Home আর্কাইভ শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবেন না ট্রেন্ডসেটের সাবেক চেয়ারম্যান

শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবেন না ট্রেন্ডসেটের সাবেক চেয়ারম্যান

SHARE
NGIC-Logo
Beximco-Pharma
Ibn-Sina-Logo
shahjibazar
Staff Reporter

Published: আগস্ট ১২, ২০১৭ ১৪:৪৪:২২
63
0

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের প্লেসমেন্ট শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবেন না ট্রেন্ডসেট সিকিউরিটিজের সাবেক চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার রাশেদ আহমেদ। ২০১২ সালে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) থেকে তার প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডসেট সিকিউরিটিজের সদস্যপদ বাজেয়াপ্ত করা হয়। সময়মতো গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ না করাসহ বেশ কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে সিএসই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়।

জানা গেছে, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৬০৮তম কমিশন সভায় খন্দকার রাশেদ আহমেদের হিসেবে রক্ষিত প্লেসমেন্ট শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া সভায় সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) তার হাতে থাকা শেয়ার লেনদেনে ডেবিট ট্রানজেকশন সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি। এ বিষয়ে কার্যবিবরণীর অপেক্ষা না করে এসআরআই বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে সিএসইর সদস্য ব্রোকারেজ হাউজ ট্রেন্ডসেট সিকিউরিটিজ লিমিটেডের সদস্যপদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সময়মতো গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ না করাসহ বেশ কিছু অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে ট্রেন্ডসেট সিকিউরিটিজ হাউজ থেকে বিনিয়োগকারীর ১০ লাখ শেয়ার উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনা তদন্ত কমিটি গঠন করে বিএসইসি।

জানা গেছে, ট্রেন্ডসেট সিকিউরিটিজ হাউজের এম কবিরুজ্জামান ইয়াকুব নামে এক বিনিয়োগকারীর বিও অ্যাকাউন্ট থেকে পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের ১০ লাখ শেয়ার উধাও হয়ে যায়। ট্রেন্ডসেট হাউজ থেকে কীভাবে শেয়ার উধাও হয়, তা সরেজমিন পরিদর্শন করে বিএসইসির তদন্ত কমিটি।

অন্যদিকে শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির নেপথ্যে খন্দকার রাশেদ আহমেদের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএসইসির তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স-১৯৬৯-এর ১৯ (ই) (৫) ধারা লঙ্ঘন করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কমিটি পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সুপারিশ করা হয়। ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করার বিধান না থাকায় এ মামলা করছে না বিএসইসি। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিএসইসি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মতামত চেয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ২০১৪ সালে তালিকাভুক্তির পর থেকেই আলোচনায় থাকা এ কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট শেয়ারদর কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই অস্বাভাবিকহারে বাড়ার কারণ অনুসন্ধান করতে তদন্ত কমিটি করে বিএসইসি। এজন্য উপপরিচালক ইউসুফ ভূঁইয়া ও সহকারী পরিচালক রাকিবুর রহমানকে নিয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ১১ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শাহজিবাজার পাওয়ারের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করার ঘোষণা দেয় ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ। বিএসইসির তদন্তে সহায়তা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে লেনদেন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ওই সময় দেখা যায় আগের ১৪ কার্যদিবসে শেয়ারটির দর বাড়ে ৫৪ দশমিক দুই টাকা বা ১৫৫ শতাংশ।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় ২১ আগস্ট বিএসইসির গঠিত কমিটি সময় বাড়ানোর আবেদন জানায়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন সময় বাড়িয়ে শাহজিবাজার পাওয়ারের প্রতিবেদন ২৫ আগস্ট দাখিলের নির্দেশ দেয়।

বেশ কয়েক দিন লেনদেন বন্ধ রাখার পরও শেয়ারটির দর অস্বাভাবিকহারে বাড়তে থাকায় গত বছরের ৯ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় কমিটি গঠন করে বিএসইসি। পরিচালক রেজাউল করিম ও শামসুর রহমানের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। সে প্রতিবেদন অনুযায়ী গোলাম মোস্তাফা ও নাসিমা আক্তার লতাকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্তদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে ইতিবাচক মতামত পেলে শিগগিরই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

আলোচিত এ কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়ার ধারাবাহিকতায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে শাহজিবাজার পাওয়ারের শেয়ার স্পট মার্কেটে লেনদেন করার নির্দেশ দেয় বিএসইসি। পাশাপাশি এ সিকিউরিটিজকে নন-মার্জিনেবল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যদিও তা পরে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির গঠিত তদন্ত কমিটি কোম্পানিটির শেয়ার দর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার পেছনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন ভঙ্গের প্রমাণ পেয়েছে। এরই অংশ হিসেবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বাংলাদেশ বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়; যা বিএসইসির ৫৩৩তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে শাহজিবাজার পাওয়ারের আর্থিক প্রতিবেদনে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের দায়ে কোম্পানির প্রত্যেক পরিচালককে ১০ লাখ টাকা করে এবং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি।

 

BD-Lamp-Logo
Phonix-logo-270