Home আর্কাইভ বিআইবিএমের গবেষণা : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মানছে না নতুন ব্যাংকগুলো

বিআইবিএমের গবেষণা : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মানছে না নতুন ব্যাংকগুলো

SHARE
SIBL-Logo
MBL-Logo
EBL-Logo-final
BIBM
Senior Staff Reporter (SM)

Published: আগস্ট ১১, ২০১৭ ১১:০৭:৪৮
113
0

২০১২ সালে ৯টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনুমোদন দেয় সরকার। শাখা স্থাপনে গ্রামীণ এলাকা অগ্রাধিকার ছাড়াও ব্যাংকগুলো পরিচালনায় নতুন কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে সেগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এছাড়া কৃষিক্ষেত্রে ঋণদান, করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সাধারণ নির্দেশনাও মানছে না ব্যাংকগুলো। এতে ব্যাংকগুলো আগামীতে ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা কর্মশালায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
 
গতকাল রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটরিয়ামে ‘অ্যান ইভালুয়েশন অব দ্য পারফরমেন্স অব নিউ কমার্শিয়াল ব্যাংকস’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী অধ্যাপক মো. সোহেল মোস্তফাসহ চারসদস্যের একটি দল। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে কয়েকটি ইতোমধ্যে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত হতে চেষ্টা করছে। কিন্তু অনুমোদন পাওয়ার চার বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কোনো ব্যাংক পুঁজিবাজারে আসার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এছাড়া ব্যাংকগুলোকে মোট ঋণের পাঁচ শতাংশ কৃষিক্ষেত্রে প্রদান করার কথা থাকলেও ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এ ঋণের পরিমাণ পাঁচ শতাংশের কম। ব্যাংকগুলোর কর-পরবর্তী মুনাফার ১০ শতাংশ সিএসআরে ব্যয়ের কথা থাকলেও এ নিয়ম মানছে না ব্যাংকগুলো। বেশিরভাগ নতুনব্যাংকই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমত সিএসআর খাতে ব্যয় করছে।
 
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১ অনুযায়ী ব্যাংক পরিচালকরা তাদের নিজ ব্যাংক থেকে কোনো ধরনের ঋণ নিতে পারবেন না। কিন্তু পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করছেন। এছাড়া ব্যাংকিং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ব্যাংক বাংলাদেশব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মূলত নতুন ব্যাংক অনুমোদনের ক্ষেত্রে সমষ্টিগত অর্থনীতির চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাবে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, দেশের আর্থসামাজিক দিক বিবেচনা করে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ানো এবং দেশের সব অঞ্চলে ব্যাংক নেটওয়ার্ক বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০১২ সালে নতুন ৯টি ব্যাংককে অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, নতুন অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকগুলো গ্রামাঞ্চলে শাখা স্থাপনে তেমন কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
 
তিনি আরও বলেন, নতুন ব্যাংকগুলোর মধ্যে দু-তিনটির অবস্থা খুবই নাজুক। তাদের মধ্যে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। এমন প্রতিযোগিতার কারণে তারা পিছিয়ে পড়ছে। নতুন ব্যাংকগুলোর অবস্থা দুর্বল, না ভালোÑসেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে যে ব্যাংকগুলোতে বড় ধরনের বিচ্যুতি দেখা দিয়েছে, তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তদারকি করা হচ্ছে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বাংলাদেশে এতগুলো ব্যাংকের প্রয়োজন আছে কি না, তা বিবেচনা করা দরকার। তবে নতুন ব্যাংকগুলো যেন নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে পারেÑসে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি বড় ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। নতুন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ এখনও অনেক কম। তাই এসব ব্যাংকের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। যেখানে ৬০ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে বেসিক ব্যাংক এখনও বাঁচার স্বপ্ন দেখছে, সেখানে এক শতাংশের কম খেলাপি ঋণ নিয়ে নতুন ব্যাংকগুলো টিকতে পারবে।
 
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের সংখ্যা আর না বাড়িয়ে নতুন শাখা বাড়ানোর দিকে মনোযোগী হওয়া উচিত। ভারতে ১২ হাজার মানুষের জন্য একটি ব্যাংক শাখা আছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি ১৪ হাজার মানুষের জন্য একটি ব্যাংক শাখাআছে। আমাদের আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য একটি ব্যাংক শাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।
 
বিআইবিএম মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, নতুন ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেশিরভাগেরই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর অধিক মাত্রায় নির্ভরশীল হওয়ার প্রবণতাআছে। তাদের এ চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ব্যাংকগুলো খারাপ করলে লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
 
এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মেহমুদ হুসাইন বলেন, পারফরমেন্স মূল্যায়নের জন্য চার বছর যথেষ্ট নয়। এ অল্প সময়ের পারফরম্যান্স দিয়েপুরোনো বা অন্য প্রজন্মের ব্যাংকের সঙ্গে নতুনদের তুলনা করলে হবে না।
 
পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, নতুন ব্যাংকগুলো ঋণ দেওয়ার বিষয়ে অনেক বেশি এগ্রেসিভ। এভাবে বাছবিচারহীনভাবে ঋণ দিলে বেকায়দায় পড়বে ব্যাংকগুলো।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলী চৌধুরী বলেন, নতুন ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ সদস্যরা ব্যাংকিং বোঝেন কম। আবার অনেক পরিচালক বেনামি ঋণ নিচ্ছেন। বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স আনার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাইসেন্স নিয়েছেন।
 
ঋণখেলাপিদের রাজনৈতিকভাবে বয়কটের দাবি জানিয়েছেন ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এবিবি) সাবেক সভাপতি ও মেঘনা ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আমিন। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ আমাদের এখন ভাগ্য হয়ে গেছে। এটার ক্ষেত্রে আমি মানুষের কালচারকে দোষ দেব। ঋণখেলাপি হওয়া এখন একটা কালচারে পরিণত হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কতগুলো নিউজ হলো; কিন্তু চার্জশিটের সময় তাদের নাম নেই। তাই ঋণখেলাপিদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বয়কট করতে হবে। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে বয়কট করতে হবে যেন তারা কোনো ব্যাংকের মেম্বার-চেয়ারম্যান না হতে পারেন। সূত্র: শেয়ার বিজ
Print Friendly, PDF & Email
BD-Lamp-Logo
Phonix-logo-270