সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
পাওয়ার গ্রিডের পর্ষদ সভা ৮ নভেম্বর ডেসকোর পর্ষদ সভা ৫ নভেম্বর ডরিন পাওয়ারের পর্ষদ সভা ৫ নভেম্বর ৪ নভেম্বর নাহি অ্যালুমিনিয়ামের পর্ষদ সভা কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আবহাওয়ার আগাম বার্তা পাবেন কৃষকরা গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ভর্তুকি ৫০০ কোটি টাকা কমাতে চায় টিসিবি, লক্ষ্য আর্থিক স্বনির্ভরতা ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ - ফেঁসে গেলেন সিএমপি'র এসি শরীফুলসহ ৩ পুলিশ এইচএসসির ফলাফলে ৯ বোর্ডে ৮ম যশোর, - এবার যশোর বোর্ডে ইংরেজি ও আইসিটিতে ফেলের ধাক্কায় ফল বিপর্যয় চামড়া শিল্পের বিকাশে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২ হাজার কোটি টাকার স্কিমে মেঘনা ব্যাংক
advertisement
খেলাধুলা

এক মহাতারকার ইউরো অধ্যায়ের বিষণ্ন সমাপ্তি: অশ্রুসিক্ত বিদায় সিআরসেভেনের

এক মহাতারকার আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম শীর্ষ মঞ্চের বিষণ্ন সমাপ্তির সাক্ষী হয়ে থাকল ফুটবল বিশ্ব। নকআউট পর্বের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। একই সঙ্গে ভেঙে গেল সিআরসেভেনের আরও একটি আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়ের স্বপ্ন।

২০০৪ সালে শুরু হয়েছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মহানায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ইউরো অভিযান। দীর্ঘ দুই দশকের এই যাত্রায় রোনালদো শুধু পর্তুগালের অধিনায়কই ছিলেন না, হয়ে উঠেছিলেন দেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতীক। আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে ব্যক্তিগত রেকর্ডের কমতি নেই সিআরসেভেনের। ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনটি তাঁরই। ২০১৬ সালে পর্তুগালকে ইউরো এবং পরবর্তীতে উয়েফা নেশন্স লিগ জেতালেও, ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে এসে আরেকটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপার স্বাদ পাওয়া হলো না এই মহাতারকার।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পুরো বিশ্বকাপ ক্যারিয়াজুড়ে নকআউট ম্যাচে মাত্র একটি গোল করেছেন। সেটি এসেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। এরপর শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে এই হার।

ছয়টি বিশ্বকাপ খেলা রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোলদাতা হলেও, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার অবদান পরিসংখ্যানের বিচারে সীমিতই থেকে গেল। বিশ্বকাপে ১১ গোল করার পাশাপাশি শেষ বিশ্বকাপে তিন গোল করেও নকআউটে মাত্র একটি গোলের রেকর্ড নিয়েই বিশ্বকাপকে বিদায় জানালেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকা। 

স্পেনের বিপক্ষে এই ম্যাচে শুরু থেকেই ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা লড়াইয়ে গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। অতিরিক্ত সময়ে মিকেল মেরিনোর দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। আর সেই গোলই শেষ পর্যন্ত পর্তুগালের যাত্রার ইতি টেনে দেয়।

বয়স ৪১-এর কোঠায় ছুঁলেও সিআরসেভেনের মধ্যে কমেনি জয়ের ক্ষুধা। মাঠে তাঁর উপস্থিতি, নেতৃত্ব এবং লড়াইয়ের মানসিকতা এখনো সমর্থকদের অনুপ্রাণিত করে। তাই ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই বাঁধভাঙা কান্নায় ভেঙে পড়েন এই মহাতারকা। মাঠে সতীর্থরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও রোনালদোর চোখের জল যেন থামছিল না। তার এই কান্না ছুঁয়ে গিয়েছিল স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শকসহ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়কে। রোনালদো তো কাঁদলেনই, কিন্তু তার এই অশ্রুসিক্ত বিদায় কি কাঁদাল না পুরো ফুটবল বিশ্বকে?

অফিসিয়ালভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সম্পূর্ণ অবসরের ঘোষণা এখনো না দিলেও, ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে শেষ হয়ে গেল তাঁর দীর্ঘ দুই দশকের পথচলার এক স্মরণীয় অধ্যায়। গোল, রেকর্ড আর অসংখ্য অর্জনে ভরা ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে সিআরসেভেনের এই বিদায় ফুটবল ইতিহাসের এক আবেগঘন দলিল হয়ে থাকবে।

 

▐ সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ