বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
খেলাধুলা

আবুধাবি টেস্টে নাটকীয় ড্র

বাংলাদেশকে জিততে দিল না আফগানিস্তান

জয়ের হাতছানি ছিল স্পষ্ট, কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার চড়া মাশুল গুনতে হলো বাংলাদেশকে। আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একমাত্র দ্বিপাক্ষিক টেস্টে বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ লড়াই চালায় আফগানিস্তান। পঞ্চম ও শেষ দিনের শেষ সেশনে দুটি রান আউট মিস এবং একটি সহজ ক্যাচ ফেলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে নাটকীয়ভাবে ম্যাচটি ড্র করতে সমর্থ হয়েছে আফগানরা।

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান দ্বিপাক্ষিক টেস্ট ইতিহাসের এটিই প্রথম ড্র। এর আগের দুটি টেস্টের মধ্যে একটি করে জিতেছিল দুই দলই।

৪৭৯ রানের লক্ষ্য ও আফগানদের কঠিন লড়াই
ম্যাচে জয় পেতে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করতে হয়। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের জবাবে ২৪০ রান করেছিল আফগানিস্তান। ফলে আফগানদের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রান।

চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩২ রান তুলেছিল আফগানিস্তান। টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে আফগানদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আরও ৩৪৭ রান, অন্যদিকে টাইগারদের দরকার ছিল ৭টি উইকেট।

পঞ্চম দিনের শুরুতেই অবশ্য বড় ধাক্কা খায় আফগানিস্তান। ব্যক্তিগত ১৯ রানে থাকা অবস্থায় ফিল্ডারের থ্রো পায়ে এসে লাগলে আহত অবসর (রিটায়ার্ড হার্ট) নিয়ে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক হাসমতুল্লাহ শাহিদি। তবে এরপর ক্রিজে এসে সেদিকুল্লাহ আতালের সাথে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ইকরাম আলিখিল। বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়ে ১৪৭ বল খেলে হাফ-সেঞ্চুরির জুটি গড়েন তারা।

আতালের ইতিহাস এবং টাইগারদের ব্রেক-থ্রু
দলীয় ২০২ রানে ইকরামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত ব্রেক-থ্রু এনে দেন পেসার এবাদত হোসেন। এরপর নামা ইসমাত আলমকে সাথে নিয়ে দেখেশুনে রান তুলতে থাকেন ওপেনার আতাল। ১২৩ বলে ৪০ রানের ধৈর্যশীল জুটির মাঝেই ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান সেদিকুল্লাহ আতাল। একই সাথে আফগানিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে চতুর্থ ইনিংসে সেঞ্চুরি করার অনন্য কীর্তি গড়েন এই বাঁ-হাতি ওপেনার।

আতালের শতকের পরপরই ইসমাতকে (৬০ বলে ৪) প্রথম স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচে পরিণত করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। এরপর আবারও মাঠে ফেরেন আহত অবসর নেওয়া শাহিদি। আতাল ও শাহিদি মিলে দলের খাতায় ২২ রান যোগ করার পর মিরাজের বলেই উইকেট ছেড়ে খেলতে গিয়ে মিড অন ফিল্ডার হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দেন শাহিদি (৬৯ বলে ৩৬)।

দলীয় ২৮১ রানে স্পিনার তাইজুল ইসলামের বলে শর্ট লেগে তানজিদ হাসানের ক্যাচে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন সেঞ্চুরিয়ান আতাল। ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩৩২ বলে ১১১ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন তিনি।

সুযোগ মিসের মহড়া ও নাটকীয় সমাপ্তি
২৮১ রানে ৭ম উইকেট হারানোর পর ম্যাচের বাকি ছিল ২১ ওভার। টেস্ট জিততে শেষ ২৩ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র ৩ উইকেট। কিন্তু এই কঠিন মুহূর্তে চাপ ধরে রাখতে পারেনি টাইগার ফিল্ডাররা।

১২২তম ওভারের প্রথম দুই বলের মধ্যেই দুটি সহজ রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ, ফলে নতুন জীবন পান ইয়ামিন আহমাদজাই ও কাইস আহমাদ। এখানেই শেষ নয়; ১৩১তম ওভারে মিরাজের বলে ডিপ মিড উইকেটে কাইস আহমাদের দেওয়া একটি অতি সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন হাসান মাহমুদ।

জীবন পেয়ে এই দুই ব্যাটার দলকে চালকের আসনে নিয়ে যান। অবশেষে ১৩৭তম ওভারে মিরাজের বলে মোমিনুল হকের হাতে ক্যাচ দিয়ে আহমাদজাই (৮৫ বলে ১৯) বিদায় নিলে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়। তবে নবম উইকেটে কাইস ও জিয়া উর রহমান দিনের নির্ধারিত শেষ ৩ ওভার কাটিয়ে দেন। ম্যাচের গুরুত্ব ও রোমাঞ্চ বিবেচনায় অন-ফিল্ড আম্পায়াররা অতিরিক্ত ৫ মিনিট ও ২ ওভার খেলা বাড়িয়ে দেন। কিন্তু সেই অতিরিক্ত ২ ওভারও সতর্কতার সাথে পার করে দিয়ে নিশ্চিত হার থেকে ম্যাচ ড্র করে মাঠ ছাড়ে আফগানরা।

৮০ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন নয় নম্বরে নামা কাইস আহমাদ। অন্যপ্রান্তে ১২ বল খেলে ০ রানে অপরাজিত ছিলেন জিয়া উর রহমান। ১৪২ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে দিন শেষ করে আফগানিস্তান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৩৪৬/১০, ৯২.৩ ওভার।
আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস : ২৪০/১০, ৮৯.১ ওভার।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ৩৭২/৭ ডি, ১০৫.২ ওভার (লিটন ১০২, শান্ত ৮২, মুশফিক ৮১, মিরাজ ৫২*, সালিম ২/৬৯)।
আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস (টার্গেট- ৪৭৯) : ৩৪৬/৮, ১৪২ ওভার (আতাল ১১১, রহমত ৫১, কাইস ৪৯*, এবাদত ৩/৫০, মিরাজ ৩/৭৩)।
ফল : ড্র।
ম্যাচ সেরা : লিটন দাস (বাংলাদেশ)।

▐ সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ