নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে পয়েন্ট হারানোর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে স্পেন। সোমবার (১৫ জুন) আটালান্টায় অনুষ্ঠিত ‘গ্রুপ-এইচ’-এর প্রথম ম্যাচে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়েছে আফ্রিকার দেশটি।
ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের এই ম্যাচে বার্সেলোনা সুপারস্টার লামিন ইয়ামালকে ছাড়াই মূল একাদশ সাজাতে হয়েছিল। প্রায় দুই মাস ধরে ফিটনেস সমস্যায় ভুগতে থাকা ইয়ামালকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি স্প্যানিশ কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তে। সে কারণেই দ্বিতীয়ার্ধে তাকে বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয়। তবে কেপ ভার্দের জেদি রক্ষণভাগের সামনে ইয়ামালসহ স্পেনের পুরো আক্রমণভাগই ছিল আজ ব্যর্থ।
২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের পর বৈশ্বিক এই মঞ্চের নকআউট পর্বে এখনো কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি স্পেন। বল দখলে এগিয়ে থেকেও গোল করতে না পারার এই অক্ষমতা স্পেনকে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের হতাশাজনক বিদায়ের কথাই মনে করিয়ে দিল। অথচ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কোচ ডি লা ফুয়েন্তে দাবি করেছিলেন, এবারের আসরে স্পেন তাদের সেরা দল নিয়েই মাঠে নামছে। টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিটও ভাবা হচ্ছিল তাদের।
তবে আজকের ম্যাচের পর আরও একবার প্রমাণিত হলো যে, বিশ্বকাপে স্পেনের সফলতার জন্য ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের ছন্দে থাকা কতটা জরুরি। উইলিয়ামসও ইনজুরিতে ভুগছেন, যার কারণে ৮৭ মিনিট পর্যন্ত তাকে সাইডবেঞ্চেই বসে থাকতে হয়েছে।
এদিকে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দে এবারই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে এসেছে। আর প্রথম ম্যাচেই পরাশক্তি স্পেনকে রুখে দিয়ে মাত্র পাঁচ লাখ জনসংখ্যার এই দেশটি ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিল।
আটলান্টার অত্যাধুনিক শীততাপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামে খেলা হওয়ায় স্পেনের সামনে প্রচণ্ড গরমের অজুহাত দেওয়ারও কোনো সুযোগ ছিল না। উল্টো নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে না পারায় দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেকের সময় দর্শকদের দুয়োধ্বনি শুনতে হয়েছে স্প্যানিশ ফুটবলারদের।
বিরতির ছয় মিনিট আগে স্পেন প্রথম বিপজ্জনক আক্রমণ গড়ে তোলে। মার্ক কুকুরেলার ক্রসে ফেরান তোরেসের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা সেটি কোনোমতে রুখে দিলে ফিরতি বলে মিকেল ওয়ারজাবালের হেড বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এর ঠিক পরের মুহূর্তেই তোরেস আবারও ভোজিনহোকে পরীক্ষায় ফেলেন। কর্ণার থেকে আইমেরিক লাপোর্তের হেডও দুর্দান্ত দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন কেপ ভার্দে কিপার।
বিরতির পরও নিজেদের শক্তিশালী রক্ষণভাগ ধরে রাখে কেপ ভার্দে। ম্যাচের দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের সময় মাঠে নামেন আসরের অন্যতম বড় তারকা ইয়ামাল। মাঠে নেমেই নিজের ঝলক দেখান তিনি; তার চমৎকার এক অ্যাসিস্ট থেকে সুযোগ হাতছাড়া করেন আরেক বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনো। এরপর ওয়ারজাবালের একটি ডিফ্লেক্টেড শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ম্যাচের শেষ মিনিটে উল্টো কাউন্টার অ্যাটাক থেকে কেপ ভার্দের ডানি বোরজেস গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন, তবে স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সাইমন সে যাত্রা স্পেনকে রক্ষা করেন।
আগামী রোববার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্পেনের প্রতিপক্ষ সৌদি আরব। আর একই দিনে কেপ ভার্দে মুখোমুখি হবে উরুগুয়ের।