Home আর্কাইভ সমন্বয়হীনতায় থেমে আছে বীমা খাতের সংস্কার

সমন্বয়হীনতায় থেমে আছে বীমা খাতের সংস্কার

Beximco-Synthetic-Logo
Beximco-Pharma
Beximco-Synthetic-Logo
idra
Staff Reporter

Published: আগস্ট ১২, ২০১৭ ২০:৫৪:৩২
94
0

বীমা খাত সংস্কারের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৫২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালে। এর পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পটি অনুমোদনও হয়। এখন যেকোনো সময় অর্থছাড়ে প্রস্তুত বিশ্বব্যাংক। কিন্তু বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) প্রস্তুতি না থাকা এবং সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে সংস্থাটির সমন্বয়ের অভাবে অগ্রগতির মুখ দেখছে না প্রকল্পটি।

জানা যায়, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে মন্ত্রণালয়ের কাউকে বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তাতে আপত্তি জানায় আইডিআরএ। ২০১৬ সালে প্রকল্পটির পরিকল্পনাকারী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় আইডিআরএর সাবেক সদস্য সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লাকে। কিন্তু তার মেয়াদ শেষের পর এ প্রকল্প শুরুর বিষয়ে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইডিআরএর সাবেক সদস্য সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা বলেন, প্রকল্পটির অনুমোদন হয়েছে প্রায় ছয় মাস আগে। কিন্তু এখনো কোনো অগ্রগতি কেন নেই তা অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইডিআরএ ভালো বলতে পারবে। তিনি আরো বলেন, নিয়ম অনুযায়ী এ প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা আইডিআরএ। হয়তো কেউ কেউ এটা চায়নি। কিন্তু প্রথম থেকেই বীমা খাতের সংস্কার নিয়ে শক্ত অবস্থানে ছিল আইডিআরএ।

এদিকে আইডিআরএ প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা হলেও এ নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেই তাদের। বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণকারী এ সংস্থাটি নিজেই নানা সংকটে জর্জরিত। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা জানান, কিছুদিন আগে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অর্গানোগ্রাম পাস হয়েছে। কিন্তু এখনো সার্ভিস রুল অনুমোদন হয়নি। কর্মকর্তা নেই, সদস্য নেই। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিয়ে চলছে সংস্থাটি। কোরাম সংকটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছে না। দেখা যাক কবে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে গঠিত হয়। তারপর আসবে বীমা খাতের সংস্কারের বিষয়টি।

এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি আইডিআরএর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোকুল চাঁদ দাস। তবে চলতি সপ্তাহেই প্রকল্পটির জন্য মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী কিছু তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বীমা খাতের সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নেয়া প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত দুই বীমা করপোরেশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সেসঙ্গে সারা দেশে বীমাসেবার সম্প্রসারণ। বাংলাদেশ বীমা একাডেমির সক্ষমতা বৃদ্ধি ও মানোন্নয়ন এবং সাধারণ বীমা করপোরেশন ও জীবন বীমা করপোরেশন শক্তিশালীকরণও এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

কিন্তু এ নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ সংস্থার। এমনকি খাতটির সংস্কার নিয়ে আগ্রহী নন একাধিক শীর্ষ বীমা ব্যবসায়ীও। কারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বীমা কোম্পানিগুলোর যাবতীয় কার্যক্রম চলে আসবে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার নজরে। বীমা কোম্পানিগুলোতে অনিয়ম করে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতিও বন্ধ হবে। মূলত এসব কারণেই থেমে গেছে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে দেশের বীমা খাত সংস্কারের উদ্যোগ।

এ বিষয়ে সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসানুল বলেন, নিয়ন্ত্রণ সংস্থা নিজেই এখনো প্রস্তুত নয় এ প্রকল্পে গ্রহণে। তাদের লোকবল নেই। তাই শুধু শুধু বিদেশী ঋণ নিয়ে তারা কী করবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচিত আইডিআরএর সমস্যাগুলো সমাধান করা। শুধু আইডিআরএ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ই এ প্রকল্পের বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

যোগাযোগ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ও এসবিসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, দেশের বীমা খাত সাংঘাতিকভাবে উপেক্ষিত। বহু বছর থেকেই আমরা বলে আসছি, এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও দুই করপোরেশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। পাশাপাশি দরকার সুষ্ঠু নজরদারি ও সুশাসন। বিশ্বব্যাংক যদি ঋণ নিয়ে এগিয়ে আসে, আমি একে ইতিবাচকভাবেই দেখছি। সেসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার উচিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আইডিআরএর দূরত্ব বাড়ছে দিন দিন। নানা ঘটনায় তা স্পষ্টও হয়ে উঠেছে। প্রথমত. আইডিআরএ দীর্ঘদিন লোকবল সংকটে থাকলেও তা নিরসনে কোনো পদক্ষেপ নেই মন্ত্রণালয়ের। এছাড়া আইডিআরএর অভ্যন্তরীণ কাজেও হস্তক্ষেপ করেছে মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর অস্বাভাবিক ব্যয় তদন্তে নিরীক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই। এমনকি এ-সংশ্লিষ্ট নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া থেকেও বিরত থাকার নির্দেশনা এসেছে মন্ত্রণালয় থেকে। সবকিছু মিলে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে আইডিআরএ।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অরিজিত চৌধুরি বলেন, পরিকল্পনা কমিশন তাদের কিছু অবজারভেশন দিয়েছে প্রকল্পটি নিয়ে, যা পূরণ করার পরই প্রকল্পটি শুরু হবে। আর এ প্রকল্পের জন্য পৃথক লোকবল নিয়োগ হবে। আইডিআরএর লোকবল সংকটের কারণেই যে এটা পিছিয়েছে, এমনটা নয়।

 

অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

নিয়মিত সংবাদ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Logo
BSCCL-logo