Home কর্পোরেট সংবাদ ভুয়া প্রতিষ্ঠান শনাক্তে একসঙ্গে কাজ করবে এনবিআর, আরজেএসসি ও আইসিএবি

    ভুয়া প্রতিষ্ঠান শনাক্তে একসঙ্গে কাজ করবে এনবিআর, আরজেএসসি ও আইসিএবি

    ভুয়া প্রতিষ্ঠান শনাক্তে একসঙ্গে কাজ করবে এনবিআর, আরজেএসসি ও আইসিএবি
    Staff reporter (s)

    Published: 13:29:21
    38
    0

    image_pdfimage_print

    কর্পোরেট সংবাদ ডেস্কঃ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও যৌথ মূলধনি নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানে (আরজেএসসি) প্রতি বছর রিটার্ন জমা দেয়া অর্ধেকের বেশি কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন জাল হলেও তা সহজে শনাক্ত করার সুযোগ নেই। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি জবাবদিহিতার বাইরে থাকছে অনেক প্রতিষ্ঠান। ভুয়া আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করা এসব প্রতিষ্ঠানকে সহজে শনাক্ত করতে একসঙ্গে কাজ করবে এনবিআর, আরজেএসসি ও দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস বাংলাদেশ (আইসিএবি)। এ লক্ষ্যে একটি তথ্যভাণ্ডারও তৈরি করা হচ্ছে।

    গতকাল কারওয়ান বাজারের সিএ ভবনে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এসব কথা জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। ‘তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে জাল নিরীক্ষা প্রতিবেদন শনাক্তকরণ ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন যাচাই’ শীর্ষক দুদিনের এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করে আইসিএবি। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট দেওয়ান নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এনবিআরের সদস্য মো. লুত্ফর রহমান, ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএফএম আবদুল্লাহ খান ও আইসিএবির কাউন্সিল সদস্য হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিএবির কাউন্সিল সদস্য ও লংকাবাংলা গ্রুপের কোম্পানি সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল।

    এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ছাড়া অন্য ব্যবসায়ীরা কর ফাঁকি দেয়াকে ব্যবসায় লাভের অংশ মনে করেন। অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা দুটি আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করে কর ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করেন। তারা এনবিআরে এক ধরনের আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল করেন, আবার আরজেএসসিতে অন্য আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল করেন। সব প্রতিবেদন যাচাই করা কষ্টসাধ্য হওয়ায় ফাঁকিবাজদের সহজে ধরা যায় না। এক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে ভুয়া আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি বন্ধ হবে। এ বিষয়ে আমরা আরজেএসসি ও আইসিএবির সঙ্গে একযোগে কাজ করব।

    ব্যবসায়ীদের কর ফাঁকির প্রবণতা তুলে ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এলসির ঘোষণাপত্রে ভুল তথ্য, আমদানি-রফতানিতে কম অথবা বেশি চালান দেখিয়ে কর ফাঁকির মাধ্যমে প্রচুর অর্থ আয় করছে তারা। এটি অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা। আমাদের দেশে প্রচুর কালো টাকা রয়েছে।

    নিজ থেকে কর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় রাজস্ব আহরণ বাড়ানো জরুরি। আমাদের কর জিডিপির হার ৮-১০ শতাংশ। এ কারণে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য বিদেশ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হয়। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অন্যতম শর্ত হলো ঋণ নির্ভরশীলতা কমানো ও রাজস্ব আহরণ বাড়ানো। কর প্রদানকে একটি পবিত্র দায়িত্ব ভেবে ব্যবসায়ীদের কর দিতে হবে।

    মূল প্রবন্ধে মোস্তফা কামাল বলেন, আরজেএসসিতে নিবন্ধিত অনেক প্রতিষ্ঠানের জমা দেয়া অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অনেকেই কোনো অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে না। আবার ভুয়া অডিট রিপোর্টও জমা দেয়া হয়। এমনও দেখা গেছে, অনেক আগে বন্ধ হওয়া সিএ ফার্মের প্যাডে অডিট রিপোর্ট জমা দেয়া হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেয়ার জন্য ভুয়া অডিট রিপোর্ট জমা দেয়া হয়। এভাবে অনেক অসৎ কোম্পানি বড় অংকের ঋণ নিয়ে গেছে। এটি দেশের উন্নয়নের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের দুষ্কৃতিকারীদের দৌরাত্ম্য থামাতে আইসিএবির ওয়েবসাইটে একটি নতুন সিস্টেম চালু করা হয়েছে। ভুয়া প্রতিবেদন বন্ধে একটি তথ্যভাণ্ডার করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে কোম্পানির নাম লিখলেই নিরীক্ষকের নাম চলে আসবে। ভুয়া প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে যা আসবে না। ফলে তাদের সহজে শনাক্ত করা যাবে। এ টাস্কফোর্সে আরজেএসসি, এনবিআর ও আইসিএবি যৌথভাবে কাজ করবে।

    স্বাগত বক্তব্যে দেওয়ান নূরুল ইসলাম বলেন, আরজেএসসি ও এনবিআরে প্রতি বছর যে পরিমাণ অডিট রিপোর্ট জমা পড়ে, তার সঙ্গে আইসিএবির সদস্যদের তথ্যের বড় ব্যবধান আছে। আমাদের ধারণা, এগুলো প্রকৃত অডিট রিপোর্ট নয়। এ বিষয়ে এনবিআর ও আইসিএবি একসঙ্গে কাজ করতে পারলে সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়বে। এতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

    এএফএম আব্দুল্লাহ খান বলেন, সীমিত জনবল নিয়েই ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর রেভিনিউ গার্ড হিসেবে কাজ করছে। চলতি অর্থবছরে পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠান অডিট করার লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ২০০ প্রতিষ্ঠানের অডিট শেষ হয়েছে। এতে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্য থেকে ৫০ কোটি টাকা আদায় হয়েছে।

    মো. লুত্ফর রহমান বলেন, ভ্যাট কার্যক্রমে চেইনওয়ার্ক রক্ষা করলে রাজস্ব আহরণ বাড়বে। আইসিএবির সহায়তায় জাল আর্থিক প্রতিবেদন শনাক্ত করতে পারলে রাজস্ব ফাঁকি কমে যাবে।

    আরও পড়তে পরেনঃ 

    বড় লক্ষ্য অর্জনে মানুষকে কষ্ট দেয়া হবে না: মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া

    Print Friendly, PDF & Email