Home আর্কাইভ সুদ ব্যয় কমিয়ে মুনাফা প্রবৃদ্ধিতে রূপালী ব্যাংক

সুদ ব্যয় কমিয়ে মুনাফা প্রবৃদ্ধিতে রূপালী ব্যাংক

SHARE
NGIC-Logo
Beximco-Pharma
Ibn-Sina-Logo
rupali
Staff Reporter
ব্যাংক-বীমা
Published: আগস্ট ১০, ২০১৭ ২১:০৯:৫৯
203
0

খেলাপি ঋণ ও সঞ্চিতি বাড়লেও সুদ আয় বাড়ার পাশাপাশি আমানতের সুদ ব্যয় কমায় চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে মুনাফা প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক লিমিটেড। এ সময়ে ব্যাংকটির মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১১ শতাংশ বেড়েছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে মুনাফা প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২৩৩ শতাংশ।

রূপালী ব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. শওকত জাহান খান জানান, হিসাব বছরের প্রথমার্ধে আমরা আমানত ও ধারের বিপরীতে সুদ ব্যয় কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। ব্যাংকিং খাতে আমানতের সুদ হ্রাস এর অন্যতম একটি কারণ। ফলে গত বছর এ সময়ে নিট সুদ আয় ঋণাত্মক থাকলেও এবার ১৪৮ কোটি টাকা আয় হয়েছে। অবশ্য খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় এর বিপরীতে সঞ্চিতির পরিমাণও বেড়েছে। মূলত কস্ট অব ফান্ড নিয়ন্ত্রণের কারণেই এ সময়ে আমরা মুনাফা বাড়াতে সক্ষম হয়েছি।

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি থেকে জুন) রূপালী ব্যাংকের ঋণের বিপরীতে সুদ আয় হয়েছে ৭৯২ কোটি টাকা, যা ২০১৬ সালের একই সময়ে ছিল ৭৪১ কোটি টাকা। আর এ সময়ে আমানত ও ধারের সুদ বাবদ ব্যয় হয়েছে ৬৪৩ কোটি টাকা, যা গত বছরের প্রথমার্ধে ছিল ৭৯৫ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির সুদ ব্যয় কমেছে ১৯ শতাংশ।

গত বছরের প্রথমার্ধে নিট সুদ আয় ঋণাত্মক থাকলেও সুদ ব্যয় হ্রাসের প্রভাবে চলতি বছরের একই সময়ে তা ১৪৮ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এরপর বিনিয়োগ, কমিশন, এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ এবং অন্যান্য আয়— সব মিলিয়ে হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ৫৫৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এদিকে আগে খেলাপি ঋণের বিপরীতে মামলা থাকলে সেগুলোর বিপরীতে কোনো সঞ্চিতি রাখতে হতো না। তবে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার কারণে এসব ঋণের বিপরীতেও রূপালী ব্যাংককে সঞ্চিতি রাখতে হয়েছে। ফলে ২০১৭ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে সঞ্চিতির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৬৭৭ শতাংশ বেড়ে ১২৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

ফলে কর পরিশোধের পর জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির ২০ কোটি ১৭ লাখ টাকা নিট মুনাফা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা বেড়েছে ১১১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭৩ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৫ পয়সা।

তাছাড়া এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ২৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়ে ১৯৩ কোটি টাকা হয়েছে। আর কর পরিশোধের পর নিট মুনাফা দাঁড়ায় ৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এ সময়ে ইপিএস হয়েছে ৩১ পয়সা, যা আগে ছিল মাত্র ৯ পয়সা। উল্লেখ্য, ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৬ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে রূপালী ব্যাংক। বছর শেষে ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি লোকসান (ঋণাত্মক ইপিএস) হয় ৪ টাকা ৩৯ পয়সা, যেখানে আগের বছর ইপিএস ছিল ৮৬ পয়সা (বোনাস শেয়ার সমন্বয়ের পর)।

১৯৮৬ সালে শেয়ারবাজারে আসা রূপালী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৭০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩০৩ কোটি ৬৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভে আছে ৫৯৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ৩০ কোটি ৩৬ লাখ ৪২ হাজার ৬৯৩। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ৯০ দশমিক ১৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ২ দশমিক ৯৪ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ শেয়ার।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সর্বশেষ ৫৪ টাকা ৪০ পয়সায় রূপালী ব্যাংকের শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ৫৬ টাকা ৮০ পয়সা ও সর্বনিম্ন ২৪ টাকা ১০ পয়সা। হালনাগাদ অনিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে এ শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ৩৬ দশমিক ৫১।

 
BD-Lamp-Logo
Phonix-logo-270