Home bd news কৃষি খাতে দ্রুত বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার

কৃষি খাতে দ্রুত বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার

IT
Senior Staff Reporter (SM)

Published: 16:58:36
53
0

image_pdfimage_print
তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক: দেশের কৃষি খাতে দ্রুত বাড়ছে বিভিন্ন প্রযুক্তিতে তৈরি করা আধুনিক মেশিনারি। জমি চাষ থেকে ফসল মাড়াই পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত মেশিনারি। যেমন পাওয়ার টিলার, পাওয়ার থ্রেসার, রিপার, কম্বাইন্ড হারভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্ল্যানার, সিডার ও ফুট পাম্প প্রযুক্তি। প্রথম দিকে অর্থাৎ ২০১০ সালে সরকারিভাবে দেশের ১০ জেলায় এসব আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমানে সারা দেশে চাহিদা বাড়ছে।
জানা যায়, কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তায় সংরক্ষণের সুবিধার পাশাপাশি অল্প সময়ে অধিক কাজ সম্পন্ন করার সক্ষমতা থাকায় কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যন্ত্রটি। যদিও শুরুতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার পরিচালনায় কৃষকের দক্ষতা না থাকায় ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-২৬ অর্থবছরে তারা যন্ত্রটি সংগ্রহ করতে আগ্রহ দেখাননি, কিন্তু পরবর্তী সময়ে কৃষক যন্ত্রটির কার্যকারিতায় সুফল পাওয়ায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭৮টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার সংগ্রহ করে এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকার সারা দেশে ৩৬৮টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার বিতরণ করে, যা আগের বছরের প্রায় পাঁচগুণ।
অন্যদিকে, ২০১৪-১৫ সালে রিপার ও সিডার বিতরণ না হলেও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রিপার বিতরণ হয়েছে ৩৪৮টি, সিডার বিতরণ করা হয় ১০২টি। পরবর্তী সময়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রিপার বিতরণ করা হয়েছে ৪৫২টি, যা বছরের ব্যবধানে বেশি বিতরণ হয়েছে ১০৪টি ও সিডার বিতরণ হয়েছে ৩৩৪টি, যা বছরের ব্যবধানে বেশি বিতরণ করা হয়েছে ২৩২টি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রিপার বিতরণ করা হয়েছে এক হাজার ৫৩৯টি, যা বছরের ব্যবধানে এক হাজার ৮৭টি বেশি বিতরণ করা হয়েছে। একই সময়ে সিডার বিতরণ করা হয়েছে এক জাহার ১৩৩টি, বছরের ব্যবধানে যার বিতরণ বেড়েছে ৭৯৯টি।
এগ্রিকালচার ইঞ্জিনিয়ার মো. শফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, ‘কৃষিবিপ্লব’ বেগবান করতে সরকারের নজর এখন প্রযুক্তির দিকে। কৃষি খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় জোর দেওয়া হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির ওপর। প্রযুক্তি সহজলভ্য করতে ৩০ শতাংশ হারে ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। এই হার ৫০ ভাগে উন্নীত করার চেষ্টা করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যন্ত্রাংশের ব্যবহারে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে। এখন কম জমিতে চাষাবাদ করে অনেক বেশি ফসল পাওয়া যাচ্ছে। আর এসব প্রযুক্তির বড় অংশই দেশে উদ্ভাবিত।
এ প্রসঙ্গে সাবেক কৃষি সচিব মো. আনোয়ার ফারুক বলেন, কিছু যন্ত্রপাতি দেশীয় আমদানিকারকদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হলেও বেশিরভাগই কৃষি গবেষণা কাউন্সিল থেকে উদ্ভাবন করা হয়েছে। সেগুলো বাজারজাত ও সহজলভ্য করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি ‘২য় পর্যায়’ প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে কৃষক পর্যায়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রদর্শনীর মাধ্যমে সেগুলো আরও জনপ্রিয় করার চেষ্টা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে যন্ত্র ক্রয়ে আগ্রহী কৃষক কিংবা কৃষক গ্রুপকে ৩০ শতাংশ হারে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১১ হাজার ৯১৮টি কৃষি যন্ত্রপাতির বিপরীতে এ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। যদিও বর্তমানে সরকার যা বাড়িয়ে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ করেছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বিনা মূল্যেও সরবরাহ করছে। সার্বিকভাবে কৃষিতে শ্রমিকসংকট ও উৎপাদন বাড়াতে যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই।
জানা গেছে, বেসরকারি পর্যায়ে দেশেও কিছু কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, যশোর, শেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাওয়ার টিলার, পাওয়ার রিপার, ইউনার, ইউডার (নিড়ানির যন্ত্র), ধান, গম ও ভুট্টা মাড়াই কল প্রভৃতি যন্ত্রাংশ তৈরি হয়ে থাকে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, বর্তমানে কৃষি উৎপাদনে খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে এক একর জমির ধান কাটতে কৃষকের খরচ হয় পাঁচ হাজার টাকা, কিন্তু যন্ত্রের মাধ্যমে কাটলে খরচ হবে মাত্র দেড় হাজার টাকা। তাই শ্রম ও মজুরি বাঁচাতে হলে ধান ও শস্য রোপণ, কাটা ও মাড়াই সবকিছু আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর করা গেলে শিক্ষিত মানুষও কৃষিকাজে এগিয়ে আসবেন।

তাদের মতে, বর্তমানে কৃষিকাজের বিভিন্ন পর্যায়ে আধুনিক উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতির বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহার করা হচ্ছে। উৎপাদন ক্ষেত্রে উন্নত বীজ, সার ও কীটনাশক ওষুধেরও ব্যবহার বেড়েছে। প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পর্যাপ্ত পানি সেচের ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির প্রয়োগ করা হচ্ছে। আধুনিক কৃষিশিক্ষার ব্যবস্থা, ভূমি সংরক্ষণ, ভূমিসম্পদ উন্নয়ন ও বিজ্ঞানসম্মত ভূমিস্বত্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হচ্ছে। শস্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। সূত্র: শেয়ার বিজ 

Print Friendly, PDF & Email

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.