সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
পাওয়ার গ্রিডের পর্ষদ সভা ৮ নভেম্বর ডেসকোর পর্ষদ সভা ৫ নভেম্বর ডরিন পাওয়ারের পর্ষদ সভা ৫ নভেম্বর ৪ নভেম্বর নাহি অ্যালুমিনিয়ামের পর্ষদ সভা কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আবহাওয়ার আগাম বার্তা পাবেন কৃষকরা গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ভর্তুকি ৫০০ কোটি টাকা কমাতে চায় টিসিবি, লক্ষ্য আর্থিক স্বনির্ভরতা ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ - ফেঁসে গেলেন সিএমপি'র এসি শরীফুলসহ ৩ পুলিশ এইচএসসির ফলাফলে ৯ বোর্ডে ৮ম যশোর, - এবার যশোর বোর্ডে ইংরেজি ও আইসিটিতে ফেলের ধাক্কায় ফল বিপর্যয় চামড়া শিল্পের বিকাশে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২ হাজার কোটি টাকার স্কিমে মেঘনা ব্যাংক
advertisement
খেলাধুলা

আফগানিস্তানের সাবেক পেসার শাপুর জাদরান আর নেই

আফগানিস্তানের সাবেক ক্রিকেটের পেসার শাপুর জাদরান আর নেই। দীর্ঘদিন বিরল ও জটিল রোগে ভোগার পর ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩৮ বছর।

দীর্ঘদিন ধরে শাপুর জাদরান হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস (এইচএলএইচ) নামে বিরল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। রোগটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় করে তোলে, যার ফলে অতিরিক্ত প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং ধীরে ধীরে শরীরের একাধিক অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গত বছরের অক্টোবরে প্রথম অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে আফগানিস্তানের চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের দিল্লিতে নেওয়া হয়। চিকিৎসার শুরুতে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও মাত্র ২০ দিনের মাথায় আবারও অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর থেকে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সব চিকিৎসা প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান আফগানিস্তানের এই সাবেক গতি তারকা।

শাপুর জাদরানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক শোকবার্তায় বোর্ড জানায়, ‘পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে শাপুর আফগানিস্তান ক্রিকেটকে সম্মান, সাহস ও গর্বের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার অবদান ও অর্জন আফগানিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জাতীয় দলের জন্য তার নিবেদন কখনোই ভোলা যাবে না।’

শোকবার্তায় আরও বলা হয়, ‘মাঠের সাফল্যের বাইরেও শাপুর জাদরান ছিলেন অসংখ্য তরুণ আফগান ক্রিকেটার ও বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীদের অনুপ্রেরণার উৎস। তার লড়াকু মানসিকতা, দৃঢ়তা এবং ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা নতুন প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং আফগানিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যতের ওপর বিশ্বাস রাখতে অনুপ্রাণিত করেছে।’

২০০৯ সালে আফগানিস্তানের হয়ে অভিষেক হয় জাদরানের। ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশের হয়ে ৪৪টি এক দিনের ম্যাচ এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর ৮০টি উইকেট রয়েছে। তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল ২০২০ সালে, তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি আরও কিছুদিন খেলেছেন এবং ২০২২ সালে শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেন।

আফগানিস্তান ক্রিকেটের উত্থানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল শাপুর জাদরানের। তার গতি, সুইং এবং আক্রমণাত্মক বোলিং দীর্ঘ সময় আফগান পেস আক্রমণের অন্যতম প্রধান শক্তি ছিল। 

তিনি ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০১০, ২০১২ ও ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তান দলের সদস্য ছিলেন। এছাড়া আইসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগ, ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তার পারফরম্যান্স আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

 

▐ সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ