Home আর্কাইভ বিএনপির নির্বাচনী কৌশলে ভাটা

বিএনপির নির্বাচনী কৌশলে ভাটা

বিএনপি
Staff Reporter

Published: 13:33:28
48
0

image_pdfimage_print
ডেস্ক রিপোর্ট: খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর বিএনপির নির্বাচনী কৌশলে ভাটা পড়েছে। এখন দলটির নেতারা সামনের সিটি নির্বাচনগুলো নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ছেন। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে পুরানো আশঙ্কাতো আছেই। কিন্তু জানা গেছে, এতোদিন আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার যে রাজনৈতিক কৌশল ছিল বিএনপির, তা থেকে এখন সরে আসার চিন্তা করছে দলীয় হাইকমান্ড। বরং নেতা-কর্মীদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতাসহ মধ্যম সারির কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে এমন মনোভাবের কথা জানা যায়।
বিএনপির নেতারা বলছেন, খুলনার নির্বাচন ছিল ওই শহরের মানুষের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা। কোনো দাঙ্গা-হাঙ্গামা না বাধিয়ে কেবল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রেখে এবং প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে ভোট নেয়ার এমন দৃশ্য এই শহরের মানুষ আগে দেখেনি। দলটির নেতারা বলছেন, ওই নির্বাচন (খুলনা সিটি করপোরেশ নির্বাচন) ছিল তাদের জন্য আই ওপেনার। তারাও সরকারের মনোভাব জানার চেষ্টায় ছিলেন। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাও নতুন করে জানলো বিএনপি ও দেশের জনগণ।
অবশ্য কোনো কোনো নেতা বলছেন, খুলনা সিটি নির্বাচনে সরকারি দলের মেয়র প্রার্থীকে পাস করানোর জন্য নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ-তিনটি পক্ষ যেভাবে একাকার হয়ে কাজ করেছে তাতে আগামীতে অন্যান্য সিটি এমনকি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সংসদ নির্বাচনেও না যাওয়ার একটা আবহ বিএনপিতে তৈরি হচ্ছে। এর ফলে এখন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবির পাশাপাশি দলটি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনেরও দাবিতেও আন্দোলনের বিকল্প পথ দেখছে না।
গত ১৫মে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল সমর্থক মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক তার প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির মেয়র প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলামকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। তবে নির্বাচনে কারচুপিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিএনপি এই ফলাফল প্রত্যাখান করেছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো বলেছেন, তাদের পর্যবেক্ষনাধীন কেন্দ্রের মধ্যে ৩০ শতাংশে অনিয়ম হয়েছে। অবশ্য বিএনপি শতাধিক কেন্দ্রের ভোট পুনর্গণনার দাবি তুলেছে। এই নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রও। তবে শাসক দলের নেতারা বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন ও দলীয় ঐক্যের কারণে তাদের প্রার্থী জয় পেয়েছেন। খুলনার মতো আগামী নির্বাচনেও জনগণ বিএনপিকে প্রত্যাখান করবে বলে তারা মন্তব্য করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা সিটি নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ শিবিরে স্বস্তি থাকলেও এটা নিয়ে বেশ চিন্তিত বিএনপি। সরকারের নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনীব্যবস্থা’ কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, দলটিই হাইকমান্ড এখন সে চিন্তায় মশগুল। দলের নেতারা বলছেন, নির্বাচনের কয়েকদিন আগে খুলনা সিটিতে পুলিশ সাড়াশি অভিযান চালায়। এই অভিযানে বিএনপির কয়েক’শ নেতা-কর্মী গ্রেফতার হলেও আওয়ামী লীগের কেউ গ্রেফতার হয়নি।
এতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। যার প্রভাব নির্বাচনের দিনেও দেখা গেছে। আবার বিএনপির পোলিং এজেন্টদের পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন। এতে ভীত হয়ে অনেকে ভোট কেন্দ্রে যাননি। জানা গেছে, বিএনপির নেতাদের একটি অংশ মনে করে যখন নির্বাচনের দিন বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল তখনই বিএনপির নির্বাচন বয়কট করা প্রয়োজন ছিল। এর আগে যেমনটা তারা করেছিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকার পর এখন ফলাফল প্রত্যাখানের যৌক্তিতা নিয়ে খোদ বিএনপিতে প্রশ্ন আছে। বরং শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থেকে অনিয়মের নির্বাচনে বৈধতা দেয়া হয়েছে বলে বিএনপির কোনো কোনো নেতা মনে করেন। জানা গেছে, নেতাদের এমন মনোভাবের প্রেক্ষাপটে গত ১৬ মে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গাজীপুরসহ আসন্ন সব সিটি নির্বাচনে পুলিশ নেতা-কর্র্মীদের গ্রেফতার করলে বা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করলে এবং পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিলে তৎক্ষনাৎ নির্বাচনের বয়কটের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খুলনার নির্বাচন ছিল আমাদের জন্য আই ওপেনার। আমরা এখন সব নির্বাচনে সরকারের কৌশলের পাল্টা কৌশল নেবো। তিনি বলেন, ভোটের দিন খুলনা সিটি নির্বাচন বয়কটের জন্য অনেকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা বর্তমান সরকারের অধীনে সিটি নির্বাচনে পুরো দিনের অনিয়ম জাতির সামনে তুলে ধরার জন্য ভোট বয়কট করিনি।

আমরা মনে করি, এতে সরকারের মুখোশ উন্মোচন হয়েছে। একই সাথে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনেরও মুখোশ আবার নতুন করে উন্মোচন হলো। এখন অন্যান্য সিটিতে খুলনার মতো আতঙ্কের পরিবেশ থাকলে আমরা নির্বাচনে যাবো কী না তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। অবশ্য বিএনপির চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা বলেন, খুলনার নির্বাচনে বয়কট না করে প্রকারান্তরে নির্বাচনকে বৈধতা দেয়া হয়েছে।

এতে আওয়ামী লীগ এখন বেশ খোশ মেজাজে আছে। তারা ওই নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনীব্যবস্থার কৌশল আসছে নির্বাচনে প্রয়োগ করবে। এর মোকাবিলায় বিএনপিকে সিটি নির্বাচনের ভোট বয়কট করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিসহ ইসির পুনর্গঠনের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের এখন কোনো নিশ্চয়তা নেই। সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে গণভবন থেকে। তাই জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্টায় আন্দোলনের বিকল্প নেই।

আরও পড়ুনঃ কুড়িগ্রামে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী প্রচারণা ও ইফতার দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

বাগেরহাট-৩ উপনির্বাচনে মনোনয়ন পাচ্ছেন খুলনার মেয়রপত্নী

Print Friendly, PDF & Email

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.