Home আর্কাইভ মোস্তফা পেপার কমপ্লেক্স লিমিটেড : ব্যাংকঋণ ও শ্রমিকদের পাওনা রেখেই উৎপাদন বন্ধ...

মোস্তফা পেপার কমপ্লেক্স লিমিটেড : ব্যাংকঋণ ও শ্রমিকদের পাওনা রেখেই উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা

Beximco-Synthetic-Logo
Beximco-Pharma
Beximco-Synthetic-Logo
Paper
Senior Staff Reporter (SM)
কর্পোরেট সংবাদ ডেক্স
Published: আগস্ট ১১, ২০১৭ ১০:২৩:৩৫
232
0

সম্প্রতি উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে খেলাপি ঋণে জর্জরিত চট্টগ্রামের মোস্তফা গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান মোস্তফা পেপার কমপ্লেক্স লিমিটেড। এদিকে উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিলেও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করেনি মালিকপক্ষ। এমনই দাবি করছেন পেপার মিলের শ্রমিকরা। জবাবে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, উৎপাদন কমে যাওয়ায় যথাসময়ে কর্তৃপক্ষ বেতন দিতে পারছে না।
 
জানা যায়, মোস্তফা পেপার কমপ্লেক্স লিমিটেডের কাছে বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার পাওনার পরিমাণ ১৪৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এ ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটি এখন ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছে। পাওনা টাকা আদায়ে ব্যাংকের কাছে বন্ধকি ১২ একর জমি গত জুনে নিলামে তোলা হয়। কিন্তু কোনো আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান না থাকায় এ সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেনি ব্যাংক। অপরদিকে কাঁচামাল সংকটের কারণে গত দু’মাস প্রায় ৪০০ শ্রমিকের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে চলতি সপ্তাহ থেকে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রায় সময়ই মোস্তফা পেপার মিলের মালিকপক্ষ শ্রমিকদের বেতন-ভাতা আটকে রাখে। এ কারণে শ্রমিকদের পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়।
 
দুবছর আগে একইভাবে বেতন-ভাতা নিয়ে শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করলে শেষ পর্যন্ত তাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়। কিন্তু পরে আন্দোলনকারীদের মিল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা (প্রশাসন) জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘গত জানুয়ারি মাস থেকে কারখানায় কাঁচামাল সংকটের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আর উৎপাদন কমে যাওয়ায় যথাসময়ে কর্তৃপক্ষ বেতন দিতে পারছে না।’
 
মোস্তফা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যাংক এশিয়ার উদ্যোক্তা জহির উদ্দিন বলেন, ‘খেলাপি ঋণ কাটিয়ে ওঠার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি সুদ আরোপ স্থগিত করে দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি নতুনভাবেব্যবসা পরিচালনার জন্য সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে। এছাড়া ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুণগত মান, সঠিক ব্যবসায়ী যাচাই, এক খাতে একাধিক ব্যবসায়ীকে ঋণ না দেওয়া, কৃষি ও উৎপাদনমুখী খাতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রভৃতি বিষয়ে বিবেচনা করতে হবে।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘আমার গ্রুপের ঋণের বিপরীতে এ পর্যন্ত হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করলেও মূল ঋণের টাকা কমেনি। ব্যাংকগুলো সুদের ওপর সুদ গুনে যাচ্ছে।’ উল্লেখ্য, ৬৫ বছরের ব্যবসা পরিচালনা করায় অভিজ্ঞ সমৃদ্ধ এ গ্রুপটির আছে বিভিন্ন ধরনের তেল বিপণন, রি-রোলিং মিল, চা, পরিবহন, পেপার মিল, শিপিং লাইন্স, জাহাজ ভাঙা ব্যবসাসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা আছে। তবে গ্রুপটির কাছে বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণ ও সুদ বাবদ পাওনা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা। যার মধ্যে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা হচ্ছে ঋণের সুদ। বেশ কয়েক বছর ধরে গ্রুপটি সার্বিক ব্যবসা মন্দা থাকায় ঋণ ও সুদ পরিশোধে অনেকটা বেগ পোহাতে হচ্ছে। সূত্র: শেয়ার বিজ

অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

নিয়মিত সংবাদ পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Logo
BSCCL-logo