-২০১৮’, অভিভাবক পেল বায়িং হাউজ